 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
মাগুরা: মাগুরায় খাল পুনর্খননসহ ২০টি পাম্প স্থাপনে কৃষকদের বছরে অতিরিক্ত ১শ কোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, খাল পুনর্খনন ও পাম্প স্থাপনে ১১ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর অনাবাদি জমিতে বছরে ৬০ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন ও ২০টি নোলিফ্ট পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে পাম্প দিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে শালিখার নরপতি গ্রামে এক কিলোমিটার খালখননের ফলে শালিখা উপজেলার বুনাগাতী, আড়পাড়া এবং সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়ার ২০টি গ্রামের প্রায় ৫শ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূরীভূত হয়েছে।
এতে করে চলতি আমন মৌসুমে ৩ হাজার টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
প্রকল্প পরিদর্শনকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহকারী প্রধান সায়েমুর রশিদ খান বাংলানিউজকে জানান, মাগুরা সদর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার জলাবদ্ধপ্রবণ বিল এলাকায় ৩০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এতে করে ১১ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর অনাবাদি জমিতে ভূমির উপরিভাগের পানি ব্যবহার করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে, বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১শ কোটি টাকা মূল্যের ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হবে।
তিনি জানান, ৩ বছরে পর্যায়ক্রমে খালখননের কাজ শেষ হবে।
বিএডিসি মাগুরার উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা এ অঞ্চলের সব জমি চাষাবাদ করতে পারেন না।
অপরদিকে, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করতে হয়। জলাবদ্ধতাপ্রবণ এ এলাকাগুলোতে খালখনন এবং ২০টি নোলিফ্ট পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে কৃষকেরা অন্তত ৪০ ভাগ কম খরচে চাষাবাদ করতে পারবেন।
এসব পাম্পের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা যেমন দূর করা হবে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে খাল থেকে বিলে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা হবে। সেচ কাজে আয়রনবিহীন পানি ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি পাবে ও অপচয় কমবে।
প্রকল্প এলাকা শালিখার নরপতিতে গিয়ে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে এক কিলোমিটার খাল খননের ফলে এলাকার কৃষকরা ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে পাট কেটে এ খালেই জাগ (পঁচানো) দিতে পারছেন এবং ধুয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা।
এ এলাকার কৃষক রমেন বিশ্বাস, নিতাই রক্ষিত ও রাধা রাণী রক্ষিত বাংলানিউজকে জানান, খাল পুনর্খননে বিলের অতিরিক্ত পানি খালে আসার সুযোগ পাচ্ছে। আবার জোয়ারের সময় ফটকি নদীর পানিও খালে ঢুকতে পারছে। এতে করে বিল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে।
খালে পানি থাকায় শুষ্ক মৌসুমে এই পানি দিয়ে সেচ সুবিধা পাবেন বলে আশা করছেন। সমৃদ্ধ হচ্ছে পলিমাটির স্তরও। খালে পাট পচানো হলেও জোয়ারভাটা থাকায় পানি পচে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না। অতটা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে না।
ভালো হচ্ছে পাটের মান ও রঙ। এতে করে পাটের দাম ভালো পাবেন বলেও আশা করছেন এলাকার কৃষকেরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পুনর্খনন করা এক কিলোমিটার বগনাল খাল কুচিয়ামোড়ার মধ্য থেকে মান্দার মাঠ নরপতি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়ে ফটকি নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
আড়পাড়া ইউনিয়নের জুনারী, রাজধরপুর, দিঘি, কুমোরকোটা, নরপতি, বুনাগাতি ইউনিয়নের বরইচারা, হাটবাড়িয়া, রাজাপুর এবং কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া কুচিয়ামোড়া ও বুরাইল বিল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ার পাশাপাশি খালের পানির মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেছে।
বগনাল খাল পুনর্খননে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সুবিধা পাচ্ছেন। প্রকল্প শেষ হলে এ সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে।
খাল খনন না করায় মাছের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। কৃষকের সেচ সুবিধার পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১২
সম্পাদনা: ফরহাদ খান