 |
ঢাকা: নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতি কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির ওপর সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
বুধবার বেলা ১১টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তাগিদ দিয়েছেন।
সচিব কমিটির এ বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি দমনে সরকারের সচিব হিসেবে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
বিভাগীয় মামলা এবং অডিট-আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি করারও তাগিদ দেন তিনি।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সুষ্পষ্ট’ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি কমিশনের চাহিদা মোতাবেক প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এছাড়া সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার তথ্য অধিকার কমিশন গঠন করেছে। কমিশনকে সহায়তা করার পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় জনগণকে প্রদত্ত অধিকার সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতেও সচিবরা ভূমিকা রাখতে পারেন।
অন্যান্যের মধ্যে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশ্লিষ্টতা আছে এ ধরনের প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে ও যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করা এবং জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ই-গভর্ন্যান্স কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সচিবদের বিশেষ ভূমিকা পালনের আহবান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় তাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে এলেও জনসংখ্যাকে এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল করা সম্ভব হচ্ছে না। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমি স্বল্পতা ও এর সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করার লক্ষ্যে সরকার সার্বিক ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কতিপয় অবৈধ দখলদার কর্তৃক দেশের বিভিন্ন নদী, খাল, লেকের উপর অবৈধভাবে বস্তি, দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে এসব সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেগুলো সরকারের দখলে নিয়ে আসতে হবে এবং উদ্ধারকৃত জমি যাতে আর বেদখল না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও দারিদ্র্য নিরসনে একটি বাড়ি ‘একটি খামার প্রকল্প’, ভূমিহীনদের পূনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প, গ্যাস, বিদ্যুতের চাহিদা নিরসন এবং বাসস্থান সংকট নিরসনে স্যাটেলাইট শহর গড়ার প্রকল্পকে বিস্তৃত করার দিকে নজর দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী রূপকল্প-২১ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য আবাসন এবং আধুনিক মানসম্মত নগরজীবন নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সব বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের যথেষ্ট সফলতা থাকা সত্ত্বেও প্রচারের অভাবে জনগণ সকল তথ্য জানতে পারছে না। স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের ফলে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। সুতরাং সরকারি কর্মকাণ্ডের যথাযথ প্রচারের ব্যবস্থার করতে হবে। এ ব্যাপারে সচিবদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি’র তুলনায় ১৩ হাজার ৯’শ ২৩ কোটি টাকা বেশি।
বাংলাদেশ সময়: ১১২৩ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১২
এসআর/আরআর/এটি/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর