 |
মেঘের নিতম্ব নাই; নাচতে পারে না তাই ভাসে।
আমরা সবাই নিতম্ব রহিত মেঘ; দেবদারু পাতাবাহারের মতো
বাপ চাচা ফুপুদের সরল ব্যঞ্জনে ফুলহীন ফলহীন
সতীর্থ রচনা করে চলেছি কেবল।
সবুজ টিয়ার মতো লাল ঠোঁটে তুলে নিয়ে
ভাগ্যের হলুদ খাম গণক প্রবঞ্চকের,
নিজেই জানি না কার ভাগ্য কতটুকু।
অথচ মাটির এক ভাঙ্গা ঠুলি গতকাল রাতের বৃষ্টির
অবোধ নিরীহ জল বুকে নিয়ে উঠোনের নিকট উপান্তে
ব্যাঙের ছাতার নিচে চুপচাপ। সে-ও জানে সূর্যের সফল
অত্যাচারে হয়তো ফুরাবে তার স্পন্দপ্রাণ, মৌন ঘনঘটা...
যদি এই নিরুত্তাপ দেহত্যাগ, পরিণত হত্যা-রঙ, নিষ্প্রাণ বাষ্পের দিকে
আর এই জল বিলীনতা রোজ অকুণ্ঠ দর্শন ভেবে জপ করি ডালিমের নীরব ছায়ায়
লাল ফাটা মগ্ন বিরহের
কবর দেখাবো বলে— তবে, হে বাতাসদেহ, রসনিকুঞ্জের
পরপারে বেদন-বৃষ্টির পরিচারিকা, তুমি কি
ভাববে, আমিও জীবনের
বিফল উপাত্তে অপারগ
লাটিম ঘুরাচ্ছি শুধু? যেন আমি কাদাখোঁচা পাখি;
সোনাবউ খুঁজছি কাদায় ?
খরচের প্রজাপতি হাতে নিয়ে আমি চিরদিন ভেসে গেছি
কেবলি বিরল অপচয়ে।
পেয়ারার তিরোধানে আজ তাই হল্লা করে ছুটে যায় দাঁতের আক্ষেপ।
জীবন দেখেছি এক জলঢোঁড়া সাপের মতন।
কামড় দিয়েছি, তবু বিষহীন উপদ্রুত ক্ষতের চিহ্নটি
ছাড়া অন্য ধ্রুবতারা কুশ রক্ত রিরংসা অভয়
খই লালা অমৃত চুম্বন কাক— এতো সব অবগত আলো পাখি প্রেম বৈরিতার অধিকারে
পোড়াতে পারিনি আজও জীবনের অভিধানে নতুন শব্দের মতো
রহস্যের নারীকে, দারুণ অল্পে ভোলে
এ রকম বালক, বিরল বন্ধু, মাতৃকা অথবা খুকী যার
ফ্রকপরা প্রথম যৌবন ক্যান্ডি চকলেট হাতে পেলে
মুঠোয় আকাশ নিয়ে নাচতে পারতো। আকাঙ্ক্ষার মতো বিশাল আকাশ!
আজ তাই আলোগঞ্জনার, মনোবিকৃতির নতুন বিগ্রহে
চন্দ্রমল্লিকার এক সোহাগ দুপুর যদি হঠাৎ আমাকে দেয় গন্ধ পরিমল,
মনে হয় নগরীর গণিকা পাড়ায় মানিব্যাগ ফেলে এসে ঠিক ভেবে নেবো,
পৌরুষ অপরাজিত!...
যেন বা নগর
প্রিয়ক তরুর নিচে গিরিকা দেবীর মতো জ্বলজ্বল করে।
তার প্রেম, প্রভা, পরিচয়হীন ধুম্রল যৌবনে কালো পিচ হয়ে
গলে যাচ্ছি বসুরাজ; কথক রাজার মতো ডাকছি হাতের
সেলফোনে; ওগো বুকপোড়া পাথরের সম্রাজ্ঞী,
ট্রাফিক জ্যামের কোনো বিভীষিকা নাই; দাও, দাও,
লম্পট রাত্রির হেরোইন, স্তন বিমোহনে ঘুমিয়ে কাটাই।
তারপর পথিক নারীর দেহ-বাতায়নে বিনামূল্যে উঁকি দেয়
জলপাই রঙে আঁকা মিলিটারি ভ্যান।
সারারাত পুলিশ পুলিশ; তবু বারবনিতার দগ্ধ কামুক শরীর
চেয়ে নেয় টুংটাং রিকশার মাতাল শ্রমিক।
সশ্রম প্যাডেল ছেড়ে আজকে সে মোহমগ্ন, প্রেমিক মিথ্যুক।
আর ট্রাক— মহামতি সৌরচাকা, পথের ধর্ষক
তেলের পাম্পের কাছে নগদ টাকায় কিছু যৌন যোগাযোগ ফেলে
চলে যায়, চলে যায় দূরে...
শুধু আমি রক্তবিরচিত বুনো সভ্যতার তিক্ত উপহাস;
মানুষের গীতল পশ্চাতে লাথি মেরে
অগত্যা মাস্তান। খলনগরীর পাঁজাকোলে
গিরিকা দেবীর কথা ভাবছি; যেন সে
জাদু বীণা, বাঁশি; প্রাণে তিলোত্তমা হাতে আখগাছ
দেখিয়ে বলছে; এই নাও, লাঠিভরা শরবত,
এই শেষ চুমুক তোমার...
বাংলাদেশ সময় : ১৭৩০ ঘণ্টা, ০৬ অক্টোবর ২০১২