ঢাকা: সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকার পর এবার ঠাণ্ডা কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত। আগামী ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভা ও দোয়ার মতো নরম কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
এর আগে হরতালের পরের দিন সারা দেশে সাধারণ বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে আসছিল জামায়াত। কিন্তু সোমবারের সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের পরও এ বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দূরে সরে এলো তারা।
কক্সবাজারে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে ৪ জন নিহত, ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ ২ শতাধিক নেতাকর্মী আহত ও ১১২ জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার দেশব্যাপী জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। এই হরতাল দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করায় জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক ছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে চলমান গণআন্দোলন থেকে হরতাল প্রতিরোধের ঘোষণার পর বিভিন্ন সেক্টর থেকেও প্রতিরোধের ঘোষণা আসে। ফলে এবারের হরতাল যেমন জনসাড়া পায়নি, ঠিক তেমনি দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের মাঠে তেমন একটা দেখা যায়নি।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তাদের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও সারা দেশে কয়েকশ’ কর্মী আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ছয় জন। আটকও হয়েছেন কয়েকশ’ কর্মী।
সোমবারের হরতাল শেষে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে জামায়াত আরো দাবি করে, ‘‘আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এবং ঘাদানিক নেতারা হরতাল প্রত্যাখ্যান করলেও জনগন এ হরতালকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছে। শাহবাগ থেকে হরতালের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঘোষণা দিলেও জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি।’’
রফিকুল ইসলাম খান তার বিবৃতিতে বলেন, ‘‘সরকার দিশেহারা হয়ে পুলিশ বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। এর আগে দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, চট্টগ্রামে পুলিশ গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করেছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় পুলিশ চারজন শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে দু’জনের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করেছে। কুমিল্লায় পুলিশের গুলিতে জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।’’
বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
এনএম/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com