 |
ঢাকা: গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের উপ-নির্বাচনে বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করার জাপায় ভাটার টান লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
অনেকেই বলছেন, ওই পরিবারের বিপক্ষে নির্বাচন করে জেতার মতো অবস্থা জাপা প্রার্থীর নেই। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী জাপা প্রার্থীরা গাইছেন ভিন্ন সুরে। তারা বলছেন, এতে বিজয় আরও সহজ হবে।
পার্টি সুত্র জানিয়েছে, পরিবারের বাইরে যে কেউ প্রার্থী হলে জাপার বিজয় সহজ হতো। তারা মনে করেছিলেন পরিবারের বাইরে থেকে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ।
সে কারণে তারা অনেক আগে থেকেই কাপাসিয়া উপনির্বাচনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। স্বয়ং এরশাদও এক অনুষ্ঠানে এই উপনির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের উপনির্বাচনের ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জাতীয় পার্টির এক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে জানান, বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের পরিবারের প্রতি স্থানীয়দের ভালোবাসা ও সমর্থন এখনও ফুরিয়ে যায় নি। সে কারণে পরিবারের বিপক্ষে গিয়ে জয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
জাতীয় পার্টির কাপাসিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, এখনও সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সামছুদ্দিন খানকে যোগ্য প্রার্থী উল্লেখ করে বলেন, “মাঠ পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাকে প্রার্থী করা হলে বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।”
জাপার সাধারণ সম্পাদক সিমিন হোসেন রিমিকে শক্তিশালী প্রার্থী উল্লেখ করে বলেন, “শক্তিশালী প্রার্থীর সঙ্গে খেলে বিজয়ী হওয়াই প্রকৃত খেলোয়াড়ের কাজ। ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাই না। আমরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে স্বাগত জানাই।”
জাপার সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বাংলানিউজকে বলেন, “তাজ পরিবার থেকে প্রার্থী হওয়ায় আমার বিজয় সহজ হবে। কাপাসিয়ার মানুষ এখন এন্ট্রি পরিবার অবস্থান নিয়েছে।”
বরং আওয়ামী লীগ পরিবারের বাইরে প্রার্থী দিলে তার বিজয়ী হওয়া কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, এর আগে ১৯৯৭ সালে সোহেল তাজের চাচা আফসার উদ্দিন মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। মানুষ তাদের পরিবারের লোকজনের বারে বারে পদত্যাগ করার বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেয়নি।
মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “অন্য যারা মনোনয়ন চেয়েছেন তারা মূলত বিরোধিতার কারণে মনোনয়ন চেয়েছেন। তাদের নির্বাচন করার মতো অবস্থা নেই।”
বিগত একাধিক নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জনগণের সঙ্গে তার নিবিঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা হান্নান শাহ পরিবারে সঙ্গে তার আত্মীয়তার সূত্র রয়েছে। সে কারণে বিএনপির সমর্থকরা তার পক্ষেই কাজ করবে বলেও দাবি করেন জাপার এই সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী।
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১ হাজার ৩শ’, ১৯৯৬ সালে সাড়ে ৭ হাজার এবং ২০০১ সালে ৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন বলেও জানান বাংলানিউজকে।
জাতীয় পার্টির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সামছুদ্দিন খান বাংলানিউজকে বলেন, “আমি মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি।”
বঙ্গতাজ পরিবার থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় জাপা বিশেষ সুবিধা বা অসুবিধার মুখে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জাপার এই মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেন, “বিষয়টি জনগণের উপর নির্ভর করছে। জনগণ কিভাবে নেয় সে বিষয়টি বড়। তবে আমার মনে হয় রিমিকে প্রার্থী করার জাপা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।”
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ( অব.) কাজী মাহমুদ হাসান বাংলানিউজকে বলেন, “আওয়ামী লীগ কাকে মনোনয়ন দিলো সে বিষয়টি আমাদের কাছে বড়ো নয়।”
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে মনোনয়ন দেওয়া আওয়ামী লীগের নিজস্ব ব্যাপার। আমরা এ সিদ্ধান্তকে ছোট করে দেখি না। আমরা এ সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।”
এক প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, “এ আসনে কোন সময়েই আমাদের এমপি ছিলো না। তাই আমরা খুব বেশি স্বপ্ন দেখি না। তবে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে আমাদের সমর্থন বেড়েছে। তাই আমরা ভালো ফলই আশা করছি।”
তাজ পরিবার থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় জাপা বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, “সময়েই বলে দেবে এ প্রশ্নের উত্তর।”
এদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সোমবার দুপুরে বৈঠকে বসেছে জাপার পার্লামেন্টারি বোর্ড।
উল্লেখ্য, ২৩ আগস্ট এ আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৫ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর এবং নির্বাচন ৩০ সেপ্টেম্বর।
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৯ ঘণ্টা, আগস্ট ২৭, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর