ঢাকা: পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনে একমত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি। এছাড়া ভূমি কমিশনের কার্যক্রম পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও কমিটি একমত প্রকাশ করেছে। সংসদের চলতি অধিবেশনে এ আইন সংশোধনের বিল উঠতে পারে।
এদিকে জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি কয়েক মাসের মধ্যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির আহবায়ক সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী প্রত্যাবাসন ও পুর্নবাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুর্নবাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান এমপি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা সভায় অংশ নেন।
এছাড়া বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গওহর রিজভী।
বৈঠক শেষে সন্তু লারমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগের বৈঠকে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ সংশোধিত খসড়ায় ১৩টি প্রস্তাব নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। তবে তিনটি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয় নতুন করে মতামত দিয়েছিলো। এর মধ্যে ভূমি কমিশনের কার্যকলাপ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে তারা যে প্রস্তাব দিয়েছিলো সেটি আমরা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু তাদের অপর দুটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছি আমরা। ভূমি মন্ত্রণালয় ৬(১)(গ) ধারার উপধারাগুলো বিলোপ করার বিপক্ষে।
ওই ধারায় রয়েছে, ‘এ উপধারা প্রযোজ্য হবে না সংরক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বেতবুনিয়া আর্থ স্যাটেলাইট স্টেশন, রাষ্ট্রীয় শিল্প কারখানা, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি রেকর্ডের ক্ষেত্রে।’ বিগত বৈঠকগুলোতে সিদ্ধান্ত হয় যে, এ উপধারা বিলোপ হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি কমিটিকে বলেছি- পাবর্ত্য চট্টগ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি, ১৯৯৭ বাস্তবায়নের অপেক্ষা করে আছে। যদি কয়েক মাসের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’
কমিটির সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনীর কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি। এ ক্ষেত্রে বৈঠকে কারও মধ্যেই কোনো মত পাথর্ক্য হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর বিলটি সংসদের চলতি অধিবেশনে পেশ করা হতে পারে।’
পাহাড়ে অধিবাসীদের নিয়ে বির্তক বন্ধে ভূমি কমিশনের কার্যকলাপ বন্ধের নিদের্শ দেওয়া হবে কি না প্রশ্ন করা হলে সাজেদা চৌধুরী জানান, এ বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে সন্তু লারমা আরও জানান, তিনি কমিটিকে পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে অবহিত করেছেন। সেসব ঘটনার হোতা ইউনাইটেড পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ওই ফ্রন্ট পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সরকারের একটি অংশ তাদের সরাসরি সহায়তা করছে। কমিটির সভাপতি বিষয়টি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন বৈঠকে বার বার কোরাম সংকটের মুখে পড়লে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে মামলা শুনানি করতে পারবে এ ঘোষণা দেয়ার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনের কার্যক্রম প্রতিরোধের প্রস্ততি নেওয়া শুরু করে। কমিশনের পাবর্ত্য এলাকার সদস্যরা ২০০১ এর আইনটি সংশোধনের দাবিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কমিশনের যেকোন কাজ বয়কট করা শুরু করে।
তিনটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল- পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, দি ইউনাইটেড পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট এবং পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) জানায়, তারা কমিশনের এ ধরনের কোন কার্যক্রম গ্রহণ করবে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৯ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০১২
এসএইচ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর