 |
ঢাকা : জাতীয় সংসদের চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের প্রতি গেজেট নোটিফিকেশনের জন্য আবারো আবেদন করেছেন এহসানুল হক মিলন।
বিএনপির এ সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সোমবার নির্বাচন কমিশনে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করে এ আবেদন করেন।
এরপর সিইসির কক্ষ থেকে বের হয়ে মিলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় সংসদের চাঁদপুর -১ আসনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত হিসেবে আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট নোটিফিকেশনের জন্য সিইসির কাছে আবেদন জমা দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে যদি ইসি এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তা হলে আদালতের দ্বারস্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আবার আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করা ছাড়াও ইসির বিকল্প নেই।’
তিনি এ সময় এ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের দায়িত্বে থাকাকে বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন চাঁদপুরের রিটার্নিং অফিসার।
এ বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন ড. আলমগীর। নির্বাচন কমিশনও রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বহাল রাখেন।
এরপর তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্টও রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বহাল রাখেন।
অবশেষে চেম্বার জজের আদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন ড. আলমগীর এবং মিলনের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে যাই এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত ড. আলমগীরের সংসদ সদস্য পদ বাতিল ঘোষণা করেন।’
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল, গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জনস্বার্থে তা প্রচার করা।’
এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃত ত্রæটির আশ্রয় নিয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বাংলানিউজকে মিলন বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের এখতিয়ার কেবল নির্বাচন কমিশন সচিবের। তাও আবার লিখতে হবে নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে কথাটিও।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু নির্বাচন কমিশন যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেখানে সচিবের স্বাক্ষর না দিয়ে যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষর দেওয়া হয়। অধিকন্তু কমিশনের আদেশক্রমে কথাটিও লেখা হয়নি। আর এ সুযোগটি গ্রহণ করেছেন ড. ম খা আলমগীর।’
মিলন বলেন, ‘ড. আলমগীর যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষর করা এ প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। এ রিটের ভিত্তিতে ওই প্রজ্ঞাপন ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। কিন্তু এর অনেক বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও ইসির গাফিলতির কারণে ড. আলমগীর এ স্থগিতাদেশের বলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রেখে চলেছেন।’
‘সুতরাং বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় আমি ২য় দফায় ইসিকে চিঠি দিচ্ছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাকে চাঁদপুর-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা করা হোক।’
মিলন বলেন, ‘সিইসি আমাকে বলেছেন, ইসির লিগ্যাল অ্যাডভাইজারদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।’
বাংলাদেশ সময় : ১৭৫৯ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০১২
আরএম/সম্পাদনা : অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর