ঢাকা : ঢাকা জজ কোর্টে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বিএনপি সমর্থক ৯৯জন আইনজীবীর নামে ঢাকার কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং ১৪। মামলায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, বোরহানউদ্দিন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহসিন মিয়াসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৭০জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুর হোসেন রাতে মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম মঙ্গলবার বিকেলেই সংবাদ প্রকাশ করে, পুরনো ঢাকার কোতোয়ালী থানায় এ ধরনের একটি মামলা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত মামলাটি দায়ের না হলেও মামলা করা হবে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছিলেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির রুহুল আমিন।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, “মামলা করার জন্য এজাহার থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলা দায়ের হয়েছে কিনা জানি না।”
কোতোয়ালী থানার ওসি (প্রশাসন) সালাহউদ্দিন খান বাংলানিউজকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণাদিসহ মামলাটি দায়ের করা হবে।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের হস্তক্ষেপ ও দলীয়করণের অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালন করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা ইউনিটের বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এ সময় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা জজ কোর্টে ভাঙচুর চালান।
বিক্ষোভ মিছিলের সময় সংগঠনটির আইনজীবীরা কালো পতাকা নিয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত ও জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলা দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আইনজীবী মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হকের এজলাসে ঢোকার চেষ্টা করেন।
তখন আদালতে বিচার কাজ চলছিল।
পুলিশ তাদের এজলাসে ঢুকতে বাধা দিলে তারা বিচারকের উপস্থিতিতেই দরজায় লাথি মারেন। এরপর তারা মহানগর দায়রা জজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নাজিরের কক্ষের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন।
এছাড়া আইনজীবীরা ঢাকা জেলা জজ আদালতের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মজিদের আদালত কক্ষের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার স্টেনোগ্রাফারের কক্ষের জানালা ভাঙচুর করেন।
এসময় তারা সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা জজ ও মহানগর দায়রা আদালতের মধ্যবর্তী স্থানে তারা সমাবেশ করেন। সমাবেশে তারা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিরোধী দলের কারাবন্দী শীর্ষ নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১২
এমআই/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর