ঢাকা: গ্রামীণফোনে চলমান কর্মী ছাঁটাই বন্ধ করাসহ চার দফার আন্দোলনে যাচ্ছে নবগঠিত গ্রামীণফোন (জিপি) এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
জিপি এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনে অন্য দাবিগুলো হচ্ছে: বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করে ন্যায্য ও যৌক্তিকহারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করা, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের যথাবিহিত সম্মানপ্রদর্শনপূর্বক যথাযথ সামাজিক/আর্থিক/মানসিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং কোম্পানির কাছে ন্যায্য পাওনা বাবদ ৫ শতাংশ মুনাফা লভ্যাংশ বকেয়াসহ প্রদান করা।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে নবগঠিত গ্রামীণফোন (জিপি) এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন সভা করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুক। সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাসুলুল আমিন মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ শফিকুর রহমান মাসুদসহ ৬০০ শতাধিক কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, এরই মধ্যে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যা আরো বাড়বে। উল্লেখ্য, গ্রামীণফোনে ৪ হাজার ৮০০ জন কর্মী রয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, শুক্রবারের সভার মাধ্যমে দাবিসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলো। এখন তা বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তারা চেয়ে আছেন। অবিলম্বে তাদের এই দাবিসমূহ মানা না হলে তারা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এই কর্মসূচি দেওয়া হবে দাবি আদায়ের জন্য।
এর আগে গ্রামীণফোনের কর্মীরা দাবিসমূহ তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করেন। লিফলেটে তারা কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ ও বর্বর বলে উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছাঁটাইকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধ করাসহ ৪ দফা দাবি আদায়ে লিফলেট বিতরণ করেন। শুধু তাই নয়, কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মতো বেআইনি কার্যক্রমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান তারা।
ব্যয় সংকোচনের কথা বলে দেশের বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ছাঁটাই শুরু করে। এর অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ কর্মীদের চাকরিচ্যুৎ করছে। এর অন্যতম টার্গেট পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীরা। বিশেষ করে যারা অন্তঃসত্ত্বা কিংবা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ।
বাংলানিউজের এক অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ‘কথিত চাকরি রক্ষার পরীক্ষা’ নামেই গ্রামীণফোন কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মূলত টরে জনসেন ২০১১ সালের মার্চে গ্রামীণফোনের নতুন সিইও হয়ে আসার পর থেকেই কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। টরে জনসেনের ব্যয় সংকোচনের জন্য বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এর আগে তিনি যখন মালয়েশিয়াতে ছিলেন তখনও তাকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়। জনসেন মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের তার ঘনিষ্ট দু’একজনকেও গ্রামীণফোনে নিয়ে আসেন। তার মধ্যে অন্যতম মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হারুণ ভাট্টি। আর হারুণ ভাট্টিই কর্মী ছাঁটাই কাজের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে এর কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। এরপর গ্রামীণফোনের কর্মীরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তী সময়ে গ্রামীণফোনের সিইও টরে জনসেন কর্মীদের সান্ত্বনা দিয়ে ই-মেইল বার্তা পাঠান। তবে এরপরেও কর্মীরা শান্ত হননি। উল্টো তারা লিফলেট বিতরণ করেছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, আজ তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও স্বৈরাচারী ম্যানেজমেন্ট কোনো কথায় কর্ণপাত করছে না। তারা তাদের অসাধু, ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমাদের রক্তে গড়া এই প্রতিষ্ঠান একটি স্বার্থান্বেষয়ী চক্রের খেয়াল খুশির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। আর তাই আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি।
বাংলাদেশ সময়: ২৩০১ ঘন্টা, জুলাই ৬, ২০১২
আইএইচ/এমএমকে- menon@banglanews24.com;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com