 |
ঢাকা: আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস সফরে সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। ছয় ম্যাচে ২২১ রান করেছেন। দুটি অর্ধশতকও আছে। জাতীয় দলের এই ব্যাটসম্যান নিজের পারফরমেন্সে তৃপ্ত হলেও দলের জন্য কিছুটা আক্ষেপ আছে। তবে সব মিলে এই সফরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করেন তিনি। ইউরোপ থেকে ফিরে রোববার বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সেকান্দার আলীকে একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তামিম ইকবাল।
প্রশ্ন: সফর কেমন হলো?
তামিম: ব্যক্তিগত ভাবে আমি অনেক ভালো খেলেছি। আমার পারফরমেন্সে আমি খুশি। কেবল এক ম্যাচে রান পাইনি। শেষ দুই ম্যাচে দুটো অর্ধশতক (৬৯ ও ৫০) আছে। সব মিলে সফরটা আমার জন্য ভালো ছিলো। কিন্তু দলের দিক থেকে চিন্তা করলে আরও ভালো হতে পারতো। দুটো ম্যাচে না হারলে খুব ভালো লাগতো। তবে ভালো কিছু অর্জন আছে আমাদের। সানি ভাই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। রাজ ভাই ধারাবাহিক ভালো বল করেছেন। প্রথম দুই ম্যাচ বাদ দিলে মাশরাফি ভাই খুব ভালো খেলেছেন। সাকিব, মুশফিক, নাসির, জিয়া ভাই ভালো করেছেন।
তামিম ইকবাল: স্কটল্যান্ডের কাছে হারের কারণ কী?
তামিম: আমরা আসলে উইকেট বুঝতে পারিনি। ফলে খেলতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি। তারা খুব ভালো খেলেছে। বিশেষ করে তাদের যে ব্যাটসম্যান শতক করেছে সে অতিরিক্ত ভালো খেলেছে। কোনো বাজে শট খেলেনি। আমরা যে বাজে বল করেছি তা নয়। ওই দিনের জন্য তার (রিচি ভেরিংটন) সেরা সময় ছিলো। সে কাজে লাগিয়েছে। তারপরেও ১৬২ খুব বেশি রান না। কিন্তু আমরা ওটা চেজ করতে পারিনি। দুর্ভাগ্য বলতে হবে।
প্রশ্ন: নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটির কথা কী বলবেন?
তামিম: এখানেও উইকেটের কাছে আমরা হেরেছি। খুবই বাজে উইকেট ছিলো। দেখে বোঝার উপায় ছিলো না। আমাদের কিছু ভুলও হয়েছে। প্রথম দিকে (৮ রানে) তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলি। পরে বিয়াদ ভাই এবং জিয়া ভাই’র সঙ্গে জুটি হয়। আমি আউট হয়ে যাওয়ার পর দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে। শেষদিকে বড় শট খেলে যদি ১৫টা রান বেশি করে দিয়ে আসতে পারতাম তাহলে স্কোর হতো ১৪২। আমাদের রান কম হয়ে গেছে।
প্রশ্ন: আয়ারল্যান্ডে আপনারা কঠিন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া দুটো ম্যাচ শেষপর্যন্ত লড়াই করে জিতেছেন। নেদারল্যান্ডসে সেই মানসিক দৃঢ়তা দেখাতে পারেননি?
তামিম: আমার কিন্তু তা মনে হয় না। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা শেষপর্যন্ত ফাইট করে জিতেছি। নেদারল্যান্ডসেও একই ভাবে খেলেছি। দেখেন ১২৭ রান করেও শেষ বল পর্যন্ত খেলা নিয়ে গেছি। একবারের জন্য হাল ছাড়িনি। তার মানে আমাদের মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি চাপ নিয়ে খেলতে পারি। মোট কথা আমরা খেলা শেষ করে আসতে পারি।
প্রশ্ন: তাহলে পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা থাকলো না কেন?
তামিম: দেখেন আমি ওখানে গিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে আমরা অনেক কিছু করে ফেলিনি। তিনটা ম্যাচ জেতা মানে আমরা টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞ হয়ে গেছি তা না। আমরা সংক্ষিপ্ত ভার্ষনের ক্রিকেট খুব কম খেলি। এখানে আমাদের অভিজ্ঞতা কম। তারপরেও দুটো ম্যাচ হারা উচিৎ হয়নি। একদিক থেকে চিন্তা করলে অনেক ভালো খেলেছি আমরা। ছয় ম্যাচের চারটিতে আমরা জিতেছি। ছোট খাটো যে ভুল হয়েছে পরবর্তীতে সেগুলো না করলে আশা করি ভালো করবো।
প্রশ্ন: কোচ কী ধরণের নির্দেশনা দিতেন?
তামিম: যখন যেটা প্রয়োজন তা করতে বলতেন। দলের বৈঠকে ভালো খারাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে তাও বলেছেন। কিন্তু এরপরে কি করতে হবে এখনো সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
প্রশ্ন: র্যাঙ্কিংয়ের ওপরে উঠা এবং পড়ে যাওয়ার বিষয়টি কেমন লেগেছে?
তামিম: ওয়ানডে বা টেস্টের মতো না টি-টোয়েন্টির র্যাঙ্কিং। আয়ারল্যান্ডকে ধবলধোলাই দেওয়ার পর চারে গেলাম। পরে সবগুলো ম্যাচ জিততে পারলে আরও ভালো অবস্থানে চলে যেতাম। আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি। আসলে ভাগ্যের সহায়তা পাইনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৯ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
এসএ
সম্পাদনা: চঞ্চল ঘোষ, নিউজরুম এডিটর