 |
ঢাকা: ‘করবো, লড়বো, জিতবো রে!’ কলকাতা নাইট রাইডার্সের থিম সং। হয়েছেও ঠিক তাই। লড়েই জিতেছে শাহরুখ, সাকিবের কলকাতা।
লড়ার আগে স্নায়ুযুদ্ধ ছুঁয়ে গেছে শাহরুখসহ নাইট রাইডার্সের সাপোর্টারদের। খেলার পুরোটা সময় দেখাও গেছে এ চিত্র। কলকাতার বোলারদের চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানরা তুলোধোনা বানিয়ে তুলে নেয় ১৯০ রান। তারপরও স্বপ্ন ভাঙেনি শাহরুখদের। ‘বাজিগর’ শাহরুখের দল বাজিমাত করার দিকেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন সাকিব-মনোজ তিওয়ারি।
কিন্তু ফাইনালের মাঠে টিভি ক্যামেরা বার বার শাহরুখের স্নায়ুযুদ্ধকেই তুলে ধরে। বিশেষ করে তার দলের ব্যাটিংয়ের সময়। প্রথম ওভারে অধিনায়ক গম্ভীর বোল্ড। অস্থির শাহরুখের চোখেমুখে নেমে আসে স্তব্ধতা। পাশে বসা স্ত্রী গৌরীকে কিছু একটা বললেন তখন। এমনটাও হতে পারে, ‘ওর দিকেই চেয়েছিলাম আমি।’
ওইদিন মাঠের দৃশ্যও ছিল কলকাতার বিপক্ষে। যে দিকে তাকানো যায়, শুধু হলুদ রঙ। ধোনির নামে জয়ধ্বনি। কিন্তু তারপরও শাহরুখ বলে কথা, তাকে দেখলে চেন্নাই হোক বা মুম্বাই, গ্যালারি তো উত্তাল হবেই। হাত নাড়া, টেনশনে মুখ ঢাকা, দু’হাত তুলে হাততালি, সবই ছিল। হাসি আর বিজয়ের তাণ্ডব যখন চলছে, গ্যালারিতে হলুদ ঝড়, চোখে-মুখে বিষণ্ণতা। বিসলার ব্যাটিংয়ে যা রাতারাতি উচ্ছ্বাসে রূপান্তরিত। তখন আবার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী চলছে কেকেআর’র চিত্রনাট্য। আবার টালমাটাল। ইউসুফ পাঠান বল তুলে দিলেন আকাশে। দু’হাতে মুখ ঢাকলেন শাহরুখ। মেয়ে সুহানার কাঁধে হাত রেখে চোখ মুছিয়ে দিচ্ছেন।
জয়ের আরেক বীর ক্যালিসও যখন চেন্নাইয়ের হাতে বল তুলে দিয়ে ফিরে গেলেন, তখন স্বপ্নভঙের আরেক প্রহর। তবে সাকিবের দৃষ্টি নন্দন বাউন্ডারি কিং খানকে জয়ের স্বপ্নে ফিরিয়ে আনে। মুখেও ফিরে আসে চির;
চেনা হাসিটা।
আর মনোজের মারা শেষ শটটা বাউন্ডারি পেরোতে দু’হাত আকাশে তুলে দেন শাহরুখ। সে যেন এভারেস্ট জয়।
আত্মহারা শাহরুখ গ্যালারি থেকে প্রায় লাফই দিয়ে দিচ্ছিলেন। উচ্ছ্বাস এতটাই বাঁধনছাড়া যে বাচ্চাদের নিয়ে মাঠেই প্রায় ‘ছম্মক ছল্লো’ নেচে নেওয়ার মতো। কখনও আবার চোখ মুছছেন, কখনও হাসছেন।
হোটেল ছাড়ার আগে বলেছিলেন, “কী আবার বলব? আমাদের অ্যানথেম থেকে করব আর লড়ব, দুটোই তুলে দিয়েছি আমি। বাকি আছে শুধু জিতব রে!” কালো টি-শার্ট, ফেডেড জিন্স পড়া শাহরুখ ম্যাচের আগে বলেছিলেন, “নার্ভাস লাগছে। টেনশনও হচ্ছে।”
কিন্তু খেলা শেষে তা আর মনে হয়নি এতটুকু। নেমে এলেন মাঠে, জড়িয়ে ধরলেন সবাইকে। তখন তার মুখে শুধুই একটা কথা, ‘আই এম ভেরি ভেরি হ্যাপি...’।
কমেন্টেটরের সঙ্গে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বার বারই তার উচ্ছ্বাসগুলো উড়িয়ে দিচ্ছেলেন বাতাসে। এমনকি আনন্দে কমেন্টেটরের মাইক ছেড়ে তিনি পর পর তিনটি ডিগবাজি দেন দর্শকদের উদ্দেশ্যে।
তারপর তিনি বলেন, “পাঁচ বছর আগে স্বপ্নটা দেখেছিলাম, সেটা আজ বাস্তব হয়েছে। ইনশাল্লাহ, পেরেছি। এ বার পরের প্রজন্মকে শেখাতে পারবো, কী ভাবে জিততে হয়।”
নাইটদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দশ লাখের বেশি এসএমএস এসেছিল ম্যাচের আগে। শুভেচ্ছা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। যিনি এসএমএস করেছিলেন শাহরুখকে। বারবার শাহরুখের কথায় উঠে এল এই অভিযানে গম্ভীরের অবদানের কথা। “আমার দেখা সেরা ক্যাপ্টেন ও। তার চেয়েও বড় কথা, সেরা মানুষ। যেভাবে ও এবার টিমকে সামলেছে, তার তুলনা হয় না।” তারপরেই যোগ করেন, “প্লিজ ভাববেন না, এই আইপিএলে অন্য কোনও অধিনায়কের সঙ্গে তুলনা করলাম।”
মধ্য রাতে তখন বার্তা ভেসে যাচ্ছে দিগ্বিদিক, ‘মাই নেম ইজ খান অ্যান্ড আই অ্যাম আ চ্যাম্পিয়ন!’
বাংলাদেশ সময়: ০৯৫৩ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০১২
সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;
জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর