 |
ঢাকা: জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ইকুয়েডরের কঠোর সমালোচনা করেছে ব্রিটেন ও সুইডেন। বৃহস্পতিবার ইকুয়েডর অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে।
বিশ্বের সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গত জুন মাসে লন্ডনস্থ ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেন। যৌন হয়রানির অভিযোগে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে সুইডেনে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেন তিনি।
অ্যাসাঞ্জের আশংকা সুইডেনে ফেরত পাঠানো হলে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার গোপন রাষ্ট্রীয় তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে ফাঁস করার অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়ারও অঙ্গীকার করে তারা।
এদিকে ইকুয়েডরে আশ্রয় পেলেও তাকে ব্রিটেনের বাইরে যেতে দেওয়ার জন্য কোনো নিরাপদ পথের ব্যবস্থা করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন,“অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটেনের বাইরে যেতে দেওয়ার পথ করে দেওয়ার জন্য ব্রিটেনের কোনো আইনী বাধ্যবাধকতা নেই।
ইকুয়েডরের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত বিবৃতিতে হেগ বলেন, “সুইডেনে অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পন করার ব্যাপারে যুক্তরাজ্য আইনগতভাবে বাধ্য।”
তবে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্ডো পাতিনো বলেন,“ আমরা বিশ্বাস করি তার (অ্যাসাঞ্জের) ভীতি যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত”।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্যের উচিৎ ইকুয়েডরের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অ্যাসাঞ্জকে নিরাপদে ব্রিটেন থেকে বের হবার সুযোগ না দিলে তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিকল্প পথের ব্যবস্থা নেবেন।
অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডরে আশ্রয় দেবার স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন সুইডেনে পাঠানো হলে অ্যাসাঞ্জের মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
তবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সমাধানে আসা সম্ভব হবে বলেও তিনি এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনের অভিযোগ, তিনি সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম সফরের সময় দুই সুইডিশ নারীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ সংঘটিত করেছেন। যদিও অ্যাসাঞ্জ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটনাই তিনি ঘটাননি। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনাতেই সুইডেন তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আরোপ করেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উইকিলিকস ওয়েবসাইট অসংখ্য কূটনৈতিক দলিল প্রকাশ করে দেয়। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি দেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে, তবে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রই অপদস্থ হয় সবচেয়ে বেশি। তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে অ্যাসাঞ্জ একজন মোস্ট ওয়ানটেড ব্যক্তি।
এদিকে ইকুয়েডরের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অ্যাসাঞ্জ বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক বিজয়। আমাদের সংগ্রাম মাত্র শুরু হলো।” পাশাপাশি তিনি উইকিলিকসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন তদন্ত বন্ধ করারও দাবি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর