ঢাকা: গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বাচনে চমক দেখাতে চায় মহাজোটের শরীকদল জাতীয় পার্টি। এ আসনে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে পার্টি সূত্র জানিয়েছে।
মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, “চমক থাকতেই পারে। চমক না থাকলে কিসের রাজনীতি।”
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তফসিল ঘোষণা হবে ঈদের পর ২৩ আগস্ট।
জাপা মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা এককভাবে নির্বাচনে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। তবে শিগগির চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাজীপুর জেলা সভাপতি বিগ্রেডিয়ার (অব.) কাজী মাহমুদ হাসানকে সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঠ পর্যায়ে খোঁজজ নিচ্ছেন।”
যাকে দিলে জাতীয় পার্টির জয় হবে সে রকম প্রার্থীই দেওয়া হবে বলে জানান জাপা মহাসচিব।
বিএনপির এক নেতার ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে এমন খবর শোনা যাচ্ছে। এমন প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, “চমক দেখতে পাবেন, তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা ঠিক হবে না। অপেক্ষা করুন, সবই জানতে পারবেন।”
জাপা মহাসচিব বলেন, “গাজীপুর নির্বাচনকে আমরা টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছি। আমরা পার্টির জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই।”
এ বিষয়ে বিগ্রেডিয়ার (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান বাংলানিউজকে জানান, জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন পার্টির নেতাকর্র্মীরা তাই মেনে নেবে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, ওই আসনে তাদের দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। তারা হলেন কাপাসিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভপাতি মোস্তাফিজুর রহমান ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সামছুদ্দিন খান। তবে চেয়ারম্যান যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই নেতাকর্মীরা এক যোগে কাজ কবরে।
বিএনপি নেতার ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করে বলেন, “চেয়ারম্যান এ রকম সিদ্ধান্ত নিলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব।”
এদিকে, জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতার ছেলের জাতীয় পার্টিতে যোগদান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য তানজিম আহমদ সোহেল তাজ স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। সে অনুযায়ী গত ৭ জুলাই বিকেলে আসনটি শূন্য হয়।
নির্বাচন শূন্য ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়াকে সুবিধাজনক মনে করছে জাতীয় পার্টি। তারা মনে করছে, সোহেল তাজের সমথর্করা আওয়ামী লীগ প্রাথীর্কে ভোট দেবে না। আর বিএনপির সমথর্করা জাপা প্রার্থীকে ভোট দেবে। সে কারণে জাপার প্রায় বিজয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন তারা।
জাপার জেলা সভাপতি বলেন, “আমরা বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।”
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০১২
ইএস/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর