৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বুধবার মে ২২, ২০১৩ ১২:১৮ পিএম BDST banglanew24
20 Jul 2012   05:35:47 PM   Friday BdST
E-mail this

রমজান সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
রমজান সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

রমজান সম্পর্কে অনেক শব্দ আমরা সচরাচর শুনে থাকি, কিন্তু আমাদের অনেকেই এসবের অর্থ বুঝি না। আসুন রমজান সম্পর্কিত কিছু শব্দের সাথে পরিচিত হই।
 
রামাদান বা রমজান মাস হচ্ছে ইসলামিক পঞ্জিকার নবম মাস, এই মাসে তাবত দুনিয়ার মুসলিমরা পবিত্র সাওম ব্রত পালন করেন। বছর ঘুরে এই মাস মুসলিমদের জন্য আত্মন্নোয়ন, ইবাদাত বন্দেগিসহ নিজেকে সম্পূর্ণরূপে মহান আল্লাহর কাছে সমর্পন এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সুন্দর সময় যাপনের বারতা নিয়ে আসে।

এই মাসের নাম এসেছে আরবি ‘‘রামাদ’’ শব্দ থেকে। ‘‘রামাদ’’ অর্থ ‘‘তপ্ত’’ বা ‘‘শুষ্কতা’’, প্রথম রামাদান মাস পালিত হয়েছিল গ্রীষ্মে, সে জন্যই এমন নাম করণ করা হয়েছে। নাম করণের আরেকটি সাংকেতিক কারণ হচ্ছে, গ্রীষ্মের সূর্য যেমন পৃথিবীকে দগ্ধ করে, তেমনি এই মাস সব পাপকে পুড়িয়ে দূর করে দেয়।

আরবী শাবান মাসের শেষে ‘‘হিলাল’’ বা নতুন চাঁদ আকাশে উঠলে রামাদান মাস শুরু হয়। যেহেতু হিজরি সাল চন্দ্র মাসের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়, সেজন্য আরবি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনে হয়। প্রায় সব মুসলিম দেশেই একটি চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করা হয় নতুন চাঁদ ওঠার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

এ মাসে সম্ভাষণ: রামজান মাসের শুরুতে মানুষ সাধারণত ‘‘রমজানুল মুবারক’’ বলে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়। এর অর্থ হচ্ছে ‘‘পবিত্র মাহে রমজানের অভিনন্দন’’।

আরেকটি প্রচলিত সম্ভাষণ হচ্ছে ‘‘রামজানুল করিম’’, এর অর্থ ‘‘মহৎ রমজান’’। যেহেতু এই মাস মুসলিমদের জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বারতা নিয়ে আসে, তাই এই মাসের মহত্ব মুসলিমদের কাছে অপরিসীম।

রোজা বা সাওম পালন: ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সাওম অন্যতম। সাওম ইবাদাতের একটি স্বতন্ত্র মাধ্যম এবং রমজান মাসে সব প্রাপ্তবয়স্ক সক্ষম মুসলিমের ওপর ফরয। সাওম বলতে সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং যৌন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার সাথে সাথে সব ধরনের নেতিবাচক কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ ও তাঁর ইবাদাত করাকে বোঝায়।

ইমসাক বলতে সাওম শুরু এবং ফজরের আযানের পূর্বের মুহূর্তকে বোঝানো হয়। এই সময়টুকু খুবই সংক্ষিপ্ত।

কাযা: কাযা একটি আরবী শব্দ। এর অর্থ ‘‘পরিপূরক’’। রমজাম মাসে ভ্রমণ, অসুস্থতাসহ নানা কারণে ছুটে যাওয়া সাওম পরে করে দেওয়াকে কাযা আদায় বলে। এই সাওমের কাযা ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার দিন ব্যতিত বছরের যে কোনো দিন করা যায়।

ফিদিয়া: ফিদিয়া হচ্ছে ছুটে যাওয়া সাওমের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ। যদি কেউ সাওম পালনে সক্ষম না হয় অথবা কিছু সাওম পালন করা অবস্থায় কোনো বড় ভুল করে থাকেন, তাহলে তার ফিদিয়া দিতে হয়, এটা আদায় হতে পারে গরীবদের খাবার বা অর্থ দিয়ে সাহায্য করা অথবা কোনো হালাল পশু কুরবানি করার মাধ্যমে। ফিদিয়া বৈশিষ্ট্যগতভাবে কাফফারা থেকে আলাদা।

কাফফারা: ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম ভঙ্গকারীর জন্য কাফফারা হচ্ছে অর্থদণ্ড স্বরূপ। সাওমের কাফফারা স্বরুপ একজন মুসলিমকে ধারাবাহিকভাবে ৬০ দিন সাওম পালন করতে হবে। যদি তিনি সাওম পালনে সক্ষম না হন, তাহলে ৬০ জন মানুষকে খাওয়াতে হবে অথবা সমপরিমাণ অর্থ দান করে দিতে হবে। যদি কেউ কাফফারা স্বরুপ সাওম পালন শুরু করেন এবং কোনো কারণে (নারীদের পিরিয়ড ব্যতিত) ৬০ দিন শেষ হওয়ার আগেই কোনো দিন সাওম ভঙ্গ হয়ে যায় তাহলে আবার তাকে শুরু থেকে ৬০ দিন ধারাবাহিকভাবে সাওম পালন করতে হবে।

অনুবাদ: মোহাম্মাদ রেজাউর রহমান, শিক্ষার্থী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
সম্পাদনা: শিমুল সুলতানা
মেইল (ইসলাম ডেস্ক): bn24.islam@gmail.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান