ঢাকা: বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় ২৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ৬৬৭ জন জওয়ানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। শনিবার সকালে অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আজ চতুর্থ দিনে ২৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। দুপুর দুইটায় মুলতবি ঘোষণা করা হয় আদালতের কার্যক্রম।
এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় আসামিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশগ্রহণ ও সহায়তার অভিযোগ লিখিত আকারে আদালতকে পেশ করেন প্রসিকিউটর লে. কর্নেল মো. সামছুর রহমান।
বিচার কাজ শুরুর প্রথম দিন গত রোববার ৪০, সোমবার দ্বিতীয় দিনে ১৪৩, মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে ১৯২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পড়ে শোনানো হয়।
এতে বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই বিডিআর আইন অমান্য করে বিদ্রোহে মদদ ও মাইকিং করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, কেন্দ্রীয় অস্ত্রভাণ্ডার থেকে অস্ত্র লুটে সহযোগিতা, কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, কর্তৃপকে বিদ্রোহের আগাম তথ্য না দেওয়া, বিচারের সময় আদালতকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা, অস্ত্র-গুলি ও মূল্যবান সামগ্রী লুট ও গুলি করা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগে সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে বিদ্রোহ সংক্রান্ত কোনো তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
ব্যাটালিয়নের সুবেদার মতিউর রহমান ৬৬৮ জনকে আসামি করে এ মামলাটি করেন। ৩১ মার্চ মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়। এর মধ্যে গত ১৪ মে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নামে একজন আসামি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বিডিআর এর ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “শনিবার অভিযোগ গঠন শুরু হবে , এরপর হবে সাক্ষগ্রহণ। সাক্ষী হিসেবে থাকবেন ১০ জন তৎকালীন বিডিআর কর্মকর্তা । প্রয়োজন হলে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সাক্ষী করা হবে।”
সাক্ষ্য আলামত হিসেবে ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্রও আদালতে প্রজেক্টর এবং এলসিডি মনিটরের ম্যাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে বলেও জানান তিনি।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হন। সে সময় রাজধানীর বাইরে কয়েকটি স্থানেও বিদ্রোহ হয়।
এরপর বিডিআর আইনে বিদ্রোহের বিচারে গত বছরের নভেম্বরে সরকার ছয়টি বিশেষ আদালত গঠন করে। এরমধ্যে ঢাকায় গঠন করা হয় দুটি।
মামলায় সারাদেশে সাড়ে ছয় হাজার জওয়ানকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
বিডিআর আইনে বিদ্রেহের সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর।
অবশ্য পিলখানায় হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রচলিত আদালতে হবে।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর রাঙামাটিতে ১২ ব্যাটালিয়নের নয় জওয়ানের বিচারের মাধ্যমে বিডিআর বিদ্রোহের বিচার শুরু হয়। এরই মধ্যে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, সাতীরা ও রাঙামাটিতে রায় হয়েছে।
বাংলাদেশ স্থানীয় সময়: ২০২৫ঘণ্টা, জুন ২৩, ২০১০