 |
ঢাকা: অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হলমার্ক গ্রুপ ভাড়া করা লোকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির হেড অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরে (তালতলা, পশ্চিম কাফরুল) ২০৫/৪, বেগম রোকেয়া স্মরণি প্রধান সড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে মিডিয়ার সমালোচনা করে হলমার্কের কয়েকজন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
এ সময় তালতলা এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
বিকেল চারটায় তালতলা ও পশ্চিম কাফরুল এলাকার দুই শতাধিক মানুষ বেগম রোকেয়া স্মরণিতে প্রধান সড়কে একটি মিছিল বের করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ এবং স্থানীয় যুবক। মিছিলটি তালতলা হয়ে হলমার্কের হেড অফিসের সামনে মানববন্ধন করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দানকারী হলমার্ক গ্রুপের সাইট ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম খান মূলত সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিজেই মাইকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্লোগান দেন- ‘হৈ হৈ রৈ রৈ হলমার্কের শ্রমিকরা যাবে কই’। তার এমন স্লোগানে সুর মেলান ভাড়াটে লোকজন।
মানববন্ধনে রাশেদুল ইসলাম ছাড়াও হলমার্কের আরেক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বুলু বক্তব্য রাখেন।
তারা প্রতিষ্ঠানের ‘বিরুদ্ধে’ অপপ্রচার, হলমার্কের হুমকি’র জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাব চান। এছাড়া হলমার্ক গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪০ হাজার কর্মচারির চাকুরির বিষয়টি বারবার উচ্চারণ করে সহানুভূতি কাড়ার চেষ্টা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অল্প কয়েকজন হলমার্কের প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও অধিকাংশই স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা এসেছেন ডাক পেয়ে। আর কেউ কেউ হলমার্কের হেড অফিস সংলগ্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভাড়াটিয়া, যারা গার্মেন্টস কর্মী।
লুঙ্গি পরিহিত এদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা হলমার্কের কেউ নন। এদের একজন জানান, তিনি পাশের গ্যারেজে কাজ করেন, ডাক পেয়ে এসেছেন। তবে কে আসতে বলেছে তা তিনি জানাননি।
হেড অফিস সংলগ্ন হলমার্কের মালিকের বাসার ভাড়াটিয়া তোফাজ্জল জানান, বাসার মালিকের পক্ষে মানববন্ধন হচ্ছে তাই এসেছেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা মিছিল নিয়ে পশ্চিম কাফরুল এলাকায় হলমার্ক গ্রুপের মালিক তানভীর মাহমুদের ছয়তলা বাসার সামনে যান।
সরেজমিনে সেখানে অপেক্ষা করে দেখা যায়, হলমার্কের পক্ষে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিষ্ঠানের গ্যারেজের সামনে বিস্কুট, কোমল পানীয়, চা, সিগারেট খাচ্ছেন। রাস্তার পাশের কয়েকটি দোকানের সামনে এমন ৫/৭ জন করে কয়েকটি দলকে খেতে দেখা গেছে, যারা প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই মিছিল করেছেন।
এদের কয়েকজনের মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আলাপ করতেও শোনা গেছে।
এদিকে হলমার্কের পক্ষে কৌশলে লোকজনের সহানুভূতি চেয়ে কাফরুল এলাকায় বিভিন্ন পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।
ওই এলাকায় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিপদে-আপদে হলমার্কের পাশে থাকার জন্য গত শবে বরাতে গ্যারেজের সামনে ১০টি গরু জবাই করে খাওয়ানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এদের একজন বলেন, সম্প্রতি গ্যারেজের জায়গাটি জোর করে কিনেছেন। পাশের একটি বাসাও সেভাবে কেনার জন্যও তৎপরতা চলছে।
তিনি বলেন, বিক্রি না করলেও জোর করে বেচতে বাধ্য করবেন হলমার্ক গ্রুপের মালিক।
অপর একজন জানান, হলমার্কের তানভীরের ছেলে কিংবা ছেলের বউ যখন রাস্তায় বের হন তখন তাদের সামনে পেছনে থাকে গাড়ি। এলাকায় প্রভাব অনেক তাদের।
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে অনিয়মের মাধ্যমে আড়াই হাজার কোটি টাকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রয়েছে হলমার্ক গ্রুপ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত করছে। এই অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশও দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
হাউজিং ব্যবসা, পোশাক কারখানা, ফার্ণিচারসহ হলমার্ক গ্রুপের ৮০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
দখল সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে সাভারে হলমার্কের হামলার শিকার হন কয়েকজন সাংবাদিক।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে জনতা হাউজিং পরিবেশ রক্ষা ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাভারের হেমায়েতপুরে-সিঙ্গাইর সড়ক এলাকায় জনতা হাউজিংয়ের জমি দখল করেছে হলমার্ক গ্রুপ।
এসব বিষয় নিয়ে কাফরুলের স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, যতো টাকাওয়ালা হোক না কেন দুর্নীতি করলে বিচার হতে হবে। তা নাহলে দেশে দুর্নীতি বাড়তেই থাকবে।
বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১২
সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর,নিউজরুম এডিটর