 |
ঢাকা: বিতর্কিত ডেসটিনি গ্রুপের জব্দ করা ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার জন্য ‘দৈনিক ডেসটিনি’ পত্রিকার পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
রোববার দুপুরে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।
এ লক্ষ্যে রোববার দুপুরে ডেসটিনি পত্রিকার চারজন সাংবাদিক-প্রতিনিধি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেদুর রহমান ‘বাংলানিউজ’-কে জানান, তারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করেন নি। পরে তারা তাদের আবেদন জমা দিয়ে চলে যান।
উল্লেখ্য, এর আগে ডেসটিনি গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারাও একবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করেন নি।
প্রসঙ্গত: গত ২৪ মে ডেসটিনি গ্রুপের ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু’টি (দৈনিক ডেসটিনি ও বৈশাখী টেলিভিশন) বাদে বাকিগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন, তার স্ত্রী ফারাহ দিবা, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক সাইদ উর রহমান ও পরিচালক মেজবাহ উদ্দীন স্বপনের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট (সিআইসি)। এরও আগে ‘ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন’ ও ‘ডেসটিনি-২০০০’- এর ব্যাংক হিসাব জব্দ করে এনবিআর।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ডেসটিনি গ্রুপের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আগেই গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এখান থেকে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে।
ডেসটিনি গ্রুপের যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে সেগুলো হলো- ‘ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’, ‘ডেসটিনি শপিং সেন্টার’, ‘এয়ার ডেসটিনি’, ‘ডেসটিনি ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ’, ‘ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন’, ‘আলীশা ডেসটিনি এগ্রো কমপ্লেক্স’, ‘ডেসটিনি হিটাচি ইলেকট্রিক ইন্ডাস্ট্রিজ’, ‘ডায়মন্ড বিল্ডার্স’, ‘ডেসটিনি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’, ‘ডেসটিনি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল’, ‘ডেসটিনি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন’, ‘ডেসটিনি প্রিন্টিং প্রেস’, ‘ডেসটিনি এডুকেশন অ্যান্ড হেল্থ ফাউন্ডেশন’, ‘ডেসটিনি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’, ‘ডেসটিনি সাসকো প্রপার্টিজ’, ‘কনফিগার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’, ‘ডেসটিনি বিল্ডার্স’, ‘ডেসটিনি টি লিমিটেড’, ‘ডেসটিনি সিকিউরিটি ফোর্স’, ‘ডেসটিনি লাইফ ইন্স্যুরেন্স’, ‘কনফিগার হাউজিং’, ‘বন্ধিশাহী কোল্ড স্টোরেজ’, ‘বেস্ট এয়ার’, ‘ডেসটিনি কনজ্যুমার প্রোডাক্ট’, ‘ডেসটিনি এয়ার সিস্টেমস’, ‘ডেসটিনি নিহাজ জুট স্পিনার্স’, ‘হাইটেক ফুড প্রোডাক্ট’, ‘ডিটুকে এক্সপ্রেস লিমিটেড’ ও ‘ডেসটিনি এনভায়রন সেভিং এনার্জি লিমিটেড’।
বাংলাদেশ সময়: ১৮০২ ঘণ্টা, আগস্ট ৫, ২০১২
এসআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটরjewel_mazhar@yahoo.com