 |
সংসদ ভবন থেকে: খালেদা জিয়া ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “উনি (খালেদা) বলেছেন, আমরা নাকি ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা) দেবো। কেন আমরা ইমার্জেন্সি দেবো? দেশে এমন কি হয়েছে যে, ইমার্জেন্সি দেবো।”
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ১৫তম অধিবেশনের সমাপণী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় এসেছি। উনি ইমার্জেন্সির জন্য পায়তারা করছেন কিনা, সেই কারণে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন কিনা? উনিতো ইমার্জেন্সি দিয়েছিলেন। আবারও উনি সেটা করতে চান।”
সংসদ নেতা বলেন, “যাদের জন্য উনি ইমার্জেন্সির পাঁয়তারা করছেন, তারা উনাকে ছাড় দেবে না। ফলটা তারাই খাবে, উনাকে দেবে না। ইমার্জেন্সি দেওয়ার পরিবেশ উনি তৈরির চেষ্টা করছেন। যতই চেষ্টা করুক যুদ্ধাপরাধীদের, রাজাকারদের রক্ষা করতে পারবেন না। বিচার বাংলার মাটিতে হবেই।”
তিনি বলেন, “বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। এই মাসেই আমাদের বিরোধীদলের নেত্রী আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন। যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, বুদ্ধিজীবিদের স্মরণ করি, শ্রদ্ধা জানাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করেছি, তখন আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “যে মাস বিজয়ের মাস, সেই মাসে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন। এটা জাতির জন্য লজ্জাকর।”
“তিনি (খালেদা জিয়া) দাবি করেন তার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষক। স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই বিজয়ের মাসেই তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য কর্মসূচি দিয়েছেন,” যোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “এর বিচারের ভার আমি জাতির কাছে দিলাম।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বিরোধীদলীয় নেত্রী ১৮ দল করেছেন কাদের নিয়ে। যুদ্ধাপরাধী, পলাতক আসামি, সাত খুনের মামলার আসামি, যারা পুলিশের ওপর আঘাত করে অস্ত্র কেড়ে নেয় তারা উনার মঞ্চে ছিলেন। এদের নিয়ে উনি আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছেন।”
সংসদ নেতা বলেন, “শাবাশ! শাবাশ! বিরোধী দলের নেত্রী, এই হলো উনার রাজাকার পালন। উনি রাজাকার পালন করে যাচ্ছেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় নেত্রী এখন খুব সোচ্চার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান তিনি। অথচ তিনি ২০০৭ সালে বলেছিলেন, ‘যে যা হচ্ছে তাতে জনগণ এক সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি চাইবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের অধিকার হরণকারী। অনির্বাচিত সরকারের হাতে জনগণ এত ক্ষমতা দিতে চায় না।’ তার দলেরই নেতা মওদুদ আহমেদ বলেছিলেন, ‘অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া ছিল রাজনীতিবিদদের জন্য বড় ভুল। যার মাশুল জনগণকে দিতে হচ্ছে।’ তিনি (খালেদা জিয়া) এখন কার স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছেন?”
শেখ হাসিনা বলেন, “বর্তমান সরকারের সময় দেশে যত নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। কোথাও কোনো সমস্যরা হয়নি। জনগণ ভোট দেয়নি বলে আমাদের প্রার্থী হেরেছে। প্রতিটি নির্বাচনই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণের অধিকার রক্ষা করা আমাদের কাজ। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা রাজনীতি করি, আন্দোলন করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) যখন ক্ষমতায় ছিলেন নির্বাচন মানেই আতঙ্ক। একটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে গিয়েই ১৭ জনকে হত্যা করেছিলেন। মাগুরা উপ-নির্বাচনের কথা সবাই জানে। সেনাবাহিনী দিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর খুনি রশীদ, হুদাদের সংসদে বসিয়েছিলেন।”
সংসদ নেতা বলেন, “বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে উনি দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন। তার মানে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে যে উন্নতি হয়েছে তা বন্ধ করে দেবেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতি ফিরিয়ে আনবেন। আমরা চালের দাম ৪০ টাকা থেকে ২২-২৩ টাকায় নামিয়ে এনেছি। উনি ৯০ টাকা করবেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “উনি অশান্তির আগুনে ভুগছেন। আর এই অশান্তির আগুন দিয়ে দেশকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করতে চাচ্ছেন। দেশে আলোর দুয়ার খুলে গেছে, উনি অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। আমি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে বলবো যা বলার সংসদে এসে বলুন। দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না। জনগণ গত নির্বাচনে উনাকে ভোট দেয়নি, তাই উনি যেন এটাকে প্রতিশোধ হিসেবে না নেয়। জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। আর এটাই গণতন্ত্রের নীতি।”
বাংলাদেশ সময়: ২০৫৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০১২
এসকে/ এসএইচ/সম্পাদনা: রানা রায়হান, আউটপুট এডিটর