 |
ঢাকা: সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি দূর করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ ১০ জুন থেকে ইন্টারনেট ভিত্তিক লেনদেন শুরু করবে।
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ডিএসইর সিইও ড. মোশাররফ হোসেন, সিএফও সুভ্র কান্তি, ডিএসই’র সিওও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জহিরুল আলম, ডিএসইর আইটি সিটিও এ এসএম খায়রুজ্জামান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্বের এমএসএ সফটওয়্যারের পরিবর্তে এমএসএ প্লাস (মেম্বার সার্ভার এপ্লিকেশন) সফটওয়্যার স্থাপনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এ সময় ডিএসই’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান বলেন, এমএসএ প্লাস চালুর ফলে ডিএসইতে নতুন যুগের সুচনা হবে। এর মাধ্যমে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডিএসইর তথ্য জানতে ৪০ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এমএসএ প্লাস চালু হলে যেকোনো বিনিয়োগকারী ইন্টারনেটের মাধ্যমে রিয়েলটাইমে লেনদেন করতে পারবেন। এমএসএ প্লাস সংযোজনের ফলে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন এবং এ ক্ষেত্রে নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রক হতে পারবেন।
খায়রুজ্জামান বলেন, এজন্য সংশ্লিষ্ট হাউজ থেকে একটি পাসওয়ার্ড নিতে হবে। যেটা দিয়ে লগইন করে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের অর্ডার দিতে পারবেন। বিনিয়োগকারীরা তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এমএসএ প্লাস গো লাইভ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ১০ সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। তবে অমনিবাস জটিলতা নিরসনে মার্চেন্ট ব্যাংককে অপশনাল হিসেবে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।
গত ২ এপ্রিল বিএমবিএর সঙ্গে ডিএসইর এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে এ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। কিন্তু যেহেতু একটি অমনিবাস একাউন্টের মধ্যে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে তাই সকল অ্যাকাউন্টকে স্বতন্ত্র বিও অ্যাকাউন্ট করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সেজন্য মর্চেন্ট ব্যাংক ১০ সপ্তাহের মধ্যে স্বতন্ত্র বিও অ্যাকউন্ট করতে পারবে না শুধু তাদের জন্য অপশনাল হিসেবে নতুন আরেকটি সফটওয়্যার চালু করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ডিএসইর প্রেসিডেন্ট।
ওই বৈঠকে এ কাজে সহায়তা করার জন্য আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফায়েকুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে একটি টেকনিক্যাল কমিটি করা হয়। যারা যতদ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করার জন্য কাজ করবেন। ১৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে রয়েছেন ডিএসই থেকে ৬ জন, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৫ জন এবং সিডিবিএল থেকে ৩ জন।
জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এমএসএ প্লাস গো লাইভ প্রোগ্রাম চালু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে অমনিবাস জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত ২৫ মার্চ তা চালু করতে পারেনি। আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য গত ২ এপ্রিল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ মার্চেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০ জুলাই মতিঝিলের মধুমিতা ভবনের ৮ম তলায় ডিএসইর ট্রেনিং একাডেমিতে সিকিউরিটিজ হাউজের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন এই সফটওয়্যারের মক ট্রেডিং কর্মসূচি চালু করে ডিএসই।
২০ জুলাই থেকে টানা ২১ কার্যদিবস কর্তৃপক্ষ মক ট্রেডিং করে, যা শেষ হয় ২৫ আগস্ট। কিন্তু মক ট্রেডিংয়ের শেষ পর্যায়ে এসে এ প্রক্রিয়ায় লেনদেন করতে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।
পরবর্তীতে ৮ অক্টোবর শেষবারের মতো গো-লাইভ প্রিপারেশন টেস্ট করা হয়।
এদিন সকাল ১০টার মধ্যে সব ব্রোকারেজ হাউজ লগইন (খোলা) হয়। প্রিপারেশন টেস্টিং চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। গো-লাইভ প্রিপারেশন টেস্টিং কিছু সমস্যা দেখা দেওয়া এমএসএ প্লাস সফটওয়ার চালুর প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৪ ঘণ্টা, জুন ০৬, ২০১২
এসএনএইচ/এসএমএকে/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর