 |
নিউইয়র্ক: শিশু বিবাহ প্রথা কন্যাশিশুদের জন্য স্বাস্থ্যগতভাবে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, ঠিক তেমনি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও দক্ষতা বিষয়ক উন্নয়নেরও অন্তরায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে বিবাহিত একজন কিশোরী মাতা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিবাহিত মাতার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি স্বাস্থ্যগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পতিত হয়।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সূচন্য বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “শিশু অবস্থায় বিবাহের ফলে একজন বালিকা শিক্ষা ও জীবনমুখি দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।”
শিশু বিবাহ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে ড. শিরীন বলেন, বাংলাদেশে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে বেশ কিছু কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কন্যা শিশুদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা অবৈতনিক করেছে, সেই সঙ্গে তাদের মাসিক হারে উপবৃত্তি দিয়ে আসছে। কন্যাশিশুদের নানাবিধ সম্ভাবনা উন্মোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সে লক্ষ্যে দেশব্যাপী কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। শিশু বিবাহ প্রতিরোধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্ম সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিশু বিবাহ প্রতিরোধ তথা শিশুদের নানাবিধ অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি জানান, এতসব ব্যবস্থা গৃহীত হলেও প্রথাগত ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম না করা গেলে শিশু বিবাহ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না। এজন্য কন্যা শিশুদের সম্পর্কে সবার মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
তিনি আরো জানান, ছেলেশিশুর মতো কন্যাশিশুদেরও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললে তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে তাই নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে কন্যাশিশু দিবস পালনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিমন্তী জানান, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকেই জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নারী উন্নয়নের অগ্রদূত আক্ষা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার উদ্যোগেই বাংলাদেশে প্রথম এ দিবস পালন শুরু হয়।
সূচনা বক্তব্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নে কন্যাশিশুদের পেছনে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
তিনি জানান, শিশু বিবাহ কন্যাশিশুদের সর্বমুখী সুযোগ ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে এবং তাদের ওপর নির্যাতনে নানাবিধ ঝুকির মুখে ঠেলে দেয়। কন্যা শিশুদের যথাযথ শিক্ষার সুযোগ দিলে এপ্রথা আস্তে আস্তে দূর হবে। তিনি এই ক্ষতিকর প্রথা দূরীকরণে সবার আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, কন্যাশিশুদের শিক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ক্ষমতায়িত করতে হবে। তাহলেই শিশু বিবাহ প্রথা দূর হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, জাতিসংঘ ইউএন ওমেনের নির্বাহী পরিচালক ড. মিশেল ব্যাচেলেট, ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. বাবাটুনডে ওসোটিমেহিন, ইউনিসেফর উপ-নির্বাহী পরিচালক গীতা রাও গুপ্ত ও নাইজারের যুব কর্মী ঘাইচা সালামাটো আগালি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনবিসি নিউজের রিপোর্টার এন কারি। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি জনাব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এমএ কামাল বিল্লাহ্ ও মিশনের কাউন্সিলর সামিয়া আনজুম।
অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শিশু বিবাহের ওপর একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২১২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১২