ঢাকা: বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি সনদপ্রাপ্তদের বিডিএস (ডেন্টাল সার্জন) সমমর্যাদায় উত্তীর্ণ করার সরকারি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে দ্বিতীয়দিনের মতো রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছেন দেশের ডেন্টাল চিকিৎসকরা।
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল ইউনিট, রাজশাহী ডেন্টাল কলেজ ও হাসাপাতাল, চট্টগ্রাম ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের কোর্স নাম পরিবর্তন করে ব্যাচেলর অফ ডেন্টিস্ট্রি অথবা বি এস সি ইন ডেন্টিস্ট্রি হতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল(বিএমডিসি)প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দেবার সুপারিশ করা হয়েছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বেশ কয়েকদিন ধরেই তারা আন্দোলন করে আসছিল।
এছাড়াও ৬ দফা দাবিতে সকাল ১০টা থেকে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘেরাও করেছে ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন চালিয়ে নিতে গতকাল শনিবার রাত ন’টায় বিএসএমএমউ’র বটতলায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ডেন্টাল কলেজ গুলোর প্রতিনিধি হতে সর্বসম্মতি ক্রমে "ডেন্টাল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী সংগ্রাম পরিষদ" - গঠন করা হয়েছে। পরিষদে আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন ডাঃ জ্যোতির্ময় দাস ও যুগ্ম-আহবায় হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করবেন ডেন্টাল কলেজ গুলোর প্রতিনিধিরা।
আন্দোলনের আহ্বায়ক ডা. জোত্যির্ময় দাস ফোনে বাংলানিউজকে জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান ডেন্টাল কলেজ থেকে শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঢাকা ডেন্টাল কলেজে এক সভায় মিলিত হন।
সভার স্বিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি এ স্বিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসা পর্যন্ত দেশের সকল ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে সেবা প্রদান বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে না।
সমাবেশে উপস্থিত রয়েছেন, ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এস এম ইকবাল হোসেইন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন শামসুল আলম, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্যান্য ডেন্টাল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা ডেন্টাল কলেজের চিকিৎসক ডা. মাযহারুল ইসলাম রাজিব বাংলানিউজকে বলেন, বিডিএস এবং এমবিবিএস দুটো কোর্সই সমমানের। কিন্তু বিএসসি ইন ডেন্টাল টেকনোলজি কোনভাবেই এ কোর্সদুটোর সমমানের নয়। ডেন্টাল টেকনোলজিতে টেকনোলজি সায়েন্স নিয়ে পড়ানো হয়, কিন্তু চিকিৎসার বিষয়গুলো নয়। চিকিৎসা সাস্ত্রের মৌলিক বিষয়াবলী এনাটমি, হিস্ট্রোলজি, প্যাথোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মেডিসিন, ফার্মাকোলজি ইত্যাদি সর্ম্পকে তাদের সঙ্গে বিডিএস এবং এমবিবিএস’দের পার্থক্য অনেক। এসব বিষয় সর্ম্পকে বিডিএস’এর কারিকুলামে যেমন বিস্তারিত পড়ানো হয়, টেকনোলজিস্টদের কারিকুলামে সেটি নেই। তাদের কারিকুলামে ডেড বডি (মৃতদেহ) ব্যবচ্ছেদ ও পর্যালোচনাও নেই।
জোত্যির্ময় দাস বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের আন্দোলন চলছে এবং দাবি আদায় না হাওয়া পর্যন্ত চলবেই। টেকনোলজিস্টদের অন্যায় দাবি যাদের কারণে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছিল তাদের বিচার ও এই অযৌক্তিক দাবি পুরোপুরি প্রত্যাহার না হাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবেই। আমরা আমাদের পেশাগত দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।
৬দফা দাবি সর্ম্পকে তিনি বলেন, বি.ডি.এস.ডিগ্রি সম্পন্নকারি সকল দন্ত চিকিৎসকদের সরকারি চাকরি প্রাপ্তির পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে ৪ জন করে বি.ডি.এস.ডিগ্রি সম্পন্নকারি সকল দন্ত চিকিৎসক নিয়োগ ও স্বল্প সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুপাতিক ভাবে উপরের স্তরে পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ করতে হবে।
বি.ডি.এস.কোর্স ৫ বছর মেয়াদী করণ (ইন্টার্ন ব্যাতিত), ঢাকা ডেন্টাল কলেজকে ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ডেন্টাল কলেজ ইউনিটকে ডেন্টাল কলেজে রূপান্তর করতে হবে।
বিএমডিসি এ্যাক্ট ২০১০ পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং বি.ডি.এস. ডিগ্রিধারি দন্ত চিকিৎসক ছাড়া কেউ দন্ত চিকিৎসার নামে জনগণকে যাতে প্রতারিত করতে না পারে সে জন্য বিএমডিসি’র কর্মতৎপরতা নিশ্চিত করতে হবে।
ভুয়া চিকিৎসক, হাতুড়ে চিকিৎসক, বিএমডিসি নিবন্ধন বিহীন চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান – যারাই নিজেকে ডাক্তার দাবি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন-আনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, বিএমডিসি’র আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসনকে দেোয়ার দাবি জানায় আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১২২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৩
এমএন/সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর