 |
ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সবগুলো ডিসি-১০ উড়োজাহাজ এখন গ্রাউন্ডেড। আর এ কারণে বিমানের ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বিমানের বহরে বর্তমানে তিনটি ডিসি-১০ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ডিসি-১০ চার মাস ধরে বিমানের হ্যাঙ্গারে পড়ে আছে। সাম্প্রতিকালে হ্যাঙ্গারে স্থান পেয়েছে আরেকটি ডিসি-১০। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বশেষ সচল উড়োজাহাজটি যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে গ্রাউন্ডেড হয়ে যায়।
বিমান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, বিমানের ডিসি-১০ (এসিআর-রেজিস্ট্রেশন নাম) উড়োজাহাজটির রাডার সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড করা হয়। এছাড়া এসিআর একটি ইঞ্জিনে ভাইব্রেশন হতে থাকে। ত্রুটি মেরামত করার পর উড়োজাহাজটির টেস্ট ফ্লাইটও করা হয়। কিন্তু ডিসি-১০ এসিপি এখনো ত্রুটিমুক্ত করা যায়নি।
এদিকে ডিসি-১০ এসিও উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিন নষ্ট। ইঞ্জিনটি বদলাতে হবে। কিন্তু ইঞ্জিন ওভারহোলিং করে বদলানোর কোনো উদ্যোগই নেই বিমানের।
অন্যদিকে ডিসি-১০ এসিপি উড়োজাহাজটি চার মাসের বেশি সময় ধরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে পড়ে আছে। মূলত ইঞ্জিন না থাকায় উড়োজাহাজটি সচল করা যাচ্ছে না। ডিসি-১০ এসিপির মেরামত করার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে গ্রাউন্ডেড করা হয়। তবে এর আগে থেকেই উড়োজাহাজ হ্যাঙ্গারে নিয়ে আসা হয়।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ডিসি-১০ উড়োজাহাজের ৫টি ইঞ্জিন এখন জার্মানিতে ওভারহোলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ইঞ্জিনের ওভারহোলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে বিমান এসব ইঞ্জিন আনতে পারছে না।
ডিসি-১০ উড়োজাহাজ সম্পর্কে বিমানের এক বৈমানিক নাম না প্রকাশের শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, ৩০ বছরের পুরনো ডিসি-১০ দিয়ে বিমানের আর ফ্লাইট পরিচালনা করা উচিত নয়। কারণ, এ উড়োজাহাজ এবং এর কোনো যন্ত্রাংশ এখন আর তৈরি হয় না। এ উড়োজাহাজ দিয়ে বিশ্বের আর কোনো এয়ারলাইন্স যাত্রী পরিবহন করে না। যে কারণে এর মেরামত অনেক ব্যয়বহুল। তাই এই উড়োজাহাজগুলোকে আর মেরামত না করে এর বদলে বোয়িং উড়োজাহাজ ভাড়া করা চালানো ভালো।
বাংলাদেশ সময়: ০০১৯ ঘণ্টা, জুন ১, ২০১২
আইএইচ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর