 |
‘বন্ধু’ ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ বিশাল তার পরিধি। কোনো সংজ্ঞায় একে বাঁধা যায় না। মনের সব অসঙ্কোচ প্রকাশের জায়গাতো ওই একটাই। আমাদের চলচ্চিত্রেও বন্ধুত্বের কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এমনই দুই বন্ধু হলেন মৌসুমী আর ফেরদৌস। এবারের বন্ধু দিবসটা শুরু হয়েছে দুই বন্ধুর মধ্যে এসএমএসে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে।
মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ফেরদৌস প্রথম অভিনয় করেন ১৯৯৯ সালে ‘মিস ডায়না’ ছবিতে। প্রথম কাজেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তাদের এই বন্ধুত্ব কেবল দুজনের মধ্যেই সীমিত নেই। পারিবারিকভাবেও গড়িয়েছে এই বন্ধুত্ব। বন্ধু দিবসে বাংলানিউজ কথা বলে সেলিব্রিটি দুই বন্ধু মৌসুমী আর ফেরদৌসের সঙ্গে।
দুজনের কাছেই প্রথমে জানতে চাওয়া হয়, বন্ধুত্বের সংজ্ঞা কী?
মৌসুমী বললেন, “বন্ধুত্বকে সংজ্ঞায় প্রকাশ করা কঠিন। কারণ শ্রেণি-পেশা-বয়স কোনো কিছু দিয়েই বন্ধুত্বকে বাঁধা যায় না। কখন কার মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে বলা মুশকিল। বন্ধুত্বের মূল কথা, একে অন্যকে বুঝতে পারা আর পারস্পরিক সহমর্মিতা। বন্ধুত্ব আমি তাকেই বলবো যেখানে কোনো স্বার্থ থাকে না। আজকাল হীন স্বার্থের কারণে মেকি বন্ধুত্বে ছড়াছড়ি দেখি চারপাশে। স্বার্থ ফুরালেই শেষ। একে আমি বন্ধুত্ব বলে মানতে পারিনি।”
বন্ধুত্বের সংজ্ঞা ফেরদৌস বললেন কাব্যিকভাবে। তিনি বলেন, “বন্ধু মানে খোলা জানালা বা মুক্ত আকাশ। যে জানালা দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা খেলা করে দখিন হওয়া। যে জানালায় দাঁড়ালে দেখা যায় বিশাল আকাশ। সহানূভুতি, সহমর্মিতা, একে অন্যকে বুঝতে, সুখে-দুখে পাশে থাকা সব মিলিয়েই বন্ধুত্ব।”
ফেরদৌস ও মৌসুমী জুটি বেঁধে কাজ করেছেন প্রায় ৩০টির মতো ছবিতে। প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর ফেরদৌস তার প্রথম ছবি ‘এক কাপ চা’-তে সবার আগে কাস্ট করেছেন বন্ধু মৌসুমীকে। এ প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, “মৌসুমীর অভিনয় আমার সবসময় পছন্দ। চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার দুর্লভ ক্ষমতা আছে তার। মৌসুমীর সঙ্গে অভিনয়টাও আমার দারুণ জমে। তার সঙ্গে পর্যন্ত যত কাজ করেছি তার সবই ছিল আমার কাছে উপভোগ্য। তাই প্রথম ছবি প্রযোজনা করতে গিয়ে সবার আগে বন্ধু মৌসুমীকেই বেছে নেই।”
ফেরদৌস প্রসঙ্গে মৌসুমী বললেন, “ফেরদৌস আমার খুব কাছের একজন বন্ধু। এই বন্ধুত্বটা গড়ে উঠে কাজ করতে গিয়েই। আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া চমৎকার। শুটিং অবসরের সময়টা ফেরদৌস হাসি-ঠাট্টায় দারুণ জমিয়ে রাখতে জানে। কাজের আনন্দটা টের পাওয়া যায় তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে। ফেরদৌসের সঙ্গে কোনো কাজের অফার এলে তাই সহজে তা আমি হাতছাড়া করি না।”
মৌসুমী আরো বললেন, “ফেরদৌসকে আমি আমার পরিবারেরই একজন বলে মনে করি। ওর যেকোনো বিষয়ে যেমন আমার সঙ্গে শেয়ার করে, আমিও তেমনি যে কোনো বিষয় ওর শেয়ার করতে পারি। অনেক বিষয়েই আমরা একে অন্যের কাছ থেকে পরামর্শ নেই। আমার পরিবারের সবাই ফেরদৌসকে পছন্দ করে।”
এবার ফেরদৌসের বলার পালা। তিনি বলেন, “মৌসুমীর প্রতি আমার যেমন অধিকার আছে, তেমনি আছে দায়িত্বও। ওর ভালো-মন্দের কঠোর সমালোচক আমি। কোনো ছবিতে তাকে ভালো লাগেনি, সঙ্গে সঙ্গে আমি তা তাকে জানাতে পারি। মৌসুমীও আমার অভিনয়ের সমালোচনা করে। আমি যেমন তাকে ক্যারিয়ারের বিষয়ে নানা পরামর্শ দেই, তেমনি নানা বিষয়ে মৌসুমীরও পরামর্শ নিয়ে থাকি। আসলে এই তো বন্ধুত্ব।”
মৌসুমী আর ফেরদৌস বর্তমানে একসঙ্গে কোনো ছবিতে অভিনয় না করলেও বড় বড় স্টেজ শোতে দেখা যায় তারা দুই বন্ধু মিলে পারফর্ম করছেন। অনেক অনুষ্ঠানও এই দুই বন্ধু পাশাপাশি উপস্থাপনাও করেছেন।
সুখে-দুখে আজীবন মৌসুমী ও ফেরদৌস বন্ধু হয়ে একে অন্যের পাশে থাকতে চান আজীবন।
বাংলাদেশ সময় ১৪২৫, আগস্ট ০৫, ২০১২
আরআর