 |
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর জন্য চারটি পুরোনো বিমান কিনতে চেয়েছে সরকার।
অপেক্ষাকৃত নতুন মডেলের পরিবহন-বিমান উল্লেখ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত পুরনো চারটি বিমান কিনতে চাওয়া হয়েছে।
সি-১৩০ মডেলের ই সিরিজের সুপরিসর পরিবহন বিমান চারটি পুরনো হলেও প্রয়োজনীয় মেরামত (ওভারহোলিং) করে দিবে যুক্তরাষ্ট্র। সবমিলিয়ে এ জন্য বাংলাদেশকে ১৮০ মিলিয়ন ইউএস ডলার খরচ করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান।
বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশিত ‘প্যাকেজে’র আওতায় এ বিমানগুলো নেওয়ার পাশাপাশি বিমানবাহিনীর অন্যান্য বিমানের জন্য ২০ রোলস রয়েস টি-৫৬ ইঞ্জিন এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতি (স্পেয়ার পার্টস) সংগ্রহ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
বিমান বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, বাংলাদেশের করা অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি এরই মধ্যে বিমানগুলো সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানতে পেরেছি।
সুপরিসর ও স্বল্প উচ্চতা দিয়ে উড়ে বেড়াতে সক্ষম সি-১৩০ পরিবহন বিমান যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়াও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বর্তমানে পুরনো মডেলের চারটি পরিবহন বিমান রয়েছে। ১৯৬০ ও ৬২ সালের মডেলের সি-১৩০বি মডেলের এই বিমানগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ফলে এখনো পুরোমাত্রায় সচল রয়েছে।
সি-১৩০ মডেলের নতুন সিরিজের পরিবহন বিমানের প্রয়োজনীয়তার কথা বিমান বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই ভেবে আসছে।
সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত পাঁচদিনের অনুশীলনে অপেক্ষাকৃত নতুন মডেলের পরিবহন বিমানের কথা বিশেষভাবে অনুভব করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের ‘এক্সারসাইজ কোপ সাউথ ২০১২’ নামের ওই অনুশীলনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০বি, একটি এন-৩২ পরিবহন বিমান এবং প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের দুটি সি-১৩০এইচ পরিবহন বিমান অংশ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের লেফটেন্যান্ট ক্যামি কুইন বুধবার এক ইমেইলে বাংলানিউজকে এ সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘সে সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের যুক্তরাষ্ট্রের সি-১৩০ এইচ (হারকুলেস) মডেলের বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও পরিচালনা এবং মেরামতের প্রাথমিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।’
প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের বিমান প্রকৌশলী ও কেন্টাকি এয়ারগার্ডের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার সার্জেন্ট মার্ক ক্রেন ওই অনুশীলনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার সার্জেন্ট মনিরুজ্জামানকে সি-১৩০ এইচ মডেলের বিমান চালনার প্রশিক্ষণ দেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ওই অনুশীলনকালীনই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সি-১৩০ মডেলের নতুন সিরিজের বিমানের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হয় বলে বিমান বাহিনী সূত্রের খবর।
এরপরই বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদনক্রমে কূটনৈতিক চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার বাংলানিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি (ইউএস-ডিএসসিএ) চারটি সি-১৩০ মডেলের ই সিরিজের বিমান বাংলাদেশকে দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্যবহৃত এ বিমানগুলোই বাংলাদেশ কিনে নেবে।
ইউএস-ডিএসসিএ’র দরপত্রের মাধ্যমে বিমান চারটি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে সরবরাহ করা হবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার ইউএস-ডিএসসিএ যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকে বাংলাদেশকে বিমান সরবরাহের ব্যাপারে অবহিত করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির আগে কংগ্রেসকে জানানোর বাধ্যবাধকতা থেকেই এ নোটিশ দেয় ডিএসসিএ।
মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আরো অবদান রাখা, এবং উগ্র ও চরমপন্থি সংগঠন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘সাপোর্ট অপারেশনস টু কাউন্টার ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিস্ট অর্গানাইজেশনস শীর্ষ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে এসব বিমান ও সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে বলেও ইউএস-ডিএসসিএ জানায়।
বাংলাদেশ সময়: ০১৫৫ ঘণ্টা, মে ২৪, ২০১২
একেআর/এমএমকে/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর