 |
ঢাকা: লিবিয়ায় উপজাতীয়দের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১০৫ জন ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছে আরো ৫শ জন। বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) সরকারের মুখপাত্র নাসের আল মানা এ তথ্য দিয়েছেন।
কয়েক দশক পর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে পাহাড়ি এলাকায় এমন ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
মুখপাত্র নাসের জানান, লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে পাহাড়ি এলাকায় গত সোমবার সেনা মোতায়েনের পর আর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এ এলাকার তিনটি শহর হলো- জিনতান, মিজদাহ এবং শেগেগা।
গত বছর মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ার নতুন সরকারের জন্য সপ্তাহব্যাপী এ সহিংসতার ঘটনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজাতীয় এলাকায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সামর্থের ওপরেই লিবিয়ার স্থিতিশীলতা অনেকটা নির্ভর করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সংর্ঘষ বাঁধে মূলত জিনতানের সশস্ত্র গ্রুপ যারা স্থানীয় মিজদাহ এলাকার গুনতারা উপজাতীয়দের সমর্থনপুষ্ট এবং শেগেগা ভিত্তিক মাশাশিয়া উপজাতী সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে।
এই উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা অবশ্য গাদ্দাফি আমল থেকেই চলে আসছে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই উপজাতী গ্রুপগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।
সর্বশেষ সংঘর্ষের এ ঘটনাটি ঘটে একটি তল্লাশি চৌকিতে জিনতানের এক উপজাতী সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে। জিনতান সশস্ত্রগ্রুপের অভিযোগ, মাশাশিয়া উপজাতির লোকেরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ক্ষমতা নেওয়া জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) লিবিয়ার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। সশস্ত্র বিপ্লবের সময় সাধারণ মানুষের হস্তগত হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ সত্ত্বেও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি সরকার। এসব অবৈধ অস্ত্রই এখন লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৫০ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর