 |
ঢাকা: চিকিৎসাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
শুক্রবার বাংলানিউজকে পাঠানো এক বার্তায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি তিনি নুরুল ইসলাম স্মরণে স্তৃতিচারণও করেন।
মুহিত তার বার্তায় বলেন, ‘‘আমার যৌবনকাল থেকে আমি তাকে চিনি। সব সময় একজন সম্মানিত গুণী ব্যক্তি হিসেবে তাকে দেখেছি। চিকিৎসা জগতে তার অবস্থান সম্পর্কে আমার কিছু বলা সাজে না। কিন্তু তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কতিপয় বিষয়ে কাজ করার সুযোগ আমার হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাকে স্মরণ করে আমি তাই দু’চারটি কথা বলতে চাই।”
মন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “তিনি (নুরুল ইসলাম) আমাদের পোস্ট-গ্রাজুয়েট চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (যা এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) নানাভাবে সুসংগঠিত করেন। বহুদিন এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আমি জানি, তিনি তার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অতি প্রিয় ছিলেন।”
তিনি বলেন, “তারা তাকে শুধু শিক্ষক হিসেবে নয়, শিক্ষার্থীরা তাকে সার্বিক অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতেন। শিক্ষার্থী এবং তার শিক্ষক সহকর্মীর উন্নয়ন, সুখ এবং মঙ্গল কামনা ছিল তার সার্বক্ষণিক আগ্রহের বিষয়।”
মুহিত বলেন, “গত শতাব্দীর ’৭০-এর দশকের শেষ দিকে আমাদের সমস্যা হয় কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরিকে বাংলাদেশে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। এ সময় সিয়াটো-সেন্টো নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রাতিষ্ঠানটিকে ‘সেন্টার অব এক্সসিলেন্স’ হিসেবে স্থাপনের উদ্দেশ্যে তিনি অত্যন্ত মূল্যবান ভূমিকা পালন করেন।”
তিনি বলেন, “আইসিডিডিআরবি’র যে টেকনিক্যাল কমিটি প্রতিষ্ঠানটির লেখাপড়া এবং গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করে দেয়, তিনি ছিলেন তার আহ্বায়ক। তখন বিভিন্ন মতের সমন্বয় সাধন করে এই প্রতিষ্ঠান গঠনে ও উন্নয়নে রূপ দিতে তার ছিল অনন্য অবদান।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “পরবর্তীকালে তিনি আরেকটি বিষয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপের ছিলেন রচয়িতা। যে ওষুধনীতি বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের বিকাশের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়, সেখানেও তিনি প্রধান পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন। আমার মনে হয় একটি সার্থক ওষুধনীতি প্রণয়নে তিনি যে মূল্যবান অবদান তিনি রাখেন, তারই দীর্ঘমেয়াদী ফসল হচ্ছে ওষুধশিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি।”
নুরুল ইসলামকে স্মরণ করে মুহিত বলেন, “চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারেও তিনি মূল্যবান অবদান রাখেন। ব্যক্তি মালিকানা খাতে চিকিৎসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থান আমার জানামতে তিনি এবং শিল্পপতি জহুরুল ইসলামই শুরুতে চিন্তা করেন। এই চিন্তা বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন।”
মন্ত্রী বলেন, “ক্যান্সার প্রতিহত করার আন্দোলনেও তিনি মূল্যবান ভূমিকা রাখেন। তামাকের ব্যবহার হ্রাস করার উদ্যোগে তিনি ছিলেন পথিকৃত।”
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নুরুল ইসলাম ছিলেন তার ডাক্তার বোন জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুনের গুরু এবং পরামর্শক। তিনি ছিলেন বাবা-মার আরেকজন সন্তান এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় নিবেদিত বড় মাপের চিকিৎসক।”
মুহিত বলেন, “তবে সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন বিশ্বস্ত এবং সহানুভূতিশীল বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক এবং সহযোগী। তার মৃত্যুতে সত্যিই চিকিৎসা জগতে সাময়িক শূন্যতার সৃষ্টি হলো। সেই শূন্যতা পূরণের দায়িত্ব তার উত্তরসূরীদের।”
সবশেষে বার্তায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সেই দায়িত্ব (শূন্যতা পূরণের) আমাদের সমাজ এবং আমাদের চিকিৎসক গোষ্ঠী অবশ্যই গ্রহণ করবেন এবং তাতে হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা-নিবেদন। প্রার্থনা করি মহান আল্লাহতায়ালা তার মাগফেরাত করুন এবং তার আত্মীয়-স্বজনকে এই শোক সহ্য করার ক্ষমতা দিন।”
বাংলাদেশ সময়: ১৬১৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৫, ২০১৩
এসএআর/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর