৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, বৃহস্পতিবার মে ২৩, ২০১৩ ৪:০৫ পিএম BDST banglanew24
17 Jul 2012   02:50:12 PM   Tuesday BdST
E-mail this

পাকিস্তানের বিপ্লবী কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ


সিয়াম সারোয়ার জামিল
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
পাকিস্তানের বিপ্লবী কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ

পাকিস্তানি এক সাংবাদিক কবি ফয়েজ আহমেদকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি কি কমিউনিস্ট?’ ফয়েজ ভাবলেন কিছুক্ষণ, তারপর উত্তর দিলেন, ‘না, আমি কমিউনিস্ট নই। কমিউনিস্টের বড় পরিচয়, সে একজন কমরেড; যে কমরেড পার্টির বৈধ পরিচয় পত্র বহন করে; একইসাথে তার বিপ্লবী দায়িত্বও পালন করে। এখন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিপি) পাকিস্তানে নিষিদ্ধ, তাহলে আমি কিভাবে কমিউনিস্ট?’

পাকিস্তান- নাম শুনে অনেকেই আতঙ্ক বোধ করেন। উগ্র জঙ্গিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের সমান প্রভাব বিদ্যমান এই দেশে। ফলে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর দীর্ঘসময় ধরেই এখানে কমিউনিস্ট পার্টি ছিল নিষিদ্ধ। তারপরও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে উপমহাদেশে গড়ে ওঠা সাম্যবাদী সাহিত্য আন্দোলনের প্রভাব মৌলবাদী পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়ে। খুব কম সংখ্যক পাকিস্তানি কবি সাম্যবাদী চিন্তা চেতনার অধিকারী ছিলেন, ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ তাদের মধ্যে অন্যতম। উপমহাদেশে প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক হিসেবেও তাকে গণ্য করা হয়।

পাকিস্তানে সাম্যবাদী সাহিত্যের বার্তাবাহক এই কবি জন্মগ্রহণ করেন ১৩ই ফেব্রুয়ারি ১৯১১, পাকিস্তানের শিয়ালকোটে। মৃত্যু, ২০ নভেম্বর, ১৯৮৪। ফয়েজের বাবার নাম সুলতান মুহম্মদ খাঁন, মা ফাতেমা সুলতান ছিলেন বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। ফয়েজের পরিচয় শুধু মার্কসবাদী কবি হিসেবে নয়; সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিক, দার্শনিক, চলচ্চিত্রকার, অনুবাদক একইসাথে একজন সাচ্চা বিপ্লবী হিসেবেও তার সমান পরিচিতি বিদ্যমান।

সাম্যবাদী কবি ফয়েজকে তার মুসলিম পারিবারিক ঐতিহ্যানুযায়ী, মাত্র চার বছর বয়সে স্থানীয় মক্তবে ভর্তি করানো হয়। শিক্ষাগুরু মৌলভী মুহাম্মদ ইব্রাহিম মীরের নিকটে ধর্মীয় দীক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে তাকে প্রেরণ করা হয়। এখানেই তিনি উর্দু, ফার্সি, আরবি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করেন। স্কচ মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করে কিছুদিন পর ভর্তি হন শিয়ালকোটের বিখ্যাত ম্যারি কলেজে। এই কলেজ থেকেই তিনি উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক সম্পন্ন করেন। ম্যারি কলেজের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ইউসুফ সেলিম চিশতী এবং আরবি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল উলামাহ সাঈদ মীর হাসান তাকে সব সময় সাহায্য করতেন। অধ্যাপক মীর হাসান বিখ্যাত দার্শনিক আল্লামা ইকবালেরও শিক্ষক ছিলেন। ফয়েজ লাহোর সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, একইসাথে তিনি লাহোর ওরিয়েন্টাল কলেজ থেকে আরবি সাহিত্যেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

সামাজিক, রাজনৈতিক দর্শন কবিতায় উঠে আসে তারুণ্যের উপর ভিত্তি করে। কবি মাত্রই চির তারুণ্যের প্রতীক। প্রেম-দ্রোহ তারুণ্যকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। তার কবিতা পড়লে বোঝা যায় তিনি কতখানি তারুণ্যের অক্ষয় অমর প্রেমে বিশ্বাসী।

‘কথা বলো
বলো, তোমার ঠোঁট, তোমার ঠোঁটতো স্বাধীন
হে কণ্ঠস্বর তুমি কথা বলো,
তোমার কণ্ঠস্বর এখনও তোমার, তোমারই
তোমার টান টান শরীরও তোমার, তোমারই
কথা বলো তোমার জীবন
এখনও তোমার, তোমারই।’

স্মৃতি কখনো মোছা যায় না। জামার ময়লা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়। কিন্তু স্মৃতি? মুছে ফেলা যায়না মনের গহীন অরণ্য থেকে। তার কবিতায় ভালবাসার সাথে সাথে স্মৃতিময় রোমান্সও ফুটে উঠতে দেখা যায়। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘নাকস ঈ ফারইয়া দি’ (১৯৪৩)। সেখানে একটি কবিতায় তিনি লিখেছেন:

‘আমার হৃদয়ে অমলিন
তোমার সাথে শেষ রাতের মুহূর্তগুলো
আমাদের বাগানে গোপনে এসেছে বসন্ত
শুভ্র সকালে মৃদু বায়ু পরশ বুলিয়ে যায়
কোন কারণ ছাড়াই এক অসুস্থ রোগী
ভাল বোধ করতে শুরু করে।’

জীবদ্দশায় প্রগতিশীল বাঙালি কবি-সাহিত্যিক-চলচ্চিত্রকারদের সাথে তার গভীর এক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ফয়েজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন নাট্যকার মুনীর চৌধুরী। বিশিষ্ট উর্দুভাষী কবি আহমেদ ইলিয়াস তার ‘ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ এন্ড বাংলাদেশ’ স্মৃতিচারণমূলক লেখায় উল্লেখ করেন, ‘তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের বন্ধুদের নিজস্ব একটি বৃত্ত ছিল। সেই বন্ধুদের তালিকায় দৈনিক সংবাদ-এর আহমদুল কবির এবং জহুর হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক রণেশ দাশগুপ্ত, সমাজসেবক লায়লা কবির, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, মুর্তজা বশীর, শওকত ওসমান এবং অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ছিলেন।’

ফয়েজ আহমেদের কবিতায় যেমন প্রেম আছে, আছে প্রতিবাদও; একইসাথে মানবতাবাদী চিন্তা চেতনার প্রকাশও পষ্ট। তার লিখিত ‘ইয়েদাগ দাগ উজালে ইয়ে সবগুয়িতা শাহ্র’ (এই দাগ দাগ ভোরের আলো, রাতের খাপে ঢাকা এই ভোর) কবিতার জন্য ১৯৫১ সালে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়, এই মামলা ‘রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলা’ হিসেবে পরিচিত। এই মামলার বিচারে তাকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল।

একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীকে ধিক্কার জানিয়ে উর্দুভাষী ফয়েজ আহমেদ কবিতা লিখেছেন। তার কবিতায় আছে পাকবাহিনীর প্রতি তীব্রতর নিন্দার বহিঃপ্রকাশ যা মুক্তমনা, স্বাধীনচেতা না হলে মানুষের মধ্যে তা থাকে না। যেমনটা ছিলনা আমাদের স্বজাতীয় স্বাধীনতা বিরোধী পশুগুলোর মধ্যে। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে টিক্কা খাঁনের নির্দেশে ঢাকায় নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। এ ঘটনা জানতে পেরে ফয়েজ লিখিতাকারে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছিলেন পাকিস্তান সরকারের প্রতি। গণহত্যার কথা স্মরণ করে তার ‘হাজার কারো মেরে তান সে’ (আমার শরীর থেকে দূরে থাক) কবিতায় লিখেছেন,

‘আমার শরীর থেকে দূরে থাক
সাজাবো তবে কিভাবে গণহত্যার শোভাযাত্রা
আমার রক্তের চিৎকারে কাকে আকর্ষিত করবো
আমার দুর্বল দেহে কতটুকু রক্ত আছে?
এতে জ্বলবে না প্রদীপ
আর ভরবে না মদের গ্লাস।’ (কৃতজ্ঞতা: জাফর আলম)


ফয়েজের সাবলীল প্রকাশ ভঙ্গি মানুষকে আকর্ষণ করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জুলুমের বিরুদ্ধে তার কবিত্বের প্রতিবাদ জ্বলন্ত আগুনের মত-

‘কোথাও কোনো চিহ্ন নেই,
কোথাও কোনো চিহ্ন নেই খুনের
নেই কোনো রক্তের দাগ
আততায়ীর হাতে,
অথবা নখের কোণায়,
জামার হাতায়
দেয়ালে
অথবা ছোরায়,
বেয়নেটের মাথায়
চিহ্ন নেই,
কোথাও কোনো চিহ্ন নেই খুনের।
এই অদৃশ্য খুন ঝরেনি কোনো রাজার খাতিরে
বদান্যতার প্রতিদানস্বরূপ, অথবা ছিলোনা তা কোনো ধর্মীয় উৎসর্গ
পারমার্থিক মুক্তির প্রত্যাশায়, যুদ্ধক্ষেত্রে এই খুন ঝরেনি খ্যাতির আশায়
উদ্যাপিত হয়নি কোনো ব্যানারের হরফে।
আব্বা-আম্মা খুনের এই এতিম রক্ত চিৎকার করেছে
ন্যায়বিচারের জন্যে,
যদিও কারো সময় হয়নি এই আর্তনাদ শোনার।
কোনো সাক্ষী ছিলো না, ছিলোনা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী,
অভিযুক্ত হয়নি কেউ।
এই রক্ত তাদেরি যারা ধুলোয় ঘর বেঁধেছিলো
অন্তিমকালে ধুলির তরেই এই খুন মিশে গেছে ধুলোয়।’ (অনুবাদ: লেভিন আহমেদ)

ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ গণমানুষের কবি ছিলেন। নিপীড়িত ও শোষিতের পক্ষে তিনি প্রবলভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। মানুষের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালবাসা। ভাষা ও ভূগোলের সীমানা ভেদ করে ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ হয়ে উঠেছেন সকল দেশ ও মানুষের কবি। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে তাঁর কবিতা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সংবাদপত্রে প্রকাশ পায়। পরে ফয়েজের কবিতা সমগ্র রুশ ভাষায় অনূদিত এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু বিভাগের পাঠ্যসূচিতে ফয়েজের কবিতা এখনও অন্তর্ভুক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন সরকার কতৃক ১৯৬২ সালে কবি ফয়েজকে লেনিন শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়। লেলিন পুরষ্কার লাভের পর যৌথভাবে বাংলা ও উর্দু প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন তার সম্মানে ঢাকায় এক বড় রকমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।

১৯৩৫ সালে অমৃতস্বরের এম.এ.ও. কলেজে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন ফয়েজ। পরে লাহোরের হ্যালি কলেজ চলে যান। এরপর শিক্ষকতা ছেড়ে ১৯৪২ সালে দিল্লিতে বৃটিশ আর্মির পাবলিক রিলেশন বিভাগে ক্যাপ্টেন পদে সৈনিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে মেজর, ১৯৪৪ সালে লেফটোন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি পান। কিন্তু গৎবাঁধা সৈনিক জীবনে ক্রমাগত হতাশা বোধ করতে শুরু করেন কবি। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর বৃটিশ সেনাবাহিনীতে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে লাহোর ফিরে আসেন। পাকিস্তান টাইমসের প্রধান সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন।

১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিলের সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর তার আত্নজীবনীতে লিখেছেন, ‘ঢাকায় এই সময় ফয়েজ ভাই আমাকে বললেন, তিনি লাহোর আর্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারির পদ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন এবং ডিসেম্বরের শেষে সেখানে তিনি আমার প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন। আমি যেন প্রস্তুত থাকি।’

ফয়েজ বাংলাকে ভালবাসতেন, বাঙালিকে ভালবাসতেন। পাকিস্তান আমলে নিয়মিত ঢাকায় আসতেন বিভিন্ন সাহিত্য আসরে যোগ দিতে। বিশেষ করে বাংলা একাডেমী ছিল তার অন্যতম প্রিয় স্থান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে তিনি সর্বশেষ ঢাকায় আসেন, তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলী ভুট্রোর সাথে এক সরকারি সফরে। কিন্তু ঢাকা থেকে ফিরে গিয়েছিলেন মনে অনেক দু:খ নিয়ে, কারণ তাঁর অনেক বন্ধুই তাঁর সাথে দেখা করেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুনির চৌধুরী ও শহিদুল্লাহ কায়সারের নিহত হবার খবর শুনে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। সেই সময় মনে কষ্ট নিয়ে লিখেছিলেন ‘ঢাকা সে ওয়াপসি পর’ কবিতাটি:

‘ঢাকা থেকে ফিরে
অনেক মেলামেশার পরও রয়ে গেলাম পরের মতো,
আর কতবার মিলন হলে বন্ধু হব অবশ্যত?

আর কতবার বর্ষা হলে মুছবে গাছের রক্তরেখা,
চোখ জুড়াবে হিল্লোলিত খেতের সবুজ দৃশ্য যত?

বন্ধুভাবে হতাশ হলাম, বিফল অনুরোধের পালা—
হৃদয় ছিল পিষ্ট, মনষ্কামনা তার কী বিব্রত!

ভালোবাসার মৃত্যু হলো হৃদয়বিহীন প্রত্যাঘাতে,
মধুর রাত্রিশেষের পরে প্রভাত এল কী উদ্ধত!

জীবন বাজি রেখে, ফয়েজ, যা বলতে আজ সমুদ্যত
না বলা সেই চর্যাবচন সবই পড়ে রইল হত।’ (অনুবাদ: সাজ্জাদ শরীফ)

ব্যক্তিজীবনে নন্দিত এই কবি মাত্র ১৯ বছর বয়সে বৃটিশ নারী এলিসকে বিয়ে করেন। এলিসের গর্ভে জন্ম নেয়া দুই কন্যার নাম মনিজা ও সেলিমা।

১৯৬৪ সালে লন্ডন থেকে ফিরে কবি করাচিতে আব্দুল্লাহ হারুন কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। একইসাথে সাংবাদিকতায় আত্মনিয়োগ করেন। পাকিস্তান টাইমস ছাড়াও ‘লায়ল ই নাহার’, ‘ইমরোজ’ নামের দুটি পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের তথ্য অধিদপ্তরে কাজ করতেন। এসময় লোটাস নামক একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কিছুকাল দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সাংবাদিকতা ছাড়াও ফয়েজের খ্যাতি ছিল চলচ্চিত্রকার ও সুফিদর্শনের একজন কট্টর অনুরাগী হিসেবে। কবি আহমেদ ইলিয়াস তার এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৫৮ সালে যখন পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয় ঠিক তখনই ফয়েজ চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন। তার প্রথম ছবি ‘জাগো হুয়া সাত্তয়েরা’ (জেগে ওঠো ভোর হয়েছে)। উক্ত চলচ্চিত্রটি পূর্ব পাকিস্তানের আর্থ-সামাজিক বিষয় নিয়ে চিত্রায়িত করা হয়েছিল। ছবিটিতে এদেশের একজন দরিদ্র মৎসজীবীর জীবন সংগ্রামের কাহিনী চিত্রায়িত করা হয়েছিল। সেই চলচ্চিত্রটির পাণ্ডুলিপি এবং গান ফয়েজ নিজেই রচনা করেছিলেন।’ ছবিটি পাকিস্তানের মৌলবাদী সরকার নিষিদ্ধ করলেও পরবর্তীতে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্নপদক লাভ করে। ২০০৭ সালে প্যারিস চলচ্চিত্র উৎসবেও এটি প্রদর্শিত হয়।

সুফি দর্শনের দারুন ভক্ত এই কবির সাথে পাকিস্তানের বড় বড় সুফি গায়কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিখ্যাত বাবা মালাঙ সাহেব, ওয়াসিফ আলি ওয়াসিফ, আসফাক আহমেদ, সৈয়দ ফখরুদ্দিন ছাড়াও নামকরা সুফিদের সাথে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এক লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দে (সুফি) আর রিয়াল কমরেডস’।

১৯৭৭ সালে সামরিক অভ্যুথ্থানে ভুট্টো সরকারের পতন ঘটলে পাকিস্তানে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। তার উপর পুলিশি নজরদারি রাখা হয়। এমন অবস্থা ছিল যে, যে কোন সময় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। কারন তিনি কমিউনিষ্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৪ সালে তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন তিনি নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফিলিস্তিনের সংগ্রামী নায়ক ইয়াসির আরাফাত এবং তাঁর কাছের মানুষদের অনুরোধে তিনি পুরষ্কারের মনোনয়ন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

ফয়েজ তাঁর জন্মের শত বছর পার করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর স্মরণে জন্মশতবর্ষপুর্তি উদ্‌যাপিত হয়েছে। মৃত্যুর পরও পাকিস্তানের প্রগতিশীল মানুষের কাছে তিনি সাহসের প্রতীক হয়ে আছেন। তাঁর দর্শন, তাঁর কবিতা মানুষকে প্রতিবাদের ভাষা শিখিয়েছে। তাঁর জীবনকর্ম মানুষকে সাম্যবাদের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে-ভবিষ্যতেও করবে সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘণ্টা, ১৭ জুলাই, ২০১২
সম্পাদনা: এম জে ফেরদৌস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

শিল্প-সাহিত্য

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান