ঢাকা: বিশ্বমন্দা, তৈরী পোশাক শিল্পের ওপর এককভাবে নির্ভরশীলতা ও সাম্প্রতিক সময়ে গার্মেন্টস কারখানায় সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষের ফলে চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের রপ্তানিতে ভাটা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে চলতি বছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।
চলতি অর্থবছরের জন্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে অর্থবছরের ১১ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মে পর্যন্ত মোট রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কম।
আর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জুনে রপ্তানি হওয়া দরকার ৪৫২ কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
গত ১১ মাসে রপ্তানি আয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ১৯৯ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রপ্তানি হয়েছে। সে হিসেবে অর্থবছরের গড় রপ্তানির তুলনায় ২৫২ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার অতিরিক্ত রপ্তানি করতে হবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে।
আর গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১০-১১ অর্থবছরে গড়ে ১৯১ কোটি ৬ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার গড়ে মোট রপ্তানি হয় ২ হাজার ২৯২ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।
এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর দেওয়া তথ্যমতে, অর্থবছরের মে মাসের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, ২৪৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু মে মাসের প্রকৃত রপ্তানি আয় ২১৯ কোটি ৯৪ কোটি ২০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০১০-১১ অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার বা ৪.১৭ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ২৯টি পণ্যের রপ্তানি পূর্ববর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় কমেছে।
যেসব পণ্যের পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় নেতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে তার মধ্যে রয়েছে- পাট ও পাটজাতদ্রব্য, বিশেষায়িত টেক্সটাইলপণ্য, সিরামিকপণ্য, রাসায়নিক সার, রাবার, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, হিমায়ীত খাদ্য, তামাক, সিমেন্ট, লবন, পাথর, মূদ্রণসামগ্রী, সিল্ক, শুতা ও শুতার তৈরী পণ্য, আয়রণ সিট প্রভৃতি।
এদিকে পোশাক খাতে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ ও ইউরোপীয় অঞ্চলে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার ফলে এ খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সময় পূর্বাভাস দিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
এছাড়া দেশের আরেকটি ব্যবসায়ী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিই) পক্ষ থেকেও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না মর্মে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরাও।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জুনে প্রয়োজন ৪ হাজার ৫২৩ মার্কিন ডলার রপ্তানি করা, তা সম্ভব কি-না জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব না।’
লক্ষ্যমাত্রা পুরণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কী কী কারণ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এর অন্যতম কারণ। এছাড়া আমাদের দেশের গার্মেন্টস সেক্টরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যাও এরজন্য আরেকটি কারণ।’
আগামী অর্থবছরে এ থেকে বেড়িয়ে আসতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, এ বিষয়ে আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদেরকে শুধু গার্মেন্টসে নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের আরো পণ্য রয়েছে- ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক ও পাটজাতপণ্য এগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি আমাদের নতুন নতুন বাজার খুঁজতে হবে। তা হতে পারে ল্যাটিন আমেরিক, ইস্টার্ন ইউরোপ, রাশিয়া ও পার্শবর্তী দেশগুলো।
বাংলাদেশ সময়: ০৩২৮ ঘণ্টা, জুন ২৩, ২০১২
এইচএমএম/সম্পদনা : নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর