 |
ঢাকা: নানা ধরনের অনিয়মের কারণে চলতি বছরের জুন মাসে ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
অপরদিকে দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত জরিমানা থেকে ১৬ লাখ টাকা মওকুফ করেছে সংস্থাটি।
এসইসি জুন মাসের এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সময়মতো আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে এসইসি। এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা হলো- মেটালেক্স কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক দেলওয়ার হোসেন, মিতা টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, রাসপিট ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক, ফাহাদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, বাংলা প্রসেস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের রিজাউল করিম চৌধুরী, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএমএ মতিন, এম হোসেন গার্মেন্টস ওয়াসিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবিএম কামালউদ্দিন খান, চিকটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রসুল, সজীব নিটওয়ার অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস ১৯৮৭-এর ১২ নম্বর ধারার ৩-এ উপ-ধারা মোতাবেক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
এ ধারাটি পালন না করায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর ২২ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জরিমানা করা হয়েছে।
উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত জরিমানাকৃত অর্থ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুকূলে ইস্যুকৃত ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে নির্দেশনা জারির ১৫ দিনের মধ্যে প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো ও ব্যক্তিকে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়ার বিষয়েও এসইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিংবা চেয়ারম্যানকে জরিমানা করা হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের কোনো ব্যক্তিকে জরিমানা না করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এক লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আর ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব বিবরণী এসইসিকে না দেওয়ার কারণে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন।
এছাড়া প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের প্রস্তাবের প্রসপেক্টাসে ১ দশমিক ১৪১৫ একর ভুয়া জমি দেখানোর মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ লংঘন করায় অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে এসইসি।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে এক লাখ টাকা, প্রতিষ্ঠানটির অডিট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জোহা জামান কাশির রশিদ অ্যান্ড কোম্পানির চাটার্ড অ্যাকাউনটেন্টসকে এক লাখ এবং প্রতিষ্ঠানটির অপর অডিট প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসিহ মুহিত হক অ্যান্ড চাটার্ড অ্যাকাউনট্যান্টকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে মার্জিন লোন নীতিমালা লংঘন করে কয়েকজন গ্রাহককে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার কারণে এনবিএল সিকিউরটিজ লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
মার্জিন লোন নীতিমালা লংঘন করে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন গ্রাহককে ১:২ এর পরিবর্তে ১:৫ থেকে ১:৯ পর্যন্ত মার্জিন ঋণসুবিধা প্রদান করে। যা এসইসির মার্জিন লোন নীতিমালার লংঘন।
প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত এসইসি অনুমোদিত সর্বোচ্চ মার্জিন ঋণ সীমা ১:২।
এদিকে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বরে আজম সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। যা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে এসইসি জরিমানার পরিমাণ ৩ লাখ টাকা কমিয়ে ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।
আর ডিবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড ২০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ পুর্নবিবেচনার আবেদন জানালে তা ১৩ লাখ টাকা কমিয়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।
এছাড়া এম সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ওপর আরোপিত জরিমানার কিস্তির মাধ্যমে দেওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আর ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও গ্রীন ডেল্টা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে এসইসির আইন সঠিকভাবে পরিপালন না করার কারণে শতর্কবার্তা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাংলাদেশ সময়: ১০৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর