 |
ঢাকা: যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এক হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি বিচারের মুখোমুখি হওয়া থেকে রেহাই পেলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে হাঙ্গেরিতে অভিযুক্ত চালর্স জেনতাই নামের ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি তাকে হাঙ্গেরির কাছে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলীয় উচ্চ আদালত তাকে হাঙ্গেরিতে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
হাঙ্গেরির অভিযোগ, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক ইহুদি তরুণকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালত বুধবার দেওয়া নির্দেশে হাঙ্গেরিতে তাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালত জানায় হত্যাকা- সংঘটনের সময় হাঙ্গেরির আইনে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কোনো আইন ছিলো না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯৫০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন গ্রহণ করেন জেনতাই। পরবর্তীতে সেখানে নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি সমর্থক হাঙ্গেরীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ সময়ই ১৯৪৪ সালে ইহুদি তরুণ পিটার বালাজকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে ওই ঘটনার সময় বুদাপেস্টেই ছিলেন না বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
এদিকে রায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, জেনতাইকে হাঙ্গেরির হাতে তুলে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ২০০৯ সালে তাকে হাঙ্গেরিতে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয়। তবে পরবর্তীতে ফেডারেল আদালত ২০১১ সালে এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।
সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায়। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে জেনতাইকে হাঙ্গেরিতে ফেরত পাঠানোর সব উদ্যোগের পথ রুদ্ধ হলো বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৪০ ঘণ্টা, আগস্ট ১৫, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর