৬ আষাঢ় ১৪২০, বৃহস্পতিবার জুন ২০, ২০১৩ ৭:২৬ এএম BDST banglanew24
17 Aug 2012   06:53:39 PM   Friday BdST
E-mail this

বাংলানিউজকে যুবলীগ চেয়ারম্যান

যুবলীগকে মেধাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়তে চাই


তপন চক্রবর্তী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ও ব্যুরো এডিটর
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
যুবলীগকে মেধাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়তে চাই বাংলানিউজকে যুবলীগ চেয়ারম্যান

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগকে একটি আধুনিক, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুবসমাজের কাঙ্খিত সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

তিনি বলেন, “আমরা যুবলীগকে একটি জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর, মেধাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যুবলীগে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে চাই, আদর্শিক চেতনাকে জাগ্রত করতে চাই, সে লক্ষ্যেই যুবলীগের প্রচার কৌশল ইতিমধ্যে পাল্টাতে শুরু করেছি।”

বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক চৌধুরী এসব কথা বলেন। পাশাপাশি আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ১৯৭৫ এর আগের ও বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র প্রচার-প্রসারের নানা উদ্যোগ, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গ।

যুবলীগের কার্যক্রমে কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন জানতে চাইলে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “গত তিন বছর ধরে আমরা পোস্টার, দেয়াললিখনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। প্রচার-প্রচারণা হবে পত্রিকার মাধ্যমে। কর্মীদের আদর্শিক মানোন্নয়নের প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বে গুণাবলি বিকাশের লক্ষ্যে কার্যক্রম নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুব প্রতিভা অন্বেষণ করে তাদের কাজে লাগানো হবে।”

“আমাদের দুই ধরনের ভাবনা আছে, আরবান বা শহরে এবং রুরাল বা গ্রামীণ। ভিন্নতাগুলো খুব স্পষ্ট। যেমন আশা-আকাঙ্ক্ষা ভিন্ন, সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন, মতামত ভিন্ন, অর্থনৈতিক অবস্থা ভিন্ন। তাদের অ্যাপ্রোচ করতে হবে ভিন্নভাবে। আরবান যুবসমাজের বিষয় আর রুরাল যুবসমাজের বিষয়গুলো আরও গবেষণা করে ভিন্নভাবে অ্যাপ্রোচ, ভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।” যোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনীতি কি আদর্শগত নাকি প্রোভাইড, রাজনীতি কি কথার কথা নাকি হ্যালো-হাই, স্যুট-টাই আর ফিতাওয়ালা শার্ট, গলায় চেন, হাতে ব্রেসলেট, অথবা টি-শার্ট আর গলায় চেন পায়ে কেডস পরা যুবক। দল করতে হলে আদর্শের প্রয়োজন। সাথে ম্যানেজম্যান্টকে ঢেলে সাজাতে হবে। আগে ছিল ‘কর্পোরেট ম্যানেজম্যান্ট’ এখন হবে ‘কর্পোরেট বিহেভিয়ার’। প্রচারণাগুলো ঢেলে সাজাতে চাই।”

উদাহরণ যোগ করে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “যেমন একটি বা দুটি পত্রিকা মাসে একটি পৃষ্ঠা বরাদ্দ থাকবে ‘যুবলীগের নোটিশ বোর্ড’ এ নামে সকল ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা, জেলা ও কেন্দ্রের সভা, নির্দেশনা, খবরাখবর, সম্মেলন, কর্মসূচি ইত্যাদির সংবাদ। প্রতিটি ইউনিটের জানা হয়ে যাবে ঐ তারিখ, ঐ পত্রিকা, পৃষ্ঠার নম্বর উল্লেখ থাকবে। আমরা কি বলতে চাই, ওরা কি জানতে চায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতবিনিময় হবে। এর জন্য একজন এডিটর নিয়োগ করা হবে, যিনি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন। সমস্ত ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত এসএমএস নেটওয়ার্ক ইন্টারেকটিভ হতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ২ থেকে ৩ দিনের কোর্স। যেমন ‘যুবলীগের নেতৃত্ব কর্মশালা’, ‘আয়বর্ধক কাজের জন্য কর্মশালা’, ওয়ার্কশপ, সমবায়ের মাধ্যমে যুবদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশনাবলি প্রচার করাই আমাদের কাজ।”

১৯৭৫ সালের আগে এবং বর্তমান রাজনীতির পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “৭৫’র আগে ও পরবর্তীকালে রাজনীতির মৌলিক চরিত্র পাল্টে ফেলা হয়েছে। রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে এর আদর্শিক চেতনাকে শুষে নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো দোকান নেই, যেখানে তা রেডিমেট কিনতে পাওয়া যায়। নেতাও গাছে ধরে না বহু পথ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটার পর নেতৃত্বে আবির্ভূত হন।”

তিনি বলেন, “৭৫’র আগে ছিল রাজনীতিবিদ, এর পর পর্যায়ক্রমে হলো রাজনীতিজীবী। স্বৈরশাসকেরা এসে রাজনীতিকে জীবিকা নির্বাহের পথ করে দিয়েছে। পেশাজীবী, শ্রমজীবী, আইনজীবী, মৎস্যজীবী, বিভিন্ন পেশার পর নতুন সংযোজন রাজনীতিকে ডিফিকাল্ট করার কাজটি করেছেন জিয়াউর রহমান সাহেব রাজনীতিজীবী। সেজন্য এখন আর ত্যাগের প্রয়োজন নেই। তাই তো মৃত জিয়ার উত্তরসূরিরা দম্ভ করে বলতে পারছে, ‘উই কুড মেক দ্য পলিটিকস ডিফিকাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ান’।”

ওমর ফারুক বলেন, “রাজনীতি হচ্ছে কঠিন ত্যাগ তিতিক্ষার ব্যাপার। মানুষকে রাষ্ট্র চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করে তার মধ্যে প্রেরণা সৃষ্টির মন্ত্র, মানবকল্যাণের আদর্শিক উপায়। রাষ্ট্রকে যুগ যুগান্তরের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার মহান অলাভজনক পেশা। ৭৫ পরবর্তীকালে পেশার পরিবর্তন। অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা, অবসরপ্রাপ্তরা, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ছাত্র, যুবক, শ্রমিক সব পেশার লোক পরিচিত হতে চায় রাজনীতিবিদ হিসেবে। কারণ এ পেশা সর্বোচ্চ পেশায় পরিণত করেছেন লে. জে. জিয়াউর রহমান এবং লে. জে. এরশাদ। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাদের শিখিয়েছেন, বুঝিয়েছেন রাজনীতির একটি সহজপাঠ। নেতার জন্ম হয় জনতার ভালোবাসা থেকে। কর্মীর কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে নেতা সাজা যায়। কিন্তু নেতা থাকা যায় না।”

তিনি বলেন, “এই জনতার ভালোবাসা পেতে হলে ন্যায়সঙ্গত দাবিতে অটল থাকতে হবে, দাবি আদায়ের জন্য মিছিলে যেতে হবে। পুলিশি প্রহারকে বরণ করে নিতে হবে, কর্মীর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কর্মীর সব সময় উচ্চ প্রশংসা করতে হবে। প্রতিটি মানুষের কাছে তার নিজের নামটিই কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটি শব্দ। মানুষের মনও এক ধরনের যন্ত্র। ঠিকঠাক মতো ডায়াল করলে জনতা রিসিভার তুলতে বাধ্য। বাঁশি বাজালেই কেউ নাচে না। তার সুরের মধ্যে নাচের উন্মাদনা থাকলেই নাচে। ‘হ্যামিলনের বংশীবাদক’ সবাই হতে পারে না। বাংলাদেশে এখন সেই বংশীবাদক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, তিনিই রাজনীতিবিদ। আমরা সবাই রাজনীতিজীবী। আপনি, আমি, সবাই। কাউকে দোষারূপ করে লাভ নেই।”

‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সাপ্তাহিক, মাসিক এবং ওয়েবসাইটে বাণীগুলো প্রচারের কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ করে মনে হয়েছে, তিনি চাইলে লেখক হতে পারতেন। শুনেছি ভারতের রাষ্ট্রপতি এক রাতে বইটি পাঠ করেছেন। দেশেও যারা পাঠ করেছেন, তারাও বলছেন শেষ না করে ওঠা যায় না। বঙ্গবন্ধুর সাহিত্য প্রতিভা ফুটে উঠেছে।”

এ বইতে জীবন ও রাষ্ট্র সম্পর্কে যে কথাগুলো আছে, খুব সহজ সরল ভাষায় তাকে সামনে নিয়ে এসেছে যুবলীগের গবেষক দল, রাষ্ট্রনায়ক, সম্রাট, সাবেক প্রেসিডেন্ট, কবি, সাহিত্যিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নাট্যকার, মনোবিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, ঔপন্যাসিক, প্রবাদ- এগুলোই তো বাণী। দুঃখই জ্ঞান, জ্ঞানই শক্তি। যে নিজের জন্য বেশি চিন্তা করে সে দেশের জন্য কিছু করতে পারে না। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। অন্যের মুখ বন্ধ করানোর আগে নিজের মুখ বন্ধ কর। এ জগতে যিনি ওঠেন, তিনি সাধারণ ঘরে জন্মে, সাধারণের মধ্যে বড় হয়ে, সাধারণের ওপর মস্তক তুলে দাঁড়ান, তিনি আপন গুণেই বড়। তিনিই বঙ্গবন্ধু। তিনি এ কথাগুলোই বলেছেন। তাই কবি হেলাল হাফিজ লিখেছেন, কে আছেন, দয়া করে আকাশকে বলেন, একটু ওপরে উঠুক, আমি দাঁড়াতে পারছি না, বঙ্গবন্ধু ছাড়া এমন উচ্চতায় কে আছেন, যিনি এই কবিতার নায়ক হতে পারেন? বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদেহ, চির উন্নত শির তার পায়ের কাছের বামনদের দিকে তাকাবে কেবল করুণা দেখানোর জন্যই।”

ওমর ফারুক চৌধুরী যোগ করেন, ব্যাপক অনুসন্ধানেচ্ছু আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে গ্রন্থটি নিবিড় মনোযোগসহকারে পাঠ করে বঙ্গবন্ধুকে নতুন মাত্রা ও উচ্চতায় পেলাম। প্রতি শব্দে বাক্যে চোখের সম্মুখে মহৎ মানুষটি বারবার উদ্ভাসিত। প্রতিযোগিতাহীন ভরাট কণ্ঠ যেন বারবার শ্রবণেন্দ্রিয়কে মধুর ঝঙ্কারে হিন্দোলিত ছন্দে মোহাবিষ্ট করে রেখেছে। গ্রন্থটি যারাই পড়েছেন, তারাই তার উপস্থিতি টের পেয়েছেন এবং বারবার শিহরিত ও রোমাঞ্চের স্বাদ পেয়েছেন বলে অনেকেই বলেছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি এই সংকটকে কীভাবে দেখেন? জবাবে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জনগণের ক্ষমতায়নের নেত্রী, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, ১৯৯০ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। ১৯৯৪ এ এসে মাগুরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি এবং ভোট ডাকাতির প্রেক্ষাপটে, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তিন মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি উত্থাপন করেন। এ সময়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সারা দেশ ঘুরে ঘুরে ‘আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো’ এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করেছিলে।”

তিনি বলেন, “কিন্তু সে সময় বিএনপি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অগ্রাহ্য করে ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা করে। কিন্তু এদেশের জনগণ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করলে বিএনপি ৭৫ এর খুনি এবং ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ভৌতিক এবং অসম্পূর্ণ সংসদ গঠন করে। ওই কথিত সংসদ, রাতের আঁধারে বিরোধী দলের দাবির মুখে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করে। এরপর ৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ এ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আপনি লক্ষ্য করবেন, প্রতিটি নির্বাচনেই পরাজিত দল নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিভিন্ন কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। উপরন্তু নির্দলীয় সরকার তার রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে অনেক বিতর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ২০০৬ সালের নির্দলীয় সরকার তো দুই বছর একরকম গায়ের জোরে দেশ পরিচালনা করেছে।”

ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, “২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মাথায় রেখে প্রশাসনকে দলীয়করণ করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে করতে প্রধান বিচারপতির বয়স বৃদ্ধি করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিতর্কে নিমজ্জিত করে বিএনপি ওয়ান ইলেভেন ডেকে আনে।”

তিনি বলেন, “নানা বিতর্ক, সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার পরও আমাদের গণতন্ত্র দুই দশক সময় পার করেছে। অনির্বাচিত কিছু ব্যক্তি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবে রাজনীতিবিদদের প্রতি অনাস্থা এবং অনীহা একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড়াতে পারে না। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এ পদ্ধতি নেই। বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাকে সংহত করতে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু এটি অনির্বাচিত ব্যক্তিদের চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না।”

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন আসনে উপ-নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। আপনি জানেন, সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ফারুক বলেন, “আমরা মনে করি, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকটের সমাধান সম্ভব। সংসদ হলো সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। তাই সংসদে এ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়াটাই শ্রেয়। এখনো নির্বাচনের অনেক সময় বাকি। তাই সরকারি দল এবং বিরোধী দল সংসদে বসে একটি সমাধান করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।”

ঐক্যের ব্যাপারে যুবলীগের চিন্তা কী? কোন ধরনের যুবক নিয়ে আপনারা এগিয়ে যেতে চান, জানতে চাইলে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “ঐক্য কথাটি খুব কঠিন। অস্তিত্বের সংগ্রামে সবাই জোট বাঁধে। জোট একটি সংঘবদ্ধশক্তি। কিন্তু জোট বাঁধা সহজ কথা নয়। কারণ জোট বাঁধার জন্য মানবিক ঔদার্য্য, যুক্তি, পরিস্থিতির বিবেচনায় এক হওয়া যে প্রয়োজন তা হওয়া কঠিন। জীবনের দাবি আর লড়াইয়ের দাবি একসূত্রে গাঁথা না হলে সর্বাত্মক ঐক্য জরুরি হয়ে ওঠে না। মানুষ হলো রাজনৈতিক জীব। প্রত্যেক মানুষই স্বতন্ত্র অদ্ভুত। আবার কোনো মানুষের একটি কাজ দিয়ে তার দক্ষতা যাচাই করা যায় না। মানুষ বুদ্ধির পরিচয় দেয় জ্ঞানের বিষয়ে, যোগ্যতার পরিচয় দেয় কৃতিত্বে, নিজের পরিচয় দেয় সৃষ্টিতে। আবার দিনের একেকটি সময় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি একেক ধরনের থাকে।”

যুবলীগের এ চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘যুব ঐক্য বলতে আমি বুঝি সব ধরনের যুবকের মেলবন্ধন। চিন্তাশীল যুবক, কর্মঠ যুবক, অলস যুবক, মেধাবী যুবক, মেধাহীন অস্থির যুবক, সবল যুবক, বিবেকবান যুবক, বোকা যুবক ইত্যাদি। একটি অগ্রসর সমাজ বির্নিমাণে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ভূমিকা থাকে। আমরা সব ধরনের যুবশক্তির স্ব স্ব ক্ষেত্রে তার মেধাকে কাজে লাগাতে চাই। আমরা মনে করি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুবসমাজের যে সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম, মেধা রয়েছে তার ঐক্য, সমন্বয় ও মেলবন্ধন প্রয়োজন। এজন্যই আমরা সব ধরনের যুবকের ঐক্য গড়ে তুলতে চাই। সকল চিন্তা, সৃষ্টি ও কর্ম উদ্দীপনা ধারণের ঐক্যই আমাদের কাছে মুখ্য। যেমন পৃথিবীর সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটস বলেছেন, আমি অলসদের দিয়েই বেশি কাজ করিয়ে নেই দ্রুততম সময়ে। কেননা তাদের আলসেমির কারণেই তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজটি চৌকস বুদ্ধিতে কাজটি দ্রুত সেরে ফেলতে চায়। আবার দেখুন হজরত উমর ফারুক (রা.) ইসলাম গ্রহণের আগে ছিলেন খারাপ যুবকদের সেরা। আবার ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর হলেন ভালোদের সেরা। পৃথিবীর বিখ্যাত সেরা শাসক, নবীজি তাঁকে দীক্ষা দেওয়াতে তিনি যৌবনকে বিখ্যাতদের কাতারে নিয়ে গেলেন। তাই রাসুল (সা.) তার ইসলাম গ্রহণের পর বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অজ্ঞতার যুগে সেরা তারা ইসলাম গ্রহণের পরও সেরা।’ কেননা তিনি খারাপ গুণকে ভালো গুণে রূপান্তরিত করেছেন ইসলামের কল্যাণে। অর্থাৎ প্রতিটি ধর্মেই ভালো হওয়ার পথ আছে। অর্থাৎ, সব চিন্তা, চেতনা, মনন, উদ্দীপনাকে একটি কাঠামোতে নিয়ে এসে সবাইকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ ও অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিই হলো যুব ঐক্য। আমি এরকম ঐক্য চাই।’’

আপনাদের প্রচারিত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ মডেল জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। সম্প্রতি এনিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সেমিনার হয়ে গেল। এ দর্শন নিয়ে আপনাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী?

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শনের মূল কথা হলো জনগণ। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই আপ্ত বাক্যটি অনেকেই আওড়িছেন, কিন্তু সম-সাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে এর চর্চা করেছেন একমাত্র শেখ হাসিনা। তিনি কিন্তু বিশ্বে আলোচিত নেতাদের মধ্যে একমাত্র সেলফমেড পলিটিশিয়ান। ইন্দিরা গান্ধীকে যেমন নেহেরু তৈরি করেছেন, বেনজির ভুট্টোকে যেমন ভুট্টো তৈরি করেছেন, শেখ হাসিনাকে রাজনীতিবিদ হিসেবে কেউ তৈরি করেননি। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণের মাঝে, জনগণের অনুভূতি, চিন্তা চেতনাকে ধারণ করে তিনি বেড়ে উঠেছেন। অনেক চড়াই উতরায়ের পর তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। কতবার তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। জীবনকে তুচ্ছ করে তিনি বাংলা ও বাঙালির শেষ নির্ভরযোগ্য ঠিকানায়। তাই জনগণই তার চেতনার মূল অনুভুতি।

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণকে যতো বেশি ক্ষমতাশালী করা যাবে, সিদ্ধান্ত হবে ততো গণমুখী ও জনকল্যাণমুখী। কেন তিনি শেয়ার মার্কেটের ব্যাপারে কথা বলবেন? কেন তিনি পোশাক শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন? কেন তিনি ঢাকার নিমতলিতে আগুন লাগলে এতিম মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন? তিনি তো প্রধানমন্ত্রী এটা তো তার কাজ নয়। মন্ত্রীদের স্ব স্ব দপ্তর আছে। স্ব স্ব মন্ত্রণালয় আছে। কর্তৃপক্ষ আছে। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে কখনো এসব করতে শুনেছেন? না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার প্রদান গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্যও কার্যকর। এটাই শেখ হাসিনার দর্শনের মূল কথা। এই দর্শন নিয়ে, আমরা গবেষণা করেছি, দর্শনের বিষয়বস্তু নিয়ে বিশ্বের ১৭টি দেশে আমরা সভা, সমাবেশ, সেমিনার করেছি। এবিষয়ে বিভিন্ন দেশের চিন্তাবিদ, দার্শনিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ তাদের মতামত দিয়েছেন, মূল্যায়ন করেছেন। পরবর্তীকালে এই মডেল জাতিসংঘে উপস্থাপিত ও গৃহীত হয়েছে। এখন আমরা এই দর্শনের মূল কথাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার করব।”

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, “এ দর্শনকে যুবলীগের রাজনীতির ভিত্তিমূল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। শেখ হাসিনা রাজনীতির বিভিন্ন সময় যে বক্তব্য রেখেছেন তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার রাজনৈতিক দর্শনের বীজ। এ রাজনৈতিক দর্শনকে আমরা পাদপ্রদীপে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।”

বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১৭, ২০১২
টিসি/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

জাতীয়

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান