চট্টগ্রাম : সুবিধাভোগী একটি চক্র সরকারকে সার আমদানিতে উৎসাহিত করায় কর্ণফুলী ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) সচল রাখতে সরকার মনোযোগ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কাফকো কারখানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, "সুবিধাভোগী একটি চক্র সরকারকে সার আমদানিতে উৎসাহিত করায় বিশ্বের অন্যতম সার কারখানাটি প্রায় ৭ মাস ধরে বন্ধ। এটি চালু করতে মনোযোগ দিচ্ছে না সরকার।"
তিনি বলেন, "সার আমদানিতে সুবিধাভোগী একটি চক্র ও এর সঙ্গে জড়িত কিছু সরকারি কর্মকর্তা সরকারকে উৎসাহ যোগাচ্ছে। কারণ আমাদানি করলে তাদের একটি বাণিজ্য আছে।"
তিনি আরও বলেন, "সার আমদানি না করে কাফকো থেকে কিনলেও সরকারের প্রচুর অর্থ লাভ হতো। যে সার আমদানি করলে ৫শ ডলার খরচ হয় তা কাফকো থেকে কিনলে খচর হবে সাড়ে ৪শ ডলার।"
কাফকো একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে প্রধান নির্বাহী বলেন, "বাংলাদেশ সরকার যখনই চায় তখনই রফতানি বন্ধ রেখে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হয়। সরকারের চাহিদা বেশি থাকায় গত ৬ মাস সার রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছে।"
তবে গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় প্রায় ৭ মাস ধরে কাফকো বন্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।"
কাফকোর বিরুদ্ধে সরকারের কাছ থেকে কম দামে গ্যাস নিয়ে চড়া দামে সার বিক্রির যে অভিযোগ রয়েছে তা ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, "কাফকো গত বছর প্রতি ইউনিট গ্যাসের গড় মূল্য দিয়েছে ৬ দশমিক ৮ ইউএস ডলার (৬০৫ টাকা)। অন্যদিকে অন্যান্য কারখানাগুলো প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম দিচ্ছে দশমিক ৮৫ ডলার (৭০ টাকা)।"
তিনি বলেন, "সরকার কাফকোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করলে প্রতিমাসে গ্যাসের বিল বাবদ পেত ১০০ কোটি টাকা। অথচ একই পরিমাণ গ্যাস বাংলাদেশের অন্যান্য কোম্পানিকে সরবরাহ করলে পাবে মাত্র ১৩ কোটি টাকা।"
এদিকে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির (কাফকো) উৎপাদিত অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার দেশে বিক্রির পাশাপাশি রফতানিও করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন ক্ষমতা থেকে বর্তমানে ইউরিয়া ১২৪ ও অ্যামোনিয়া ১১০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউরিয়া প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭২৫ থেকে বর্তমানে ২ হাজার ১০০ টন এবং অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টনে উন্নীত হয়েছে।
শিল্প ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কাফকো বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ১৯৯৫ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদক শুরু করে। প্রতিষ্ঠানকালীন বিনিয়োগকৃত মূলধন ছিল ৬০০ ইউএস ডলার।
মতবিনিয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে জিএম অ্যাডমিনিস্ট্রিশন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শওকত জামাল, জিএম টেকনিক্যাল খুরশিদ আলম, জিএম ম্যাকনিক্যাল নাজমুল আলম, চিফ অপারেশন অফিসার শফি আহমদ, ডিজিএম অ্যাডমিনিস্ট্রিশন জাওয়াদুল হকসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, জুলাই ০৪, ২০১২
এমইউ/সম্পাদনা: ওবায়দুল্লাহ সনি, নিউজরুম এডিটর