৬ আষাঢ় ১৪২০, বৃহস্পতিবার জুন ২০, ২০১৩ ৭:০৬ এএম BDST banglanew24
10 Dec 2012   04:32:47 PM   Monday BdST
E-mail this

সাক্ষাৎকারে বিআইএর সহ-সভাপতি

শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক বিমার উদ্যোগ


শেখ নাসির হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক বিমার উদ্যোগ সাক্ষাৎকারে বিআইএর সহ-সভাপতি

ঢাকা: সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আহসানুল ইসলাম টিটু। পাশাপাশি তিনি সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মনা ফিন্যান্সিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি ডিএসই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০১০ সারে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আহসানুল ইসলাম টিটু ১৯৬৯ সালে টাঙ্গইলে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চ শিক্ষার জন্য থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান। থাইল্যান্ড থেকে বিবিএ ও আমেরিকা থেকে এমবিএ শেষ করে দেশে ফিরে ১৯৯৩ সালে ডিএসই’র সদস্যপদ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি গুলশানে তার বাসায় বিমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, পুঁজিবাজারে বিমা খাতের অবদান নিয়ে বাংলানিউজের সাথে কথা হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শেখ নাসির হোসেন এবং ছবি নিয়েছেন স্টাফ ফটো করেসপন্ডেন্ট আশিক।দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ প্রথম পর্ব।

বাংলানিউজ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিমাখাত কিভাবে ভূমিকা রাখছে?

আহসানুল ইসলাম: মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য বিমা করা হয়। মানুষ কোনো ব্যবসা করলে তার আর্থিক ঝুঁকি কমানোর জন্য মূলত বিমা। যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের ঝুঁকিটা ব্যাংক বাধ্যতামূলক করে দেয়। সুতরাং বিমা না থাকলে অনেক উদ্যোক্তা দেউলিয়া হয়ে যেত এবং তার বিকল্প অর্থায়ন থাকতো না। তাই বলা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিমাখাত অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

বাংলানিউজ: বিমাখাতের আর্থিক নিরাপত্তা কতটুকু?

আহসানুল ইসলাম: সামাজিকভাবে আমাদের দেশে যে সেফটি নেট থাকার কথা সরকারিভাবে সেগুলো নেই। তাই আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মানুষ বিমা কিনতে আগ্রহী হয়। উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, কেউ ব্যাংকে ২০ হাজার টাকা জমা রাখে তবে সে ২০ হাজার টাকাই ফেরত পাবে। কিন্তু কেউ যদি ১ লাখ টাকার বিমা করে মাত্র ২ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে মারা যায় তবে তার পরিবার এক লাখ টাকাই পাবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষ এ বিমা করে থাকে। তাই আমি বলবো বিমা খাতের আর্থিক নিরাপত্তা অন্যান্য খাতের চেয়ে অনেক বেশি।

বাংলানিউজ: উন্নত দেশগুলোতে বিমাখাতকে কি আমাদের দেশের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়?

আহসানুল ইসলাম: অবশ্যই উন্নত দেশে বিমা খাতকে আমাদের দেশের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এমনকি কিছু কিছু দেশের বিমা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন আমেরিকা কিংবা জাপানে অধিকাংশ মানুষকে বিমা করতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে ব্যাংক নিশ্চয়তার চেয়ে ইন্স্যুরেন্স নিশ্চয়তা অনেক বেশি শক্তিশালী।

বাংলানিউজ: নতুন নতুন বিমাপণ্য আনার প্রধান প্রতিবন্ধকতা কি ?

আহসানুল ইসলাম: দেখুন নতুন নতুন বিমাপণ্য না আসার পেছনে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যার মধ্যে আমাদের দেশে নতুন প্রকল্প আনতে যত সংখ্যক বিমা বিশেষজ্ঞ (অ্যাকচুয়ারি) থাকা দরকার তা নেই। বিমা বিশেষজ্ঞ ছাড়া জীবন বিমায় নতুন পণ্য আনা সম্ভব না। পর্যাপ্ত সংখ্যাক বিমা বিশেষজ্ঞ  না থাকার কারণে বেশ কয়েকটি নতুন ডেভলপমেন্ট প্রক্রিয়া সাফল্যের মুখ দেখেনি।

এছাড়া এই খাতে দক্ষ লোকবলেরও খুব অভাব। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬২টি বিমা কোম্পানি রয়েছে। যার মধ্যে ৪৩টি সাধারণ বিমা এবং ১৮টি জীবন বিমা এবং একটি সরকারি বিমা। এই বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক নেই। সুতরাং লোকবলের ঘাটতির ফলে আমরা নতুন পণ্য আনতে পারছি না।

এছাড়া বিমা খাতের উন্নয়নে ‘ইন্স্যুরেন্স অ্যাকডেমি’র যে কাজ করার কথা সেই কাজ সঠিকভাবে করা হচ্ছে না। ফলে দক্ষ লোকবল সংকটের কারণে অনেক সুযোগ থাকার পরও আমরা নতুন নতুন পণ্য আনতে পারছি না।  

বাংলানিউজ: এ মুহূর্তে বাংলাদেশের বাজারে কোন বিমাপণ্যটি আকর্ষনীয় বলে আপনি মনে করেন?

আহসানুল ইসলাম: আমাদের দেশে এই মুহূর্তে বেশ কয়েকটি আকর্ষনীয় বিমা পণ্য আছে। কিন্তু গ্রহকরা সেই সুযোগ গ্রহণ করছেন না। যেমন বাজারে ‘পিপলস পারসোনাল এক্সিডেন্ট’ নামের একটি বিমা রয়েছে। যেখানে যদি কেউ মাত্র ৬০ টাকা দিয়ে মারা যায় তবে তার পরিবার এক লাখ টাকা পাবে। কিন্তু শ্রমিকরা এটা কিনতে আগ্রহী নয়।

এছাড়া বর্তমানে ‘গ্রুপ অ্যান্ড হেলথ’ নামের একটি বিমা রয়েছে যেখানে দিনে যদি কেউ ৫ টাকা করে দেয় তবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি এবং ৫০ হাজার পর্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকির আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু বিমা করা বাধ্যতামূলক না হওয়ায় চাকরিজীবীরাও এতে আগ্রহী নন।  

বাংলানিউজ: বাংলাদেশের শ্রমিকদের বিমা করার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই কেন?

আহসানুল ইসলাম: প্রথম কথা হলো আমাদের দেশে ২০০৬ সালের যে শ্রমআইন রয়েছে তাতে বাধ্যতামূলক একটা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। যেমন কেউ যদি কর্মরত অবস্থায় মারা যান তবে তাকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূণ এবং অঙ্গহানি হলে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাবে। কিন্তু বিমা না থাকার কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষতিপূরণ পান না।

একজন শিল্প উদ্যোক্তা তার সম্পদ, কারখানার নিরাপত্তার জন্য বিমা করেন। কিন্তু তার কারখানার মধ্যে যে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন তাদের নিরাপত্তার জন্য মালিক কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

কিন্তু সিঙ্গপুর কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য বিমা করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে মৃত্যু, বিকলাঙ্গ এবং স্বাস্থ্য বিমা করা বাধ্যতামূলক। সুতরাং বলা যায় মালিকদের মানসিকতা ও সরকারের সঠিক উদ্যোগের কারণে বিমা করা বাধ্যতামূলক করা সম্ভব না।

বাংলানিউজ: বাংলাদেশে বিমা বাধ্যতামূলক করতে বিআইএ কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি-না?

আহসানুল ইসলাম: হ্যাঁ, শ্রমিকদের জন্য বিমা করা বাধ্যতামূলক করতে আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী সপ্তাহে আমরা শ্রম মন্ত্রণালয়ে দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী যাতে শ্রমিকদের বিমা বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাবনা জমা দিবো। পরে আলাপ আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের জন্য বিমা বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছি আমরা।

বাংলানিউজ: শ্রমিকদের বিমার আওতায় আনার প্রতিবন্ধকতা কি বলে আপনি মনে করেন?

আহসানুল ইসলাম: আমি মনে করি এর পেছনে মালিকদের মানসিকতা কাজ করছে। মালিকরা যদি মনে করে তার শ্রমিকদের বিমার আওতায় আনবে তাহলেই সম্ভব। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বিমা করা বাধ্যতামূলক করার কোনও নিয়ম না থাকার সুযোগ নিচ্ছে কারখানার মালিকরা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বিমা করা বাধ্যতামূলক। আমাদের বাধ্যতামূলক না হওয়ায় কোনও একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেলে মালিক তার দায় নিতে চাই না। তাই আমি মনে করি মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

বাংলানিউজ: বিমা আইন সংস্কার সম্পর্কে কিছু বলুন।

আহসানুল ইসলাম: বিমা খাতের উন্নয়নে ‘ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি’ এবং ‘ইন্সুরেন্স অ্যাক্ট-২০১০’ গঠন করা হয়েছে। এই অ্যাক্টের আওতায় কিছু সাব নিয়ম কানুন করতে হয়। ধারাবাহিকভাবে এইসব নিয়ম কানুনের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা প্রাক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়ম কানুনের কাঠামো তৈরি করা সম্পন্ন হলে এ খাতে গ্রহকের আগ্রহ বাড়বে।

বাংলানিউজ: বাংলাদেশে বিমা উন্নয়নে সরকার আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারে?

আহসানুল ইসলাম: আমাদের দেশে বিমা খাত অনেকদিন থেকে বিদ্যমান আছে। যদিও বিমা খাত সবসময় অবহেলিত। ব্যাংক খাতকে সরকার যেভাবে প্রাধ্যন্য দেয় বিমাকে সেভাবে দেওয়া না। সুতরাং বিমা খাতের উন্নয়নে সরকারের অবশ্যই পৃষ্টপোষকতা দরকার। যেকোন দেশে বিমা খাতের উন্নয়নের মূল হলো সরকার। সরকার যদি বিমা খাতের সঠিক কাঠামো তৈরি করে দেয় তবে অবশ্যই এই খাত একটি শক্তিশালী খাতে পরিণত হবে।

বাংলানিউজ: সময় দেওয়ার জন্য বাংলানিউজের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবান।

আহসানুল ইসলাম: বাংলানিউজকেও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১২
এসএনএইচ/সম্পাদনা: জনি সাহা, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান