 |
| ছবি: জনী/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
সংসদ ভবন থেকে: মহানগরী ঢাকার যানজট মারাত্মক অবস্থা ধারণ করেছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেছেন, ঢাকার জনসংখ্যার বাড়তি চাপের কারণে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা প্রকট হওয়ার পাশাপশি অন্যান্য নাগরিক সুবিধাগুলো ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংসদনেতা একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকমুখি জনস্রোতকে রোধ করার জন্য পৃথকভাবে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি পরিকল্পনা কমিশন। তবে সরকারের গৃহীত ষষ্ঠ পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনায় নগরায়ন সমস্যাকে প্রাধান্যপ্রাপ্ত দশটি খাতের মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।”
সংসদনেতা বলেন, “দরিদ্র জনগোষ্ঠী ঢাকা শহরে কর্মসংস্থানের জন্য এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের দারিদ্র্য বিমোচন হয় না এবং শহরে দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে তেমন সহায়ক হয় না।”
ঢাকার বস্তিতে বসবাসকারী ৮০ ভাগ পরিবারের আয় দারিদ্র্যরেখার নীচে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরে বলেন, “বর্তমানে রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা মেগাসিটিরগুলোর অন্যতম। নাইজেরিয়ার লাগোসের সঙ্গে একইসাথে সর্বাধিক বেড়ে ওঠা মেগাসিটি হলো ঢাকা। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ ভাগ বাস করবে ঢাকায়। যা বর্তমানে ১০ শতাংশের বেশি।”
একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “চলমান ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সর্বশেষ বছর ২০১৫ সালে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত হবে, যা গড় হিসাবে প্রতিবছর ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।”
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাবদ আয় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির অনুপস্থিত সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, বর্তমান সরকার সেসব দেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা ও সামাজিক আচার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। ভবিষ্যতে যাতে শিরশ্ছেদ এড়ানো যায়, সে সম্পর্কে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।”
ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, “বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ যুগোপযোগী, কল্যামুখি ও আধুনিক করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।”
অপু উকিলে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য মোট ১৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪টি নতুন প্রকল্প এবং ৫ হাজার ৩৮৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সংশোধিত প্রকল্প সংশোধিত প্রকল্পসহ মোট ২১ হাজার ৯৯৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার ২২৮ কোটি ৯১ লাখ ব্যয়ে ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে, বর্তমানে যার কাজ চলছে। আগামী ২/৩ বছরে মধ্যে এর সুফল পাওয়া যাবে।”
ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা-২০১২ এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৩ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০১২
এসএইচ/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর;জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com