 |
নীলফামারী: ধান কাটা-মাড়াই পুরো দমে শুরু হয়ে গেছে। অথচ নীলফামারীতে এখনও শুরু হয়নি বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান। ইতোমধ্যে বাজারে ধানের দাম কমে গেছে।
এদিকে কৃষকরা ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে লোকসান।
নীলফামারী জেলায় এবার ৮০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে কৃষকরা। উৎপাদন হয়েছে সোয়া ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান। কিন্তু সরকারিভাবে এখনও ক্রয় অভিযান শুরু না হওয়ায় কৃষকরা পাচ্ছে না ধানের ন্যায্য দাম।
প্রতি বিঘা জমিতে ধান আবাদে বীজ, চাষ, রোপণ, নিড়ানী, সার, সেচ ও কাটা-মাড়াইয়ে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ধান ফলেছে ১৫ থেকে ১৬ মন। জেলার হাট-বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।
প্রতি বিঘা জমির ধান বিক্রি কৃষকরা পাচ্ছে ৭ হাজার টাকার কিছু বেশি। ফলে লাভের আশায় ধান আবাদ করে তাদের এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জেলা খাদ্য বিভাগ সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ২ হাজার ৪৭৭ মেট্রিক টন ধান ও মিলারদের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করবে। গত ৩ মে থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করার সরকারি নির্দেশনা থাকলে নীতিমালা দেরিতে আসার অজুহাতে এ পর্যন্ত তা শুরু হয়নি।
নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কৃষক যোগেন্দ্র নাথ (৫০) জানিয়েছেন, আবাদে যে খরচ হয়েছে, ধান বিক্রি করে সে টাকা উঠছে না। এভাবে যদি কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পায়, তাহলে ধান আবাদ ছেড়ে দিয়ে বিকল্প ফসল আবাদ করতে হবে।
জেলা শহরের ব্যবসায়ী আজিজুল হক অটো রাইস মিলের মালিক জানান, সরকার ধান চাল কেনার ঘোষণা দেওয়ার পরেও খাদ্য বিভাগ হাত পা গুটিয়ে বসে রয়েছে। এ কারণে বাজারে ধানের ক্রেতা নেই বললেই চলে। কাটা মাড়াইয়ের ভরা মৌসুমে কৃষক ধান আবাদ করে লোকসান গুনছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল জলিল ম-ল বাংলানিউজকে জানান, সংগ্রহ নীতিমালা দেরিতে আসার কারণে ধান চাল কেনা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৮ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০১২
সম্পাদনা: রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর