 |
ওপার-এপার
নদীর ওপারে দেখো ছেয়ে আছে মেঘমুক্ত আকাশ
কাশফুলে শাদা হয় চোখের প্রান্তর...
নৌকার মাঝি গায় ভাটিয়ালি গান-
এপারে শহর তখন ব্যস্ততার চাদর মোড়ানো।
কিছু স্বপ্ন যুক্তির যাঁতাকলে চূর্ণ হয়ে
চূর্ণিত বরফের মতো মেশে পদ্মায়
তখনো ওপারজুড়ে শাদাকাশের মুগ্ধতা-
লেগে থাকে চোখের তারায়- হৃদয়ের মিহিন ডেরায়।
ওপারে কাক ডাকে- এপারে কোকিল
মাঝখানে নদী তাই ছুড়ে মারি ঢিল...
সবকিছু একাকার আকাশের নীল সীমানায়।
বিমর্ষ ঋতুর পাখি
ঋতুমতী পাখিদের উড়ে যেতে দেখি
আবার তারা ফিরে আসে
বসে থাকে দিঘির কাছে-গাছে-
সবুজ ঘাসে।
পালকের ওম জলে যদি শীতল হয়
পাখিহাটে তবে কেন ঋতুস্রাবে ভয়!
জয়নুলের ক্যানভাসে
আবার পাখি আসে
রংধনুর সাতটি রঙে
বিচিত্র ঢঙে...
পড়ে থাকে বিমর্ষ ঋতুর ছড়ানো পালক
পাখি ফিরে যায়- অসীম শূন্যতায়
শিকারির ত্রাসে!
পাহাড়ে পালক
পাহাড় কাটার শব্দে-
ডাকাতও চোরের মতো ভয় পায়
বার্ষিক তদন্তে পাওয়া গেছে
সুন্দরীর পোশাকের ছাই!
তবে কি জলের দামে বিক্রি হলো সকল বেদনা
সোনার খনিতে চুরি হলো দু’মণ সোনা?
এত বর্ণ, এত আরতি- পর্ব বিন্যাসে
মেঘের বাক্সে লুকিয়ে কাঁচুলি-
কে হাসে!
কে বাজায় দ্রিম দ্রিম পাহাড়ের গায়
স্তন মুঠিতে ধরে পালক নাড়ায়...
ভোরের নগর
এই শহরে বৃক্ষ দেখি
প্রতিদিন সবুজকর্মীরা সজীব রাখে তাদের।
তুঁতপাতায় ছবি আঁকে পরিচ্ছন্নকর্মী
সিল্করোড মসৃণ হয় রেশমের মতো।
আর নগরপিতার চোখে জেগে ওঠে পদ্মার চর
লু হাওয়া ধাক্কা মারে কাচের জানালায়।
কেউ দেখে নি
তাঁতের শাড়ি থেকে প্রজাপতি উড়ে যায়।
(কবি শামীম হোসেন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক।)
বাংলাদেশ সময়: ১৬০৯ ঘণ্টা, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২