 |
| ছবি: আশিক/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: পাবলিক টয়লেট সংকটে প্রতিদিন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নারীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বেশি।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুরুষদের জন্য পাবলিক টয়লেট থাকলেও নারীদের জন্য তেমন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা অনেক কম। তার ওপরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে টয়লেটের কাজ সারছেন সাধারণ মানুষ।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, রাজধানীতে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা মাত্র ৬৯টি।
১৪০ বর্গমাইলের ঢাকায় জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। মানুষের তুলনায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে পরিবেশ দূষণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাবলিক টয়লেটের অধিকাংশই ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছেন নিম্নশ্রেণীর মানুষ।
নগরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা ফার্মগেট। এখানে প্রতিদিন লাখ লাখ লোকের জনসমাগম ঘটে। এমন জনবহুল এলাকায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা মাত্র ২টি। এগুলো হলো, ফার্মগেট পার্কের পাবলিক টয়লেট ও ইন্দিরা রোডের পাবলিক টয়লেট।
এ ২টি পাবলিক টয়লেটের সন্ধান অনেকেই জানেন না। তাই ফার্মগেট এলাকার আশপাশে সব সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।
তেজগাঁও কলেজের ছাত্র মমিনুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘‘পাবলিক টয়লেট যথাযথ জায়গায় না হওয়ায় প্রতিনিয়ত নগরীর পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। চলাফেরা করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আমাদের। সিটি করপোরেশনের উচিত, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।’’
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলীর পাবলিক টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। গাবতলী বাস টার্মিনালের সর্বত্রই নোংরা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই এখানে মানুষ যেতেও ভয় পান।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঠিক পেছনে ঢাকা মেডিকেল থেকে ফুলবাড়িয়া রোড পর্যন্ত রাস্তায়ও সব সময় দুর্গন্ধ লেগেই থাকে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাবে।
বিভিন্ন বাস টার্মিনাল বা জনাকীর্ণ এলাকায় পাবলিক টয়লেট থাকলেও অনেকে এসব টয়লেটের অবস্থান জানেন না। জানলেও অপরিচ্ছন্নতার কারণে এগুলো ব্যবহার করেন না কেউ।
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে কমলাপুর রেলস্টেশনের মতো বিশাল এলাকায়। এখানে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নেই কোনো পাবলিক টয়লেট।
কমলাপুর রেলস্টেশনের আশপাশের ছিন্নমূলেরা অধিকাংশ সময় যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগের কারণে এ এলাকায় নোংরা-আবর্জনা বাড়ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ-আল হারুন পাবলিক টয়লেট বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘ঢাকা নগরে পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণে এদিকে নজর দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে নারীদের টয়লেটের ব্যাপারেও আমরা চিন্তা করছি, যাতে দ্রুত তাদের সমস্যা লাঘব করা যায়।’’
তিনি বলেন, ‘‘সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি-সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে পরিবেশ রক্ষায়।’’
‘‘স্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে পাবলিক টয়লেট বাড়ানোর কাজ শুরু করবো। এতে সফলতা এলে তা আরো বাড়ানো হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘কর্মক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই তাদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।’’
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে যেসব পাবলিক টয়লেট আছে, সেগুলোতে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ৩, ৫ ও ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী থেকে আসা স্কুলশিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘‘আমাদের কাছ থেকে ৫ টাকার বদলে ১০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে টয়লেট হওয়া চাই স্বাস্থ্যকর। এর সংখ্যাও বাড়ানো দরকার।’’
এদিকে কোনো কোনো এলাকায় পাবলিক টয়লেট না থাকলেও কোথাও কোথাও আবার একাধিক পাবলিক টয়লেট দেখা গেছে। পোস্তগোলা, দয়াগঞ্জ, গোলাপবাগ স্টেডিয়াম মার্কেট, সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া, কাপ্তানবাজার, শ্যামবাজার, লালকুঠি মার্কেট, কোর্ট হাউজ স্ট্রিট, মালিটোলা, সদরঘাট, বাহাদুরশাহ পার্ক, মাজেদ সরদার রোড, আগা সাদেক রোড, নিমতলী মার্কেট, চকবাজার, আজিমপুর, নাজিমউদ্দিন রোড, বছির উদ্দিন পার্ক, নবাবগঞ্জ, খিলগাঁও, গুলিস্তান, মাদাররটেক, মুক্তাঙ্গন, বাসাবো, রামপুরা, রামপুরা নিউমার্কেট, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, গাবতলী, মহাখালী, গুলশান কলমীলতা মার্কেট, মোহাম্মদপুর, উত্তরা জসিম উদ্দিন ও ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে পাবলিক টয়লেট রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭২৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১২
এমআইএস/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর