 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: জামায়াতের শীর্ষ নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর চট্টগ্রামে সংঘর্ষসহ ব্যাপক তাণ্ডব শুরু করেছে জামায়াত-শিবির।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর অলংকার মোড়ে পুলিশ ও জামায়ত-শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে এক জন নিহত হয়েছেন। নিহত ইমরান খান রাজিব চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট‘র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
সে পাবনা জেলার রাঘাছড়ি এলাকার বাবুল খানের সন্তান। নগরীর আগ্রাবাদ ছোটপুল এলাকার ব্রিকফিল্ড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো। ইমরানের ছোট ভাই সজিব বাংলানিউজকে জানান তার ভাই ইসলামি ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “দুপুর সোয়া ১টার দিকে অলংকার মোড়ে হঠাৎ হরতাল সমর্থনকারীরা একটি মিছিল বের করে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। তাদের বাধা দিতে চাইলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় তারা। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে একজন মারা যায়।”
সংঘর্ষের ঘটনায় পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফসহ ১২ জন পুলিশ আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ডিসি হাবিবুর রহমান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সোয়া ১টার দিকে আকস্মিকভাবে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি তিন ভাগ হয়ে তিনটি সংযোগ সড়ক ধরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অলংকার মোড়ে এসে জড়ো হয়। এসময় মিছিল থেকে অংলকার মোড়ের পুলিশ বক্সে ‘প্যারাশুট রকেট ফ্লায়ার’ নিক্ষেপ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা।
পুলিশ বক্সে ত্রিমুখী হামলা শুরু করলে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এরপর মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হলে পুলিশ পাল্টা গুলিবর্ষণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন পুলিশ বাংলানিউজকে বলেন, “জামায়াত-শিবির কর্মীরা অলংকার এলাকায় হালিশহর ডিটি রোড, এক্সসেস রোড ও ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের একে খান গেট রোড হয়ে তিনটি মিছিল অলংকার মোড়ে এসে জড়ো হয়। এরপর অতর্কিতভাবেই পুলিশ বক্সে ‘প্যারাশুট রকেট ল্যান্সার’ নিক্ষেপ করে এবং পুলিশ বক্সের সামনে রাখা একটি পিক-আপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তারা আরও জানান, এরপর পুলিশ পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর এক পর্যায়ে গুলিতে একজন গুরুতর আহত হন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফসহ ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান হাবিবুর রহমান।
তিনি আরও জানান, জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে অন্তত ২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এছাড়া তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের বেশ কয়েকটি গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া বিস্ফোরিত বেশ কয়েকটি ‘প্যারাশুট রকেট ফ্লায়ার’-এর খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার পর অলংকার মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ৠাব মোতায়েন করা হয়। আনা হয় সাজোয়া যান। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পরে অলংকার মোড়ের আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮জনকে আটক করে পুলিশ।
বাংলাদেশ সময়: ১৩ ৫৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৩
এমবিএম/এসজি/এমইউ/আরডিজি/টিসি সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর/জেডএম