 |
| ছবি: কাশেম হারুন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
গণজাগরণ চত্বর থেকে: ফুল দিয়ে বিশাল অবয়বে বর্গাকৃতির একটি বেষ্টনীর মধ্যে লেখা হয়েছে ‘৩০,০০০০০+১’। সংখ্যাটির উপর জ্বলছে মোমবাতি। পাশেই ফুলে ফুলে ঢাকা একটি কবর। ফাঁকে ফাঁকে ফুল দিয়ে লেখা ‘শাহবাগ ঘুমায় না, শাহবাগ জেগে থাকে’। আর কিছু ছড়ানো পোস্টার, তাতে লেখা ‘কলঙ্ক কোথায় রাখি, ফুলে ফুলে ঢাকি’।
শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে টিএসসি’র দিকে যেতে চারুকলা ইনস্টিটউটের সামনের রাস্তায় এই বিশালাকৃতির বেষ্টনীর মধ্যে বসে আছেন ৬/৭ জন তরুণ-তরুণী, যাদের সবার চোখে কালো কাপড় বাঁধা। আর এই বেষ্টনীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক মানুষ। চোখ বাঁধা তরুণ-তরুণীদের স্লোগানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাচ্ছেন তারাও।
সংখ্যা তত্ত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে চোখ বাঁধা তরুণদের মধ্যে একজন কবির সুমন বাংলানিউজকে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এরপর দুর্ভিক্ষে মারা পড়ে আরও কিছু মানুষ। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের হাতে প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে মানুষ। ব্লগার রাজীব হায়দারকেও খুন করেছে তারা। এই বিষয়টি ‘১’ সংখ্যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে।”
ব্লগার রাজীবের স্মৃতিচারণ করে হাই মাউ করে কেঁদে উঠেন কবির সুমন। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করায় স্বাধীনতার পক্ষের মানুষগুলো তাদের হাতে খুন হচ্ছে। ‘১’ সংখ্যাটি ‘১০’-এ পৌঁছানোর আগে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।”
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন, তিনি যেন জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ নেন” যোগ করেন এই সংখ্যা তত্ত্বের উদ্যোক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর পাস করা কবির সুমন।
কবির সুমন জানান, শাহবাগের আন্দোলনে অনেকে সংহতি জানাতে আসছে। অনেকে বিচ্ছিন্নভাবে ঘোরাফেরা করে। বিচ্ছিন্নভাবে যারা আন্দোলনে আসছেন তাদের নিয়ে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কবির সুমনদের মতো শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ব্যতিক্রমী নানা কর্মসূচি পালন করছেন। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে তারা আন্দোলন না ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০০৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩
আইএইচ/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর