 |
ঢাকা: মিয়ানমারের শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)|
বুধবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে দাঙ্গা থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দেশটি তার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্দেশও দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে নতুন শরণার্থী বাংলাদেশে আসুক, আমরা তা চাই না।’
এ ব্যাপারে এইচআরডব্লিউর শরণার্থী কর্মসূচি বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, ‘আরাকান রাজ্যের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ করে বহু জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা লোকজনের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, মিয়ানমারের আরাকন রাজ্যে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে প্রথম সংঘাত শুরু হয় গত ৩ জন। এর জেরে এখনো সহিংসতা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সংঘাত কবলিত অঞ্চলে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অজানা সংখ্যক রোহিঙ্গা হতাহত হয়েছে। আর সংঘাতে জড়িত উভয়পক্ষই হামলা ও বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো সহিংতা চালাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে চলছে জরুরি অবস্থা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, যদিও বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদ বা এর ১৯৫১ সালের প্রটোকলেরও অংশীদার নয় তবুও কোনো আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দানের আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ করতে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মানুষ যদি নিজের স্বাধীনতা হরণ ও জীবন হুমকির মুখে সীমান্ত পেরিয়ে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করে তাহলে আন্তর্জাতিক নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ তাদের প্রত্যাখ্যান করতে পারে না।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিরপেক্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য অনুমতি দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
অন্যান্য দেশের সরকারগুলোকেও শরণার্থীদের মানবিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত নিবন্ধিত ২৯ হাজার ও অনিবন্ধিত আরো ২ লাখ রোহিঙ্গা এবং সাম্প্রতিক সহিংতার কারণে নতুন করে আগত রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানেও অন্য দেশগুলোকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর শরণার্থী কর্মসূচি বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক আরো বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঔদার্য্যপূর্ণ সমর্থন দরকার। আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য এবং দীর্ঘ মেয়াদে এ সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা দরকার।’
তবে এ মুহূর্তে মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ নিজেই নিজেকে সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রেলিক। তিনি বলেছেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলো অসহায় শরণার্থীদের অন্তত জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।
গত ৩ জুন আরাকান রাজ্যে নির্মম বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এখনো দাঙ্গা চলছে। জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তবে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্য তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৯ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর/ রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর