 |
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আগের বার ক্ষমতায় থাকার সময় আমি গ্রামীণব্যাংককে অনেক সহযোগিতা করেছি। আর আজ তারাই আমার বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বৃহস্পতিবার গ্রামীণব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনেকেই আলোচনায় অংশ নেন। এতে নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরে অতিরিক্ত সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে থাকা এবং পদ হারানোর পর ভূমিকা ও গতিবিধি নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকের এ আলোচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণব্যাংকের এমডি পদ না থাকা এবং বিশ্বব্যাংকের পদ্মাসেতু নির্মাণ চুক্তি বাতিলের মধ্যে যোগসূত্র থাকার যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, “আমাদের গত সরকারের সময় গ্রামীণফোনের কার্যক্রম শুরু এবং ফোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার জন্য সব ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। আর এখন সেই তারাই আমাদের বড় শত্রু।”
ড. ইউনূসের গ্রামীণব্যাংকের এমডি পদ হারানোর প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, “বয়সসীমার আইন আছে। তাছাড়া এ নিয়ে তিনি (ইউনুস) নিজেই আদালতে গেছেন। এখন এটা নিয়ে আমরা কী করতে পারি?”
সূত্র জানায়, আলোচনা অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ভারসাম্য রেখে ড. ইউনূসের বিষয়ে কথা বলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
বৈঠকে বিভিন্ন আলোচনার সূত্র ধরে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “ড. ইউনূসের বিষয়ে বিশ্বের মানুষের মনোভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।”
বয়সসীমা অতিক্রম হওয়ার পরও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণব্যাংকের এমডি থাকা এবং তার বেতন ভাতাসহ আর্থিক সুবিধা নেওয়া আইনসিদ্ধ কি না বা কোনো অনিয়ম আছে কি না তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয় মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের মূল এজেন্ডাও ছিল গ্রামীণব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়ার অনুমোদন।
বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, আগস্ট ০২, ২০১২
এসকে/এআর/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল ও রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com