 |
টাঙ্গাইল: বাবা আব্দুস সাত্তার মারা গেছেন প্রায় ৫ বছর আগে। মা রোকেয়া বেগম গৃহিণী। সংসারে নেই কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের ৪ সন্তানের সবাই প্রতিবন্ধী।
তবে, এদের কেউ এখনও প্রতিবন্ধী ভাতা পাননি।
টাঙ্গাইলে মির্জাপুর উপজেলার চিতেশ্বরী পশ্চিমপাড়ার রোকেয়া বেগমের তাই দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। তারপরও অভাব-অনটনের মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়া ঠিক রেখেছেন।
প্রতিবন্ধী শামসুন্নাহার এ বছর মির্জাপুরের রাজাবাড়ি কলেজে থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।
রাকিবুল তৃতীয় ও মেয়ে রূপা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। সাব্বির এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাংলানিউজকে জানান, তাদের প্রথম সন্তান শামসুন্নাহার ছোটবেলা থেকেই প্রতিবন্ধী। ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। সাড়ে ৩ বছর বয়সে এ সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসক দেখিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
এরপর রাকিবুল (১২), রূপা (৯) ও সাব্বিরের (৬) জন্মের পরও একই অবস্থা। এরাও হাঁটতে পারে না। এর মধ্যে রূপা কিছুটা ভালো।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোকেয়া বেগম বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবন্ধী ৪ সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। শুনেছি, সরকার ভাতা দেয়। কিন্তু, আমার সন্তানদের ভাতা দেওয়া হয়নি। টাকার অভাবে সন্তানদের চিকিৎসা ও ঠিকমতো লেখাপড়া করাতে পারছি না।
প্রতিবন্ধী শামসুন্নাহার বাংলানিউজকে জানান, মায়ের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে রাজাবাড়ি কলেজে গিয়ে লেখাপড়া করেছি। কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও সহযোগিতা করেছেন।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলে, কেউ সহযোগিতা করলে আমি দাঁড়াতে পারি। তবে হাঁটতে পারি না।
মির্জাপুর উপজেলার চিতেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইয়াকুব আলী বাংলানিউজকে জানান, রাকিবুল দাঁড়াতে পারে না বলেই ক্লাসে বসে লেখাপড়া করে।
একই পরিবারে ৪ প্রতিবন্ধীর ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক সিকদার বাংলানিউজকে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১১ ঘণ্টা, আগস্ট ০৫, ২০১২
সম্পাদনা: ফরহাদ খান, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর