বাসা থেকে পালিয়ে দীঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করার প্রায় এক মাস পর অভিনেত্রী ও মডেল শায়না আমিনের বিয়ে মেনে নিয়েছে তার পরিবার। শুধু তাই নয়, দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়ে হলুদ ও বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।
‘মেহেরজান’ খ্যাত অভিনেত্রী শায়না আমিন গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক সেতুকে। শায়নার ধারণা ছিল, বাবা-মা
কোনোভাবেই সেতুর সঙ্গে তার বিয়ে দিবেন না। এ বিষয়ে বাংলানিউজ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সে সময় শায়নার বাবা-মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শুরুতে তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি। কেবল শায়নার বাবা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ভালবাসার প্রতিদান স্বরূপ শায়না আজ আমাদের দিয়েছে শুধুই দুঃখ, যন্ত্রণা এবং কান্না।
আনন্দের বিষয় হলো, শায়নার বাবা-মা দুঃখ-যন্ত্রণা-কান্না ভুলে মেনে নিয়েছেন মেয়ের বিয়ে। দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয়েছে গায়ে হলুদ ও বিয়ের রিসিপশন। গত ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকালে শায়না-সেতুর গায়ে হলুদ এবং ১৪ অক্টোবর বিয়ে-রিসিপশন অনুষ্ঠান ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অবশ্য মিডিয়ার কেউই উপস্থিত ছিলেন না। শুধু দুই পরিবারের কাছের মানুষ আর আত্মীয়-স্বজনরাই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পায়।
বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, শায়নার বাবার বন্ধুর ছেলে সেতু। বেশ কয়েকবছর ধরে সেতুর সঙ্গে শায়নার আমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের এই প্রেমের সম্পর্কটি একপর্যায়ে শায়নার বাব-মার কানে গিয়ে পৌঁছায়। তারা তখন মেয়েকে শাসন করেন। এ কারণেই শায়নার ধারণা হয়, সেতুর সঙ্গে বিয়ে তার বাবা-মা মেনে নেবেন না। তাই পালিয়ে গিয়ে শায়না বিয়ে করেন সেতুকে। বিয়ের পর তারা সেতুর পারিবারিক বাসায় গিয়ে উঠেন। বিষয়টি নিয়ে মধ্যস্থতায় সেতুর অভিভাবকরাই পালন করেন প্রধান ভূমিকা। শেষপর্যন্ত শায়নার বাবা-মার মনের জমাট বাঁধা বরফ গলতে শুরু করে। দুই পরিবারের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় শায়না-সেতুর বিবাহোত্তর সংবর্ধ্বনা।
বর্তমানে শায়না তার স্বামীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। মজার ঘটনা হলো, শায়নার বিয়ে সংবাদ করায় দুই পরিবারই নাকি ভীষণ ক্ষিপ্ত সাংবাদিকদের উপর! এ কারণেই কোনো পত্রিকার সাংবাদিককে শায়না-সেতুর বিবাহোত্তর সংবর্ধ্বনায় আমন্ত্রণ জানানো হয় নি।
পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য শায়না ও সেতুকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায় নি। শায়নার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, আর সেতুর ফোনে বহুবার রিং হলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।
বাংলাদেশ সময় ২৩২৫, অক্টোবর ১৫, ২০১১