 |
ঢাকা: রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কারা কাজ করছে তা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। বিমানের সকল রুটে লোকসানের পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিমানের অব্যাহত লোকসান প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনও দিতে বলেছে কমিটি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৩৮তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
কমিটির সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, মইনুদ্দীন খান বাদল, মো. ফরিদুল হক খান, শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং শেফালী মমতাজ বৈঠকে অংশ নেন । বৈঠকে বিমান চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিমান চেয়ারম্যান কমিটিকে জানান, ‘‘গত এক বছরে বিমান ৬৩২ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। ঢাকা-সিঙ্গাপুর ঢাকা এবং ঢাকা-হংকং-ঢাকা রুটসহ সব রুটে বিমান লোকসানে রয়েছে।”
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এটি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কারণে বিভিন্ন রুটে বিমানের ভাড়াও বাড়ানো যাচ্ছে না বলে কমিটিকে জানান জামাল উদ্দীন আহমেদ।
বৈঠকসূত্র জানায়, এসময় মন্ত্রী ফারুক খান বিমানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিমান একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান। তারা সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। অথচ কোনো কিছুতেই তাদের টনক নড়ে না। তিনি বলেন, বিমানের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় না। এমনকি এসব সংবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবাদও জানায় না কর্তৃপক্ষ। এতে প্রমাণিত হয়, বিমান নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, তা সত্য। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।
এদিকে সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বিমান জানিয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে জ্বালানি খরচের পরিমাণ ছিলো ২১০০ কোটি টাকা। যা তার আগের বছরের চেয়ে ৫২০ কোটি টাকা বেশি। ২০১০-১১ অর্থবছরে তুলনায় ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ আয় বাড়লেও খরচ বেড়েছে ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও প্রভাবশালী সদস্য মইনুদ্দীন খান বাদল এসব তথ্য বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “সকল এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো লাভ করলেও বিমান করতে পারছে না। বিমান চেয়ারম্যান জানিয়েছেন গত এক বছরে ৬৩২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হলেও বিমান সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলছে। যদি তাদের ভর্তুকি নিতেই হয় তাহলে সেটা প্রধানমন্ত্রীকে তারা জানিয়ে দিক।”
বৈঠকে বিমানমন্ত্রীর বক্তব্যের কথা তুলে ধরে কমিটির সদস্য মইনুদ্দীন খান বাদল বাংলানিউজকে বলেন, “বিমান সব রুটে লস দিচ্ছে। তাহলে এই রুট প্ল্যানিং কে করেছে? কোন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ৭৭৭ উড়োজাহাজ আনা হয়েছে? কারা এই এক্সপার্ট? এগুলো সংসদীয় কমিটি জানতে চায়।”
তিনি আরো বলেন, “সংসদীয় কমিটি বিমানের অব্যাহত লোকসানের কারণ খুঁজে দেখতে চায় । এজন্য এক মাসের মধ্যে সকল তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি সমস্যার গভীরে ঢুকে দেখতে চায় সমাধান কিভাবে করা যায়।”
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিমানের ব্যবস্থাপনাকে আরো গতিশীল ও জবাবদিহি করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সুপারিশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫, ২০১৩
এসএইচ/সম্পাদনা: মীর সানজিদা আলম ও রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর