ঢাকা: বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, “সংলাপ যদি করতে হয়, তবে সংসদে আসতে হবে। সংলাপের নামে এতোদিন যে প্রলাপ বকেছেন তা নয়, সংলাপ করতে হবে সমঝোতার জন্য। সংসদকে জিম্মি করে কখনও সংলাপ করা সম্ভব নয়। এজন্য সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।”
প্রবীণ রাজনীতিক বাহাউদ্দিন চৌধুরী ও ভাষাসৈনিক গাজীউল হক স্মরণে মঙ্গলবার আইডিইবি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুরঞ্জিত বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন দেশের বিকল্প প্রধানমন্ত্রী। আপনারা রাস্তার বিরোধী দল নন, আপনারা হচ্ছেন অপোজিশন ইন পার্লামেন্ট। সংসদে যাদের প্রতিনিধিত্ব নেই, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি তুলে ধরবে। আপনারা যেহেতু সাংবিধানিক বিরোধী দল, তাই জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর দায় থেকে মুক্ত হয়ে সংসদে এসে গণতন্ত্রের দাবি নিয়ে কথা বলুন।”
বিচার বিভাগ নিয়ে স্পিকারের রুলিং সম্পর্কে সুরঞ্জিত বলেন, “বিচার বিভাগ অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে স্পিকারের রায় আইন সভার সর্বোচ্চ রায়। এটা সকলের জন্য প্রযোজ্য। তিনি যে রায় দিয়েছেন, সে রায় সকলকে নির্দ্বিধায় মানতে হবে। জাতীয় সংসদের শিষ্টাচারে এই রায়ে রিভিউ করার কোনো সুযোগ নেই।”
গণতন্ত্র নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, “গণতন্ত্র গেল বলে চিৎকার করার কিছু নেই। গণতন্ত্রে আলোচনা হবে, কন্ট্রাডিকশন হবে। এভাবেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।”
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে সুরঞ্জিত বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সাহসী, দেশপ্রেমী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, কিছু বিদেশি গণমাধ্যম একে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। তাদের কাছে মিয়ানমারের বিষয়টি নয়, রোহিঙ্গাদের কেন বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না- এটাই এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “দেশের সবাই এখন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। সেখানে একমাত্র বিশ্বাসের জায়গা হচ্ছে গণমাধ্যম। অবিশ্বাসের মরুভূমিতে গণমাধ্যমই পারে আমাদের বিশ্বাসের ফুল ফোটাতে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এমপি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঠিক করতে হলে বিরোধী দলকে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে, তা কোনোভাবেই জনগণ গ্রহণ করবে না। আওয়ামী লীগই একমাত্র অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
জলিল বলেন, “জাতির এই ক্রান্তিকালে ঐক্যমতের প্রয়োজন। ঐক্যমতের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই আমরা জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।”
সংগঠনের সহ-সভাপতি ফাতেমা জাহান সাথীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন পল্টু।
বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, কৃষক লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এমএ করীম, বঙ্গবন্ধু একাডেমির মহাসচিব হুমাযূন কবীর মিজি প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪০ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০১২
এমএ/এমআইএইচ/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com