 |
অনুলেহ
একটা বিড়াল কার্নিশে আটকা পড়ে আছে
দিন কয়েক
লাফ দিয়ে সে চলে যেতে পারে পাশের ছাদে
যেখানে রোজ চুল শুকোয়
গোলাপি রঙের মেয়েটি
অথচ সাদা কালোয় মেশানো মায়া মায়া চোখের
বিড়াল সেখানেই শুয়ে বসে একটানা মিউমিউ
ডেকে যায় কেবল আমার শরীর যা নোংরা হয়
নিয়মিত বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ
বিড়ালটিকে দেখার জন্যে ছলচোখে দেখে নেয়
আরও কিছু খুব মায়া লেগে যায়
মাছের কাঁটা জড়ো করে বিস্কুটও দেয়া হয় ওকে
আমিই দেই আমার খেয়ালি হৃদয় জেনে যায় নিয়মকানুন
কাল দুপুর থেকে আর ওকে দেখা যায়নি
ডাকেনি বিড়ালটি
কাল দুপুর থেকে আজ এই বিদেহী সন্ধ্যা অব্দি
মড়ার মতো ঘুমিয়েছি আমি
সন্ধ্যায় হাঁটতে বেড়িয়ে শুনলাম
পাশের ছাদে লাফ দিতে গিয়ে
নিচে পড়ে মরে গেছে
মায়াবী চোখের বিড়াল।
ধৃত জোনাক
১.
মৃত্যু ছাড়া যেন আর কিছুই
নেই ভাগ্যে। এই অসংখ্য রোদনে
সমস্বরে চিৎকার করছে হৃদয়।
চোখ থেকে জলের প্রপাত
চক্রে ঘূর্ণে ব্যাধির কাছে দিচ্ছে সিজদা,
তুমি কি পারবে পরাতে সিঁথিতে
নির্বাণ? সিঁদুরের মতো জ্যোৎস্নাপ্লাবন?
লুম্বিনীর জলে ধোয়াবে কি শরীর?
হে সন্ধ্যা! এই বন্ধ্যা সময়কে করো হত্যা।
শ্বাসরোধ করো অতীতের। যৌন এই সময়ে
দাও অযৌন ভালোবাসা। আকুতির পারদে
আমাকে তোলো কালপুরুষের গ্রীবায়। আমি
দেখি জগত কোনদিকে ঘুরলো এই বেলা?
আমাকে টিকতে দাও। আমাকে জন্ম দাও।
আমাকে বাঁধো শাড়িতে-শরীরে, সমুখে
দুহাত সম্প্রসারি করো আলিঙ্গন
ওষ্ঠে চিবুকে নিপাট। হে ব্রহ্মা!
হে তাপিত আলেয়া, হে নিরুদ্দেশ!
হে শৈবাল! আমাকে জড়াও সরসিত দুর্বায়!
আমাকে লহো অন্ধকারে, অন্ধকারকে
লহো আমাতে। আমাকে খুন করো তোমার
নখরে। আজ এই বিষণ্ণ সকাল, মুখ গুঁজে
মরুক তোমার তক্তপোষে। হে অরণ্যা, হে ভৃগু!
২.
তোমার দিকে অবসন্ন হচ্ছে
আমার হৃদয়, ভাণ্ডে আর
কোনো কুসুম ভাসছে, একথা
তুমি কি জেনেছো মর্মে মর্মে?
নিভৃত শরীর জানে কি সেই
কথা, যখন আমি দাঁড়িয়ে
ছিলাম তোমার শেমিজের
অপেক্ষায়, তখন তুমি ঘুণ
ছড়ালে বিষণ্ণ ইশারায়। সেই
দিন থেকে লোপাট এই রাজ্য।
সেইদিন থেকে ভাবনারহিত এই
ব্যাপক উতাল মায়াবী তিয়াশা,
কাঁদে নবান্নের জলনাড়ানো পদ্মের
দুপাশে। দুই পাশ তার চিতার মতো,
মথুরা ভ্রমণে দুই চোখ অবিশ্রান্ত,
খেজুর গাছের মতো ভেসে আছে
ইরির দুধারে। তুমি রহস্য গড়ো?
যদি বলো হাঁ- তবে ভর্ৎসনা পাবে
যদি বলো না- তবে চলে যাও
চিতায়। সহোদরার মতো তুমি
আমাকে ধরো, বলো পাপে অপাপে-
লিখো আগন্তুক কুহেলি বর্ষণে-
শাড়ি, চুড়ি, টিপ.....আর ভগবান।
৩.
বিশাল এক মাঠ, তার ঘাসগুলো
মোমের মতো মাটির চামড়ায় লেগে
ঘনিয়ে আসছে হিংস্র প্রখর প্রহরের
বেশ ধরে। নিপাট এক চারু নারী
আমাকে করেছে জিজ্ঞেস- কেনো
আমি আকাশ বানাই? যেখানে
পৃথিবী নগ্ন, সেখানে উপাখ্যানে
কার নাম লিখি আগে? বা আমি
কি ভালোবাসি রহস্যের নোনা? এসব
প্রশ্ন কাষ্ঠে অলংকারে পাতার সিন্দুকে
ভরে রেখেছে রাজহাঁস, যার নাই
পালক কোনো। শিল্প আর বিজ্ঞান
এই দুইয়ের প্রভেদ জানো? চিতা বলে
জানি, মিতা বলে জানলেই-বা কি?
সাঁকো আছে জল আছে- গ্রামের
ভেতর আছে সরিষা সুবাস, যেমন
আগুনের ভেতর আছে লাভার হুতাশ।
কাঞ্চন এই জঙ্ঘায়- আমার কাম
উথলে উঠছে। বা তুমি যে ব্যাখ্যা
চেয়েছো তার দিকে চেয়ে দেখি, সে
প্রেরণায় রতা। ধ্যানই তার ভাবলেশ।
কোথাও কোনো নাই রেশ। ময়ূরতাল এক
করেছি সৃজন, কেবল লাতিন
এক ময়ূরাক্ষীর লোভে।
৪.
সে যদি চাইতো
আমাকে শোনাতে পারতো
জলের নিনাদ, যাতে
আমার মন ভালো হতে পারতো
বাঁশঝাড়ের মতো কানাকানি ক`রে
উঠতে পারতো। অথচ সে নিশ্চুপ।
তার অর্থহীন শাড়ি খুলে পড়ে
যাচ্ছে, এবং আমি আর কাউকেই
শুনতে পাচ্ছি না। এই খড়ের ভিতর
এই চাঁদের ভিতর যা কিছু ঘর
হয়েছে তৈয়ার, তার বেদনাভুক্ত হয়েছে
উদ্বেল মন। পল্বলে আর কোনো
রাজহাঁস যেন না নামে। মৃতের মতো
শরীর নিয়ে শুয়ে আছি বিহান তন
ঘাসের মেঝেতে ছড়িয়ে আছে
পাতার স্তন। শিরায় এক ফালি
মেঘ- বাতাসে রেণুর ঘা,
ঘায়ের বাতাবি বন। তুমি কি
উপেক্ষা করো? তবে শাল্মলী বৃক্ষের
নিচে দাঁড়িয়ে অভিশাপ দিলাম-
তোমার খুনে এই চৈত্রের শেষ
রাত্তিরে ফুঁসে উঠূক দরাজ সময়।
তুমি এক মৃতা পাপড়ির মতো,
তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে আছে
আমার ঘৃণা।
৫.
চৈত্র! উন্মথিত চৈত্র!
তুমি বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছো
আর ঝড়ে নির্ঝরে তুমি
দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছো পাতাল
মৃত্যুর মতো নস্যি তোমার
নিয়ে আসার কথা ছিলো
যেহেতু সে জিগেশ করেছে
স্বপ্নে তাকে আমি দেখেছি
কেনো? বা সে কেনো সবুজাভ
ছিলো? তাকে বলে দাও আমি
বার্থের সাথে কথা বলতে
বলতে ঘুমিয়েছিলাম। তাকে
বলে দাও আমি এক নগ্নিকা
নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম। এবং
কবিদের মর্মমূলে কী ক`রে শব্দ
তার বিবস্ত্র লালা গিলে
খায় চুম্বনে নির্নিমিষে। বলো
যে যুক্তির দাস যে পাতা
তার ভেতর যে নক্ষত্রের অভাব
তা বিদ্ধ করছে সবুজকে
আর সে স্বপ্ন থেকে বিতাড়িত
হবার জন্যে কাঁদছে? তাকে
বলে দাও কান্না মানে
বিবমিষা, চোখ সেখানে ব্রহ্মকণ্ঠ।
বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, ০৯ জুলাই, ২০১২