 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলার শিক্ষার্থীরা।
তারপরও অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার প্রয়াসে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সাতক্ষীরার প্রাচীন এই কলেজটি বর্তমানে এ অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে সোনার হরিণের মতো।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালে ৩০ একর জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে প্র্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কলেজের সার্বিক কার্যক্রম চলতো। পরে কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ উমাপদ দত্তের প্রচেষ্টায় কলেজের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়।
এরপর ১৯৮০ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী, ১৫টি বিষয়ে অনার্স ও ২টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে।
এছাড়া এইচএসসি ও ডিগ্রি পর্যায়ে রয়েছে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী।
সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ছাত্রছাত্রী এ কলেজে অধ্যয়নরত। এদের জন্য কলেজে দু’টি ছাত্র হোস্টেল, দুটি একাডেমিক ভবন, একটি মসজিদ, কলেজের উত্তর পাশে রয়েছে সুবিশাল লেক।
ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও মনোরম করার জন্য ১৫টি সেমিনার গ্রন্থাগারসহ রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থগার।
এছাড়াও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৭টি বিজ্ঞানাগার ও একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাবও রয়েছে।
কলেজে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোভার স্কাউট ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও এর বাইরে রয়েছে স্বেচ্ছাসেবী রক্ত দানকারী সংগঠন ‘মুক্ত অঙ্গন’।
দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মাহাফুজা বাংলানিউজকে জানান, কলেজে ছাত্রদের জন্য হোস্টেল রয়েছে। কিন্তু, মেয়েদের জন্য কোনো হোস্টেল নেই। এটা মেয়েদের জন্য খুব সমস্যার।
তিনি বলেন, `আমরা অনেক মেয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসা বাড়িতে ভাড়া থাকি। বর্তমানে কলেজে একটি ছাত্রী হোস্টেলের অনেক বেশি প্রয়োজন।`
একই দাবি, বাংলা অনার্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাবিনা, ইংরেজি বিভাগের জেসমিনসহ একাধিক ছাত্রীর।
বর্তমানে এ কলেজে ৭৯টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রমোশন ও বদলির কারণে শূন্য রয়েছে ১৬টি পদ। এবং ৩য় ও ৪থ শ্রেণির ১৯টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১০টি পদ।
১৯৯৩ সালে ৬৫০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তির সুযোগ দিয়ে এ কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের চাহিদার তুলনায় সেটি ছিল খুবই নগন্য। যদিও পরবর্তীতে বেশ কিছু আসন বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০৯ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ এস.এ.এম. আব্দুল ওয়াহেদের চেষ্টায় ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে গণিত, রসায়নবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল বিভাগে নতুন অনার্স কোর্স চালু হয় ২শ আসন নিয়ে। বর্তমানে কলেজে অনার্স কোর্সে আসন সংখ্যা ১ হাজার ৪৯০টি।
অনার্স কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, গনিত, রসায়নবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। এছাড়াও মাস্টার্স রয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে।
কলেজের চাহিদা অনুযায়ী, আরও ৫টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করার চাহিদা জানানো হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
বিষয়গুলো হলো দর্শন, বাংলা, ইতিহাস, অর্থনীতি ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ।
সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা কলেজে থাকা সত্ত্বেও অনেক বিষয়েই মাস্টার্স কোর্স না থাকায় এ জেলার অনেক ছাত্রছাত্রী মাস্টার্স পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মণ্ডল বাংলানিউজকে জানান, কলেজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি টাকার কাজ চলছে। এর মধ্যে- তিনতলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন, চারতলা বিশিষ্ট একটি মহিলা হোস্টেল, ও একটি দ্বিতল লাইব্রেরি ভবনের কাজ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ সময়: ০৮০৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩,২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর
আগামী শনিবার পড়ুন বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ বিষয়ে প্রতিবেদন