 |
| ছবি: সায়মন/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি মোবারক আলী। বাড়ি নোয়াখালী। গণজাগরণ চত্বরে এসেছিলেন নিজের ভালোবাসার টানে। বাংলানিউজের অস্থায়ী সেন্টারে কথা হয় এই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে।
তিনি বললেন, “বাবা এটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। তোমাদের মুক্তিযুদ্ধ। তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ। ধন্যবাদ তোমাদের বাবা।”
বলছিলেন সেই ভয়ঙ্কর দিনের অভিজ্ঞতার কথা।
সেদিন সময় বিকেল ৫টা ছিল। বারটা ঠিক মনে নেই। আমি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরেছি। কীভাবে যেন জানতে পেরেছিল তারা। আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। আমি ছিলাম বাড়িতেই। কোনো মতে বাড়ির পেছন দিয়ে বের হয়ে একটু এগিয়ে যাই। দেখি চারদিকে পাক বাহিনী ঘিরে রেখেছে।
আর কোনো পথ না পেয়ে বাড়ির পাশে ঢোল কমলির গাছের নিচে ঢুকে পড়ি। পাক বাহিনী বাড়িতে ঢুকে খুঁজতে থাকে। কাঁপতে থাকে আমার শরীর। সেদিন হয়তো বাঁচতাম না। কোনোভাবে বাঁচি সেদিন। দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় বসেছিলাম।
কথা বলতে বলতে ভাবতে থাকেন। হয়তো মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ কোন স্মৃতি তাকে তাড়া করে। ভাবিয়ে তোলে।
মোবারক আলী মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। অংশ নিয়েছেন সম্মুখ যুদ্ধে। কিন্তু কোনো অংশেই ছোট করে দেখছেন না শাহবাগের গণজাগরণের উত্তাল আন্দোলনকে।
চোখের সামনে দেখেছি, পাক বাহিনীরা এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। সে বারবার নিজেকে রক্ষার জন্য তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করছিল। কিন্তু পাকরা তার হাতে ধরে রেখেছে। এগুলো যে কীভাবে সহ্য করেছি বলতে পারব না। সহ্য করার বিষয়ও না। তাই যেসব রাজাকার এভাবে পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছে তাদের ফাঁসির বিকল্প হতে পারে না। অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলছিলেন কথাগুলো।
তিনি আরও বলেন, “এভাবে ধর্ষণ আর খুনের সাজা যাবজ্জীবন কীভাবে হলো বুঝলাম না।”
পাশেই ছিলেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন মজুমদার। তিনি বলছিলেন, “কী বলব পাকদের নির্যাতনের কথা। আজও তাদের নির্যাতনের চিহৃ গায়ে নিয়ে বেড়াই বাবা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭২৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৩
এসএআর/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর