 |
| গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশের দপ্তরে হাসান সাইদ। ছবি: জীবন আমির |
ঢাকা : রুমানার স্বামী হাসান সাইদকে বৃহস্পতিবার মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করবে গোয়েন্দা পুলিশ( ডিবি)।
বুধবার রাতে ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদ শেষে ডিবি হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে জিঞ্জাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
ডিবি অনানুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করলেও বৃহস্পতিবার থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মনজুরকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার স্বামী হাসান সাইদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি সাউথের একটি দল)। সাইদ এ মামলার একমাত্র আসামি।
বুধবার দুপুরে তাকে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর ডিবি দক্ষিণের উপ কমিশনার (ডিসি) মো. মনিরুল ইসলাম।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, হাসান সাইদকে গ্রেপ্তারের জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি দল চট্টগ্রামে এবং সহকারী কমিশনার আহাদের নেতৃত্বে আরেকটি দল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
বুধবার বেলা সোয়া ২টার দিকে উত্তর মুগদার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ডিবির সহকারী কমিশনার আহাদের নেতৃত্বে সাইদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, বুধবার সকালেই তিনি ওই আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন।
উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মনিরুল ইসলাম আরও জানান, সাইদকে বুধবার বিকেল ৪টায় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা মনজুরকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন হাসান সাইদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রুমানা পড়াশোনার জন্য ২৬৯ দিন কানাডায় কাটিয়ে গত মাসের ১২ তারিখ দেশে ফেরেন। কানাডায় থাকা অবস্থায় তারেক বিন নাভিদ নামের ইরানি এক যুবকের সঙ্গে তার পরকীয়া হয়। এ কারণে সে কানাডা থেকে আমার সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ রাখত না। আমি কথা বলতে চাইলে সে খুব বেশিক্ষণ কথা বলতো না। এমনকি আমার মেয়ের সঙ্গেও আমাকে কথা বলতে দিত না। দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বাকবিতণ্ডা হয়। এ কারণে সে দেশে ফেরার কয়েকদিনের মধ্যে আমাকে বেলের শরবতের সঙ্গে ১১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়। এরপর আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হই। কিন্তু আমার দৃষ্টি শক্তি কমে গেছে। আমি এখন মাত্র ৫ ভাগ দেখতে পাই।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে রুমানার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে ইরানি ওই যুবকের নাম ডিলিট করি। এ নিয়ে দু’জনের হাতাহাতি হয়। এরপর কী হয়েছে আমি তা আর জানি না।’
চোখ কীভাবে ক্ষতবিক্ষত হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রুমানা নিজেই এগুলো করেছে।’
৫ ভাগ দেখতে পান, তাহলে ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট দেখলেন কী করে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অতশী কাঁচ দিয়ে দেখেছি।’
রুমানা কোনো ধরনের বৃত্তি নিয়ে কানাডায় যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ব্রিফিংয়ে ডিবির উপ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সাইদ একাধিকবার তার স্ত্রী শিক্ষিকা রুমানাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, সব দিক তদন্ত করে ভিকটিমে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে পুলিশ।’
সাইদকে বেকার স্বামী আখ্যা দিয়ে উপ কমিশনার বলেন, ‘তিনি বেকার হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নির্যাতন করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।’
সাইদকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বুধবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে তিনি উত্তর মুগদার জনৈক মোজাম্মেল হোসেন নামের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন। ওই বাসা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রুমানা ও সাইদ বিয়ে করেছেন ১১ বছর। বিয়ের আগে তাদের পরিচয় ছিল ৭ বছর।
এরআগে হাসান সাইদকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুলে ধানমণ্ডি সার্কেলের সহকারী কমিশনার (এসি), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের রুল জারির প্রায় ৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করল ডিবি।
উল্লেখ্য, এমন একটি নৃশংস পৈশাচিক ঘটনার পরও সাইদকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের গা-ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে পৃথক কমসূচি থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাইদকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন। কিন্ত পুলিশের তরফ থেকে তৎপরতা দেখা যায়নি।
বুধবার দুপুর ১২টায় সে আলটিমেটামের সময় পেরিয়ে যায়। এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্ট সাইদকে গ্রেপ্তারের জন্য রুল জারি করার পর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই গোয়েন্দা পুলিশ সাইদকে গ্রেপ্তার করলো।
গত ৫ জুন ধানমণ্ডির বাসায় স্বামী হাসান সাইদের নির্যাতনের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা মনজুর। তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরদিন রুমানার বাবা মঞ্জুর হোসেন ধানমণ্ডি থানায় হাসান সাইদকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে সাইদ পলাতক ছিলেন।।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪০ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০১১