 |
চট্টগ্রাম: কথামালা, আবৃত্তি, নিবেদিত কবিতাপাঠ আর স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে হয়ে গেল বহুমাত্রিক জ্যোতির্ময় ও প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ এবং কবি শামসুর রাহমানের স্মরণানুষ্ঠান।
শুক্রবার বিকেলে চেরাগি পাহাড়ের চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে বাচিক শিল্পচর্চাকেন্দ্র তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ‘কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনে কথামালা ও স্মৃতিচারণায় অংশ নেন কবি অরুণ দাশগুপ্ত, আবৃত্তিকার রণজিৎ রক্ষিত, সংস্কৃতিকর্মী মফিজুর রহমান, কবি কামরুল হাসান বাদল, কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘বাংলা কবিতা যে ক’জন কবির হাত ধরে আধুনিকতায় পৌঁছেছে হুমায়ুন আজাদ ও শামসুর রাহমান তাদের মধ্যে অন্যতম। আমরা হুমায়ুন আজাদের লেখনীতে যেমন খুঁজে পেয়েছি ব্যক্তি জীবনের নানা রুদ্র অনুভূতি, তেমনি শামসুর রাহমানের কবিতায় উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনের নানা আখ্যান। আর তাই আমাদের বারবার দুই কবির কাছেই ফিরে যেতে হয়।’
বাংলা কবিতায় শামসুর রাহমানের অসামান্য অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘তিনি ছিলেন নাগরিক জীবনের কবি। তাঁর কবিতায় ছিল দেশ ও কালের আধুনিক চিন্তা-চেতনা এবং সংগ্রামশীলতা। সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়ন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে সক্রিয় ছিলেন আজীবন।’
হুমায়ুন আজাদ প্রসঙ্গে তারা বলেন, ‘হুমায়ুন আজাদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন প্রধানতম প্রথাবিরোধী লেখক হিসেবে। বাংলা ভাষার ওপর অসাধারণ পান্ডিত্যে তিনি নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।’
অনুষ্ঠানে দুই কবির কবিতা আবৃত্তি করেন বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ সভাপতি অঞ্চল চৌধুরী, বোধন আবৃত্তি পরিষদের ইন্দিরা চৌধুরী ও নিশাত হাসিনা শিরিন, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের রাশেদ হাসান, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের দেবাশিস রুদ্র, উচ্চারক আবৃত্তিকুঞ্জের ফারুক তাহের, নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গনের মাহবুবুর রহমান মাহফুজ, শব্দনোঙর আবৃত্তি সংগঠনের হাসান জাহাঙ্গীর, মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংগঠনের মশরুর হোসেন, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের মিজানুর রহমান, শামীমা ইয়াসমীন, শ্রাবণী দাশগুপ্তা, সাইদুর রহমান, ইভা চৌধুরী ও সুমি বিশ্বাস।
বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১২
এআরএম/সম্পাদনা: আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর